Friday , 16 October 2026 | [bangla_date]
  1. অন্যান্য
  2. আন্তর্জাতিক
  3. ই-পেপার
  4. খেলা
  5. জনপ্রিয়
  6. জাতীয়
  7. দুর্যোগ
  8. দেশের খবর
  9. বাণিজ্য
  10. বিনোদন
  11. রাজনীতি

পোশাকশ্রমিকদের মজুরি বোর্ড গঠনে প্রতিনিধি চাইল শ্রম মন্ত্রণালয়

প্রতিবেদক

October 16, 2026 4:11 am

তৈরি পোশাক খাতের শ্রমিকদের জন্য নতুন মজুরি বোর্ড গঠনের কার্যক্রম শুরু করেছে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। এই লক্ষ্যে মালিকপক্ষের প্রতিনিধি মনোনয়ন দেওয়ার জন্য বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনকে এবং শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধি চেয়ে জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতিকে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রণালয় জানায়, বাংলাদেশ শ্রম আইন অনুযায়ী গঠিতব্য এই বোর্ডে একজন নিরপেক্ষ সদস্য, একজন মালিক প্রতিনিধি এবং একজন শ্রমিক প্রতিনিধির প্রয়োজন। প্রত্যেক পদের বিপরীতে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে তিনজন করে সদস্যের নাম প্রস্তাব করতে বলা হয়েছে। শ্রম অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আবদুছ সামাদ আল আজাদ জানিয়েছেন, দুর্গাপূজার ছুটির আগেই এই নামগুলো পাওয়া যাবে বলে তারা আশা করছেন। আর শ্রমিকদের নামের প্রস্তাবটি সমন্বয় করবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল। নাম দেওয়ার জন্য চিঠিতে আমরা কোনো সময়সীমা উল্লেখ না করলেও দ্রুত দেওয়ার অনুরোধ করেছি।

বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে চলতি মাসের শুরুর দিকে সরকার পোশাকশ্রমিকদের মজুরি পুনর্নির্ধারণের জন্য নিম্নতম মজুরি বোর্ড গঠনের নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। তৎকালীন সময়ের ইঙ্গিত অনুযায়ী, অক্টোবর মাসেই এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে। এদিকে, মজুরি বৃদ্ধি এবং বিভিন্ন দাবি আদায়ের লক্ষ্যে উত্তরার কয়েকটি পোশাক কারখানার শ্রমিকরা টানা তিন দিন ধরে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে আটটার দিকে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের আজমপুর এলাকা অবরোধ করায় যান চলাচলে মারাত্মক বিঘ্ন ঘটে, যার ফলে সাধারণ যাত্রীরা চরম ভোগান্তির শিকার হন। তখন শ্রম মন্ত্রণালয়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা ইঙ্গিত দেন, অক্টোবরের মধ্যেই ন্যূনতম মজুরি বোর্ড গঠিত হতে পারে। এতে যান চলাচল মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হয়।

মজুরি বোর্ডের বিষয়ে বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের সভাপতি ফজলে শামীম এহসান বলেন, মন্ত্রণালয় থেকে চিঠি পাওয়ার বিষয়টি তারা নিশ্চিত করেছেন। বিজিএমইএ ও বিকেএমইএর সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে আগামী সপ্তাহের মধ্যে প্রতিনিধি তালিকা মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়া হবে। তিনি আরও দাবি করেন, সরকার ইতিবাচক থাকলেও একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠী আন্দোলনের নামে পরিস্থিতি ঘোলা করার চেষ্টা করছে, যা প্রকৃত শ্রমিকদের সুনাম ক্ষুণ্ণ করছে। সরকারের বর্তমান শ্রম আইন অনুযায়ী, এখন থেকে প্রতি তিন বছর পরপর মজুরি পুনর্নির্ধারণ করার নিয়ম রয়েছে। সর্বশেষ ২০২৩ সালের নভেম্বরে মজুরি ঘোষণা করা হয়েছিল, যা ওই বছরের ডিসেম্বর থেকে কার্যকর হয়। তৎকালীন সময়ে ন্যূনতম মজুরি ৮ হাজার টাকা থেকে বেড়ে ১২ হাজার ৫০০ টাকায় পৌঁছায়, যার হার ছিল ৫৬ দশমিক ২৫ শতাংশ এবং বর্তমানে গ্রেড সংখ্যা ৭ থেকে কমিয়ে ৫টিতে আনা হয়েছে। তারপরও একটি গোষ্ঠী আন্দোলন করে ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের চেষ্টা করছে। ওই মজুরিকাঠামোতে সাতটির বদলে পাঁচটি গ্রেড করা হয়।

জীবনযাত্রার বর্তমান ব্যয়ের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ মজুরি কাঠামো দাবি করছেন বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন। গত বুধবার গার্মেন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের এক সেমিনারে বক্তারা জানান, ২০১৮ সালে ৮ হাজার টাকায় যে পরিমাণ পণ্য কেনা যেত, ২০২৬ সালে সেই একই পণ্যের জন্য ১৪ হাজার ৫০০ থেকে ১৫ হাজার টাকা প্রয়োজন হচ্ছে। অথচ সেই তুলনায় শ্রমিকদের আয় বাড়েনি। ফলে খাদ্য, চিকিৎসা, বাসাভাড়া ও শিক্ষা ব্যয় মেটাতে গিয়ে শ্রমিকরা হিমশিম খাচ্ছেন এবং বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত সময় কাজ করছেন। এরপরও তাঁদের পক্ষে পরিবারের ন্যূনতম জীবনযাত্রার ব্যয় মেটানো কঠিন হয়ে পড়েছে।

গার্মেন্ট শ্রমিক সংহতির সভাপ্রধান তাসলিমা আখতার জানান, অতীতে মালিক, শ্রমিক ও নিরপেক্ষ প্রতিনিধিরা প্রায়ই একমুখী অবস্থানে কাজ করেছেন, যা শ্রমিকদের স্বার্থ ক্ষুণ্ণ করেছে। তিনি দাবি করেন, এবার মজুরি বোর্ডে প্রকৃত শ্রমিক প্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করতে হবে। এছাড়া, নিরপেক্ষ প্রতিনিধি যেন মূল্যস্ফীতি, জীবনধারণের ব্যয় এবং উৎপাদনশীলতার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো সঠিকভাবে বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেন, সে আহ্বানও জানানো হয়েছে।

সর্বশেষ - আন্তর্জাতিক

সর্বোচ্চ পঠিত - আন্তর্জাতিক