Saturday , 10 October 2026 | [bangla_date]
  1. অন্যান্য
  2. আন্তর্জাতিক
  3. ই-পেপার
  4. খেলা
  5. জনপ্রিয়
  6. জাতীয়
  7. দুর্যোগ
  8. দেশের খবর
  9. বাণিজ্য
  10. বিনোদন
  11. রাজনীতি

সুন্দরবনে ৩৯ শতাংশ সুন্দরী গাছ আগামরা রোগে আক্রান্ত

প্রতিবেদক

October 10, 2026 7:30 am

বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনের সামগ্রিক প্রতিবেশব্যবস্থা নিয়ে ২০২৪-২৫ সালে পরিচালিত এক গবেষণায় উদ্বেগজনক তথ্য উঠে এসেছে। গবেষণায় দেখা গেছে, সুন্দরবনের প্রতি ১০টি সুন্দরী গাছের মধ্যে ৪টি অর্থাৎ ৩৯ শতাংশ গাছই আগামরা বা টপ-ডাইং রোগে আক্রান্ত। বর্তমানে বনের প্রায় ৩৩ কোটি সুন্দরী গাছের মধ্যে ১২ কোটি ৯৫ লাখ গাছই এই রোগে ভুগছে। এর মধ্যে ২ কোটি ২ লাখ ৪০ হাজার গাছ মারাত্মকভাবে আক্রান্ত। সুন্দরবনে সুন্দরীগাছের সংখ্যা এখন প্রায় ৩৩ কোটি। সুন্দরবনে নদীর ভাঙনে বিলীন হচ্ছে কেওড়া, গেওয়া, সুন্দরী গাছ।

সিইজিআইএস (সেন্টার ফর এনভায়রনমেন্টাল অ্যান্ড জিওগ্রাফিক ইনফরমেশন সার্ভিসেস) ও আরণ্যক ফাউন্ডেশন যৌথভাবে ‘ইকোলজিক্যাল মনিটরিং অব সুন্দরবন’ শীর্ষক এই গবেষণা পরিচালনা করেছে। বনের বন্য প্রাণী, মাটি, পানি, বায়ু ও বৃক্ষসম্পদ নিয়ে করা এই গবেষণার ফলাফল গত ১৪ সেপ্টেম্বর রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বন ভবনের এক কর্মশালায় উপস্থাপন করা হয়। আক্রান্তের মাত্রা বিবেচনায় দেখা যায়, ৮ কোটি ৩০ লাখ ৩০ হাজার গাছ ২৫ শতাংশের কম, ২ কোটি ৫০ লাখ ৮০ হাজার গাছ ২৫ থেকে ৫০ শতাংশ এবং ২ কোটি ২ লাখ ৪০ হাজার গাছ ৫০ শতাংশের বেশি আক্রান্ত। সদিচ্ছায় ফিরতে পারে চকরিয়া সুন্দরবন।

গবেষণার নেতৃত্বদানকারী সিলেট বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফরেস্ট্রি অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্সের অধ্যাপক স্বপন কুমার সরকার জানান, ১৯৮৬ সাল থেকে সুন্দরবনের ১২০টি স্থায়ী জরিপ প্লটে প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে এই ফলাফল নিশ্চিত হওয়া গেছে। তিনি বলেন, ১৯৮৬ সালে যেখানে গুরুতর অসুস্থ গাছের সংখ্যা ছিল ১ কোটি ১৯ লাখ ২০ হাজার, তা বর্তমানে ২ কোটি ২ লাখ ৪০ হাজারে দাঁড়িয়েছে। উচ্চ ও মাঝারি লবণাক্ততা সম্পন্ন অঞ্চলে সুন্দরী গাছের আক্রান্ত হওয়ার হার সবচেয়ে বেশি। তিনি বলেন, ১৯৮৬ সালের তুলনায় টপ-ডায়িং রোগ কিছুটা কমলেও এ রোগে গুরুতর অসুস্থ হওয়া গাছের সংখ্যা বেড়েছে।

বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, সুন্দরী গাছের রোগাক্রান্ত হওয়ার পেছনে লবণাক্ততার বৃদ্ধি, মিঠাপানির প্রবাহের ঘাটতি, জোয়ার-ভাটায় পরিবর্তন এবং জলবায়ুর বিরূপ প্রভাব দায়ী। এই রোগের কারণে গাছের পাতা আক্রান্ত হওয়ার পর ধীরে ধীরে ডালপালা শুকিয়ে যায় এবং শেষ পর্যন্ত মূলকাণ্ড ধ্বংস হয়ে যায়। গবেষণায় দেখা গেছে, গত তিন দশকে সুন্দরবনের ভূ-উপরিস্থ বায়োমাস বা জৈবভর ১৫ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। এছাড়া কার্বন শোষণের সামগ্রিক সক্ষমতাও একই হারে কমেছে।

বনের প্রাকৃতিক পুনর্জন্মের হার কমে যাওয়া নিয়েও গবেষকরা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। ১৯৮৬ সালে সুন্দরবনের প্রতি হেক্টরে চারা জন্মানোর হার ছিল ২ হাজার ৬৮৯টি, যা ২০২২ সালে ৭৭৬টিতে নেমে এসেছে। অর্থাৎ ৩৬ বছরে চারার ঘনত্ব কমেছে প্রায় ৭১ শতাংশ। বনের মধ্য ও পশ্চিমাঞ্চল অধিক লবণাক্ততার ঝুঁকিতে থাকায় সেখানকার পরিস্থিতি আরও নাজুক হয়ে পড়েছে।

এ বিষয়ে বন অধিদপ্তরের প্রধান বন সংরক্ষক মো. আমীর হোসাইন চৌধুরী বলেন, স্বাধীনতার আগে-পরে মিলিয়ে এটিই সুন্দরবনের প্রথম ভিত্তিমূলক সমীক্ষা। তিনি জানান, আশির দশকের শুরুতে আক্রান্ত গাছ কেটে ফেলার যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, তা আশানুরূপ ফল না দেওয়ায় পরে বন্ধ করা হয়। বর্তমানে বনের ৫৩টি কম্পার্টমেন্টের মধ্যে খুলনা রেঞ্জের পাটকোস্টাম, কাগা দোবেকি ও গেওয়াখালী এলাকায় আক্রান্তের হার সবচেয়ে বেশি। এরপরেই রয়েছে সাতক্ষীরা রেঞ্জের দোবেকি এবং চাঁদপাই ও শরণখোলা রেঞ্জের বিভিন্ন এলাকা।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব ফরেস্ট্রি অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্সের অধ্যাপক খালেদ মিসবাহুজ্জামান বলেন, সুন্দরী গাছ বনের প্রধান প্রজাতি বা ‘ক্লাইমেক্স স্পিসিজ’ হিসেবে পরিচিত। কিন্তু বর্তমানে কোথাও কোথাও সুন্দরী গাছের জায়গায় সিংড়া, আমুর ও গরান গাছের বিস্তার বাড়তে দেখা যাচ্ছে। বন রক্ষায় এসব পরিবর্তনের প্রভাব বোঝা এবং ধারাবাহিক গবেষণার কোনো বিকল্প নেই বলে তিনি মন্তব্য করেন।

গবেষকদের আশঙ্কা, সুন্দরী গাছ কমে যাওয়ার ফলে বনের আচ্ছাদন, কার্বন সঞ্চয় এবং বন্য প্রাণীর আবাসস্থল ও বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য মারাত্মকভাবে বদলে যেতে পারে। দীর্ঘমেয়াদী এই সমস্যা মোকাবিলায় একাডেমিক ও রাষ্ট্রীয়ভাবে নিয়মিত নজরদারি এবং কার্যকর বৈজ্ঞানিক পদক্ষেপ গ্রহণের তাগিদ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

সর্বশেষ - Uncategorized

আপনার জন্য নির্বাচিত