Friday , 23 October 2026 | [bangla_date]
  1. অন্যান্য
  2. আন্তর্জাতিক
  3. ই-পেপার
  4. খেলা
  5. জনপ্রিয়
  6. জাতীয়
  7. দুর্যোগ
  8. দেশের খবর
  9. বাণিজ্য
  10. বিনোদন
  11. রাজনীতি

সাজেক থেকে ফেরার পথে পর্যটকদের ওপর হামলা ও গোলাগুলি

প্রতিবেদক

October 23, 2026 9:43 am

সাজেক থেকে ফেরার পথে চরম আতঙ্ক ও মৃত্যুর মুখোমুখি হওয়ার অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন সেখানে আটকে পড়া পর্যটকরা। বৃহস্পতিবার সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশনের ডাকা অনির্দিষ্টকালের অবরোধের প্রথম দিনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাহারায় ২ হাজার ৯৩৩ জন পর্যটককে খাগড়াছড়ি শহরে ফিরিয়ে আনার সময় এ অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। ‘সারা রাস্তা আতঙ্কের মধ্যে ছিলাম, মনে হচ্ছে মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে এসেছি। তাঁর সঙ্গেও কথা হয় খাগড়াছড়ি শহরের একটি হোটেলে।

নারায়ণগঞ্জ থেকে আসা পর্যটক মোহাম্মদ নাঈম জানান, পরিবারের ১৯ জন সদস্যকে নিয়ে প্রথমবারের মতো তিনি পার্বত্য চট্টগ্রামে ঘুরতে এসেছিলেন। পুরো সময়টা কীভাবে কেটেছে, তা ভাবলে এখনো ভয় লাগে।’—কথাগুলো বলছিলেন নারায়ণগঞ্জ থেকে রাঙামাটির সাজেক ভ্রমণে আসা পর্যটক মোহাম্মদ নাঈম। জানান, নিজের দুই শিশুসন্তান, বৃদ্ধ মা-বাবা, শ্বশুর-শাশুড়িসহ ১৯ জন একসঙ্গে প্রথমবারের মতো পার্বত্য চট্টগ্রামে বেড়াতে এসেছেন।

সাজেকে অবস্থানকালেই অবরোধের খবর পেয়ে তাঁরা দুশ্চিন্তায় পড়েন। পরে নিরাপত্তা বাহিনীর সহায়তায় ফেরার পথে উজো বাজার এলাকায় অবরোধকারীদের বাধার সম্মুখীন হন। তিনি বলেন, গোলাগুলির সময় পরিবারের সদস্যদের নিয়ে গাড়িতে বসে যে ভয়ের মধ্যে সময় পার করেছেন, তা বর্ণনাতীত। এ পরিস্থিতির কথা আগে জানলে তারা কখনোই এখানে আসতেন না। এমন পরিস্থিতিতে পড়তে হবে জানলে জীবনেও এখানে আসতাম না।’।

একই অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে পর্যটক মাইন উদ্দিন জানান, গাড়ি আটকে যাওয়ার পর হঠাৎ গুলির শব্দ শোনা যায়। আতঙ্কিত পর্যটকরা এদিক-সেদিক ছুটোছুটি করছিলেন, আর গাড়িতে থাকা নারী ও শিশুরা কান্নায় ভেঙে পড়েছিল। দীঘিনালায় পৌঁছানো পর্যন্ত তারা দোয়া-দরুদ পড়েছেন এবং দলের অন্য গাড়ির জন্য অপেক্ষা করতে গিয়ে চরম উৎকণ্ঠার মধ্যে সময় কাটিয়েছে। দেখি, মানুষ দৌড়ে এদিক-সেদিক পালিয়ে যাচ্ছে।

উত্তরা থেকে যাওয়া আরেক পর্যটক রাশেদ আহম্মেদ জানান, শুক্রবার ফেরার কথা থাকলেও কংলাক পাহাড় থেকে ফেরার সময় অবরোধের কথা শোনেন। বুধবার সন্ধ্যায় কটেজ কর্তৃপক্ষ সকাল ৮টার মধ্যে রুম ছাড়ার নির্দেশ দেয়। বৃহস্পতিবার সকালে রওয়ানা হওয়ার পর উজো বাজারে তাদের গাড়ি আটকে দেওয়া হয়। প্রায় আধা ঘণ্টা আটকে থাকার সময় তাদের গাড়ি লক্ষ্য করে ঢিল ছোড়া হয় এবং গুলির শব্দ শুনতে পান তিনি। শিশুরা ভয়ে কান্নাকাটি শুরু করলে পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দাবি, ফেরার পথে গাড়ি চলাচলে বাধা দেওয়া অবরোধকারীরাই এই গোলাগুলির জন্য দায়ী এবং ইউপিডিএফের সশস্ত্র সদস্যরা গুলি ছুড়েছে। তবে ইউপিডিএফ এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে। অবরোধকারীদের তিন দফা দাবির মধ্যে অন্যতম হলো পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (জেএসএস—সন্তু লারমা) সশস্ত্র সদস্যদের এলাকা থেকে অপসারণ। যদিও জেএসএস তাদের কোনো সশস্ত্র গোষ্ঠী থাকার কথা বরাবরই নাকচ করে এসেছে।

সাজেক পরিস্থিতির অবনতি ঘটায় বুধবার সন্ধ্যায় রাঙামাটি জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী এক বিজ্ঞপ্তিতে পর্যটন কেন্দ্রটি পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বন্ধ ঘোষণা করেন। বিজ্ঞপ্তিতে বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টার মধ্যে পর্যটকদের নিরাপদে সাজেক ছাড়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। সেই অনুযায়ী পর্যটকরা ফিরতে শুরু করলেও পথে হামলার শিকার হন। এতে ওই পর্যটকদের মধ্যে স্বস্তি ফিরলেও এখনো সেই ঘটনার কথা মনে পড়লে শিউরে ওঠেন বলে জানান তাঁরা।

এদিকে, বর্তমান উত্তপ্ত পরিস্থিতির রেশ না কাটতেই নতুন করে আগামী শনিবার রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ি জেলায় আধা বেলা অবরোধ পালনের ডাক দিয়েছে ‘ছাত্র-জনতার সংগ্রাম পরিষদ’ নামের একটি সংগঠন। বর্তমানে সাজেক এলাকা থমথমে হয়ে আছে, বন্ধ রয়েছে দোকানপাট ও যানবাহন চলাচল।

সর্বশেষ - আন্তর্জাতিক

আপনার জন্য নির্বাচিত