Tuesday , 20 October 2026 | [bangla_date]
  1. অন্যান্য
  2. আন্তর্জাতিক
  3. ই-পেপার
  4. খেলা
  5. জনপ্রিয়
  6. জাতীয়
  7. দুর্যোগ
  8. দেশের খবর
  9. বাণিজ্য
  10. বিনোদন
  11. রাজনীতি

জ্বালানি সংকটের সবচেয়ে খারাপ সময় আসেনি, সতর্কবার্তা কাতারের

প্রতিবেদক

October 20, 2026 6:21 am

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের চলমান সামরিক উত্তেজনার জেরে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তার সবচেয়ে ভয়াবহ প্রভাব এখনো দেখা যায়নি বলে সতর্ক করেছেন কাতারের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষাবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী শেখ সৌদ বিন আবদুর রহমান আল থানি।

সোমবার দোহায় অনুষ্ঠিত গ্লোবাল সিকিউরিটি ফোরামে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এ আশঙ্কার কথা তুলে ধরেন। সোমবার দোহায় গ্লোবাল সিকিউরিটি ফোরামে বক্তব্য দেওয়ার সময় কাতারের প্রতিরক্ষাবিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে থাকা আল থানি বলেন, জ্বালানির ক্ষেত্রে আমরা এখনও সংকটের চূড়ায় পৌঁছাইনি।

তিনি স্পষ্ট করেন যে, জ্বালানি খাতের সংকটের চূড়ান্ত পর্যায়ে বিশ্ব এখনো পৌঁছায়নি এবং সামনের দিনগুলোতে সরবরাহ শৃঙ্খল ও বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি হতে পারে।

উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আল থানি বলেন, এর মধ্যে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং জ্বালানি সরবরাহ নিরবচ্ছিন্ন রাখা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর থেকে হরমুজ প্রণালিতে অস্থিরতা চরমে পৌঁছেছে। তেল ও এলএনজি পরিবহনের এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়া বিশ্ব অর্থনীতির জন্য বড় হুমকি। এছাড়া, গত মার্চে কাতারের রাস লাফান শিল্প কমপ্লেক্সে ইরানের হামলায় অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, যা মেরামতে দীর্ঘ সময় প্রয়োজন বলে ধারণা করা হচ্ছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলা এবং এর জবাবে তেহরানের আঞ্চলিক বিভিন্ন স্থানে পাল্টা হামলার পর থেকে গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালিতে অস্থিরতা অব্যাহত রয়েছে। বিশ্বে তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ এটি। এ পথে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহের পাশাপাশি বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক কর্মকা-েও প্রভাব পড়তে পারে। এসব স্থাপনা মেরামত করতে কয়েক বছর লেগে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র, ইরান ও ইসরাইলসহ সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে সমঝোতা প্রতিষ্ঠায় কাতার, পাকিস্তান ও ওমানের মধ্যস্থতা সফল হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

হামলার বিষয়ে আল থানি বলেন, ওই ঘটনাটি আমাদের জন্য অপ্রত্যাশিত ছিল। তবে এরপর ইরানের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতির অবনতি রোধের চেষ্টা চলছে। তিনি জানান, ইরানের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করেনি কাতার, কারণ দুই দেশের দীর্ঘস্থায়ী অর্থনৈতিক সম্পর্ক ও অভিন্ন সমুদ্র গ্যাসক্ষেত্রের স্বার্থ বিদ্যমান। তিনি আরও বলেন, ইরান আমাদের প্রতিবেশী এবং ইউরোপের ফ্রান্স ও জার্মানির মতো দীর্ঘদিনের বৈরিতা ভুলে বসবাসের উপায় আমাদের খুঁজে বের করতে হবে। তার ভাষায়, আমরা কখনোই যোগাযোগ বন্ধ করি না।

নিরাপত্তা প্রস্তুতির বিষয়ে কাতারের উপ-প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যকার এই দ্বন্দ্বে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করার অর্থ এই নয় যে কাতার নিজেদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ঢিলেঢালা রাখবে। তিনি জানান, কাতার আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, ড্রোনবিরোধী প্রযুক্তি এবং সাইবার নিরাপত্তার ওপর সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। গত মার্চে ইরানের হামলার সময় কাতার দুটি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করেছিল বলেও তিনি দাবি করেন।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দীর্ঘদিনের প্রতিরক্ষা সহযোগিতার প্রশংসা করে আল থানি জানান, বিগত তিন-চার দশকে যৌথ সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির ফলে ৯০ শতাংশের বেশি আকাশপথের হামলা সফলভাবে প্রতিহত করা সম্ভব হয়েছে। বর্তমানে কাতারের আল উদেইদ বিমান ঘাঁটির সক্ষমতা বৃদ্ধির কাজ চলছে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন সহযোগী দেশের সামরিক কর্মীরা অবস্থান করেন।

হরমুজ প্রণালি নিয়ে তিনি বলেন, এই নৌপথে কোনো ধরনের টোল বা ট্রানজিট ফি আরোপের ঘোর বিরোধী কাতার। তার মতে, এমন পদক্ষেপ সাধারণ ভোক্তাদের ওপর বাড়তি আর্থিক বোঝা চাপিয়ে দেবে। ভবিষ্যতে আঞ্চলিক সংঘাত এড়াতে পাকিস্তান, ওমানসহ প্রতিবেশী দেশগুলোকে নিয়ে একটি বৃহত্তর নিরাপত্তা কাঠামো গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।

নতুন একটি আঞ্চলিক প্রতিরক্ষা অংশীদারিত্বের ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, শিগগিরই বিস্তারিত জানানো হবে। যদিও এ পরিকল্পনায় কোন কোন দেশ যুক্ত থাকবে তা তিনি খোলাসা করেননি। পরিশেষে, ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদী শান্তির জন্য বিস্তৃত আঞ্চলিক সংলাপের ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, আস্থা তৈরির মাধ্যমেই কেবল টেকসই সমাধান সম্ভব।

সর্বশেষ - দেশের খবর