রাঙ্গামাটির কাপ্তাই লেকে পানির উচ্চতা ক্রমাগত বাড়তে থাকায় কর্তৃপক্ষ পুনরায় বাঁধের স্পিলওয়ের ১৬টি গেট খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। শুক্রবার সকাল ৮টার দিকে গেটগুলো ছয় ইঞ্চি করে খুলে দেওয়া হয়। এর ফলে বর্তমানে স্পিলওয়ে দিয়ে প্রতি সেকেন্ডে প্রায় নয় হাজার ঘনফুট বা কিউসেক পানি কর্ণফুলী নদীতে প্রবাহিত হচ্ছে।
কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎকেন্দ্রের নিয়ন্ত্রণকক্ষের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে কাপ্তাই হ্রদের পানির উচ্চতা ১০৫ দশমিক ৪৯ ফুট এমএসএল (মিন সি লেভেল) রেকর্ড করা হয়েছে। বিদ্যুৎকেন্দ্রের পাঁচটি ইউনিটের মাধ্যমে বর্তমানে ২২২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন কার্যক্রম চলমান রয়েছে। কাপ্তাই বাঁধে সর্বোচ্চ ১০৯ ফুট এমএসএল পর্যন্ত পানি ধারণের সক্ষমতা থাকলেও ১০৮ ফুট উচ্চতাকে বিপৎসীমা হিসেবে গণ্য করা হয়।
বিদ্যুৎকেন্দ্রের ব্যবস্থাপক মাহমুদ হাসান জানিয়েছেন, হ্রদের পানির স্তর বৃদ্ধি পাওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গেটগুলো ছয় ইঞ্চি খোলা হয়েছে। পানির প্রবাহের ওপর ভিত্তি করে ভবিষ্যতে প্রয়োজনে গেট খোলার পরিমাণ ধাপে ধাপে বাড়ানো হতে পারে।
উল্লেখ্য, এর আগে গত ২৯ আগস্ট কাপ্তাই বাঁধের ১৬টি গেট ছয় ইঞ্চি করে খোলা হয়েছিল। পরবর্তীতে পানির চাপ বাড়লে গেট খোলার উচ্চতা বাড়িয়ে তিন ফুট পর্যন্ত করা হয়। তবে হ্রদের পানির উচ্চতা স্বাভাবিক পর্যায়ে নেমে আসায় গত ৬ সেপ্টেম্বর সবকটি গেট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল।
কাপ্তাই বাঁধের পানি ব্যবস্থাপনার এই প্রক্রিয়াটি মূলত হ্রদের পানির উচ্চতা এবং বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন সক্ষমতার ওপর নির্ভর করে পরিচালিত হয়। এর আগেও বিভিন্ন সময়ে পানির উচ্চতা বেড়ে যাওয়ায় একাধিকবার গেট খোলার ঘটনা ঘটেছে।
বর্তমানে হ্রদের পানির উচ্চতা এবং সার্বিক পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছে কর্তৃপক্ষ। পানির প্রবাহ বৃদ্ধি পেলে বা হ্রদের ধারণক্ষমতার কাছাকাছি পৌঁছালে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
কাপ্তাই লেকের পানি বৃদ্ধি ও বাঁধের গেট খোলার এই বিষয়টি স্থানীয়ভাবে বেশ গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এর ওপর ভিত্তি করেই কর্ণফুলী নদীতে পানির প্রবাহ ও বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রিত হয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সিএনএনের বিশ্লেষণ / ৯/১১ পরবর্তী যুদ্ধগুলো থেকে যে শিক্ষা নেননি ট্রাম্প।













