যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ফ্লোরিডায় আয়োজিত এক নির্বাচনী সমাবেশে আবারও বড় ধরনের দাবি করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সমাবেশে তিনি দাবি করেন, নিজের একক কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় তিনি ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যকার সামরিক সংঘাত নিরসনে সফল হয়েছেন। ট্রাম্পের ভাষ্যমতে, দুই পারমাণবিক শক্তিধর প্রতিবেশীর মধ্যকার উত্তেজনা থামাতে তিনি সরাসরি কঠোর বার্তা দিয়েছিলেন।
যুদ্ধ থামানোর নেপথ্যে ট্রাম্পের হুমকি
গত শুক্রবারের সেই জনসভায় ট্রাম্প বর্ণনা করেন যে, গত বছর যখন দুই দেশের সীমান্ত উত্তেজনা চরম আকার ধারণ করেছিল, তখন তিনি উভয় পক্ষকে বাণিজ্য বন্ধের হুমকি দিয়েছিলেন। ট্রাম্পের ভাষায়, তিনি দুই দেশকেই সাফ জানিয়ে দিয়েছিলেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে তাদের পণ্যের ওপর ২৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করা হবে, যা তাদের অর্থনীতির জন্য ধ্বংসাত্মক হবে। এই চাপের মুখে ভারত ও পাকিস্তান গোলাগুলি বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছিল বলে তিনি দাবি করেন। একইসঙ্গে তিনি ওই সময় এগারোটি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার ঘটনার উল্লেখ করেন, যদিও নির্দিষ্ট কোনো পক্ষের ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত তিনি প্রদান করেননি। ২৩ অক্টোবর (শুক্রবার) ফ্লোরিডায় এক নির্বাচনী সমাবেশে ট্রাম্প বলেন, গত বছর ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার সময় তিনি দুই দেশকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য বন্ধ করে দেওয়ার এবং ২৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছিল। আমি তোমাদের দুদেশের ওপর ২৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করব, যাতে তোমরা কোনো ব্যবসাই করতে না পারো। আমি বলেছিলাম, বন্ধুরা, তোমরা যদি এমনটা করো, তাহলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য করতে পারবে না।
নোবেল প্রাপ্তি নিয়ে প্রশ্ন
নিজের এই কূটনৈতিক সাফল্যের ফিরিস্তি দিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প বেশ আক্ষেপের সুরেই নোবেল পুরস্কার পাওয়ার বিষয়টি উত্থাপন করেন। তিনি উপস্থিত জনতার উদ্দেশ্যে বলেন, ‘আমি আটটি যুদ্ধের নিষ্পত্তি করেছি, অথচ তারপরও আমি নোবেল পুরস্কার পেলাম না।’ ট্রাম্প আরও জানান যে, এই সংঘাতগুলো নিরসনে তিনি একবারের জন্যও জাতিসংঘে ফোন করার প্রয়োজনীয়তা বোধ করেননি। ফোর্বসের বরাত দিয়ে প্রাপ্ত এই তথ্য অনুযায়ী, মার্কিন প্রেসিডেন্ট নিজেকে বিশ্বের সংঘাত নিরসনে অন্যতম প্রধান মধ্যস্থতাকারী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তার দাবি, বিশ্বজুড়ে আটটি বড় সংঘাতের অবসান ঘটিয়েছেন তিনি, কিন্তু আন্তর্জাতিক সংস্থা থেকে প্রাপ্য স্বীকৃতি তার অধরাই রয়ে গেছে।
















