আওয়ামী লীগ সরকারের সময়কার আলোচিত গুমের ঘটনায় অভিযুক্ত সাবেক সেনাকর্মকর্তা জিয়াউল আহসানের মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। প্রায় একশ জনের গুম সংক্রান্ত এই মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের তথ্য-প্রমাণ উপস্থাপনের পর এখন কেবল উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক পেশ করা বাকি রয়েছে। এরপরই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল বহুল আলোচিত এই মামলার চূড়ান্ত রায় দেবেন। শুনানির পর এক প্রেস ব্রিফিংয়ে প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামীম দাবি করেছেন, আসামির বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ আদালতে জোরালো প্রমাণাদিসহ তুলে ধরা সম্ভব হয়েছে।
যাতায়াত ও নিরাপত্তা নিয়ে আসামিপক্ষের শঙ্কা
সম্প্রতি আদালতে হাজির করার সময় নিজের জীবন নিয়ে গভীর আশঙ্কার কথা জানান জিয়াউল আহসান। তিনি ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ করেন, কারাগার থেকে আদালতে আনা-নেওয়ার জন্য পুরো একটি প্রিজন ভ্যানে কেবল তাকে একাই বহন করা হচ্ছে। যাতায়াতের পথে যেকোনো মুহূর্তে পরিকল্পিত দুর্ঘটনা ঘটিয়ে তার ওপর দায় চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি। আসামিপক্ষের এই উদ্বেগের প্রেক্ষিতে প্রসিকিউশন পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নিরাপত্তা নিয়ে যদি সত্যিই কোনো প্রশ্ন থাকে তবে প্রয়োজনে ভার্চ্যুয়াল প্ল্যাটফর্মে আদালতের শুনানি কার্যক্রম চালানো যেতে পারে।
পরিবার ও আইনজীবীদের নাশকতার আশঙ্কা
জিয়াউল আহসানের বোন নাজনীন নাহার এবং তার ডিফেন্স টিম এই বিশেষ পরিবহন ব্যবস্থাকে একটি গভীর চক্রান্তের অংশ হিসেবে দেখছেন। তাদের দাবি, বিশাল একটি গাড়িতে তাকে একা নিয়ে যাওয়া উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং এতে করে তার জীবনের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার পাশাপাশি বড় ধরনের নাশকতার ঝুঁকি তৈরি করা হচ্ছে। এর আগে সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা সূত্রের তথ্যের ভিত্তিতে নিরাপত্তা জোরদার করতে জিয়াউল আহসানকে হেলমেট, বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট ও হাতকড়া পরিয়ে অত্যন্ত সতর্কতার সাথে আদালতে হাজির করা হতো। হঠাৎ করে এই নিয়মের পরিবর্তন নতুন বিতর্কের সৃষ্টি করেছে।
অন্যান্য মামলার অগ্রগতি
অন্যদিকে, ট্রাইব্যুনালে চিকিৎসাসংক্রান্ত আরেকটি আবেদন জমা পড়েছে। সাবেক সেনাকর্মকর্তা মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর আইনজীবীরা তার উন্নত চিকিৎসার সুবিধার্থে সিএমএইচে স্থানান্তরের আবেদন করেছেন। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এই বিশেষ আবেদনের শুনানির জন্য আগামী ১৩ই অক্টোবর দিন নির্ধারণ করেছেন। সামগ্রিক বিচার ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত আইনি প্রক্রিয়াগুলো এখন পরবর্তী শুনানির দিকে এগোচ্ছে।
















