যুক্তরাজ্যের হাইকোর্ট লন্ডনে অবস্থিত ১৫ মিলিয়ন পাউন্ড মূল্যের একটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট জব্দ করার নির্দেশ দিয়েছেন।
দুর্নীতিবিরোধী তদন্তকারী সংস্থা ন্যাশনাল ক্রাইম এজেন্সির (এনসিএ) আবেদনের প্রেক্ষিতে এই আদেশ দেওয়া হয়। ফ্ল্যাটটি ক্রয়ে ব্যবহৃত অর্থের উৎস নিয়ে সন্দেহ থাকায় এবং আত্মসাৎ, প্রতারণা ও অর্থ পাচারের সম্ভাবনার অভিযোগ তোলায় আদালত এই পদক্ষেপ নিয়েছেন। ‘বট’ দিয়ে টিকিট কেটে চড়া দামে বিক্রির অভিযোগ, রেলওয়ের নজরদারিতে ‘সহজ’। ব্যালন ডি’অর অনুষ্ঠানে উপস্থিত হতে পারবেন তো পিএসজির ফুটবলাররা।
রিজেন্টস পার্কের নিকটবর্তী এই ফ্ল্যাটটির মালিকানা আড়াল করার জন্য জটিল ও অস্বচ্ছ আইনি কাঠামো ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আদালতে দাখিল করা এনসিএর এক তদন্ত কর্মকর্তার সাক্ষ্যে ফ্ল্যাটটির প্রকৃত মালিকানা গোপন করতে ‘ইচ্ছাকৃতভাবে অস্বচ্ছ’ একটি ব্যবস্থা গড়ে তোলার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
এনসিএর তথ্যমতে, ফ্ল্যাটটি যে কোম্পানির নামে ছিল, তার বাংলাদেশি মালিক আনিসুজ্জামান ‘রনি’ চৌধুরী গত বছরের সেপ্টেম্বরে মাত্র এক পাউন্ডের বিনিময়ে সেটির মালিকানা অন্য পক্ষের কাছে হস্তান্তর করেছিলেন।
পরে কৌশলে এর নিয়ন্ত্রণ পুনরায় তার স্ত্রী ও দুই মেয়ের কাছে ফিরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়।
তদন্ত কর্মকর্তাদের ভাষ্যমতে, ফ্ল্যাটটির মালিকানা সংক্রান্ত নথিপত্রে নামি ব্যক্তিদের জাল স্বাক্ষর ব্যবহারের তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সন, যুক্তরাজ্যের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন এবং সংগীতশিল্পী ক্রিস ব্রাউনের নাম রয়েছে। আদালত মনে করেন, এটি প্রতারণার বিষয়ে অভিযুক্তের বেপরোয়া মনোভাবের বহিঃপ্রকাশ।
আদালতের শুনানিতে জানানো হয়, গত বছর আনিসুজ্জামানের বিরুদ্ধে ‘আনএক্সপ্লেইন্ড ওয়েলথ অর্ডার’ জারি করা হয়েছিল, যেখানে সম্পদের বৈধ উৎস প্রমাণের সুযোগ দেওয়া হয়। কিন্তু তিনি সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে ব্যর্থ হওয়ায় বিচারপতি কারেন স্টেইন ফ্ল্যাটটি জব্দের রায় দেন। তবে বাড়ির দখল পুনরুদ্ধার সংক্রান্ত আইনি কার্যক্রম পরিচালনার জন্য আদেশে কিছু ব্যতিক্রম রাখা হয়েছে।
আনিসুজ্জামানের প্রতিক্রিয়া ও আইনি অবস্থান
- আনিসুজ্জামানের আইনজীবীরা জানিয়েছেন, তারা সম্পদ জব্দের এই আবেদনের বিরোধিতা করছেন না।
- আইনজীবীদের পরামর্শে তিনি আদালতের আদেশের বিরোধিতা না করলেও, তার বিরুদ্ধে আনা সব ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ডের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
- তিনি দাবি করেছেন, ফ্ল্যাটটির তথ্য এনসিএর কাছে স্বচ্ছভাবে প্রকাশ করা হয়েছে এবং তিনি কোনো অবৈধ সম্পদ অর্জনের সঙ্গে জড়িত নন।
- আনিসুজ্জামান জানিয়েছেন, এনসিএ দেওয়ানি আইনে মামলা করলে তিনি তা জোরালোভাবে মোকাবিলা করবেন।
- পরিবারের বিষয়ে তিনি বলেছেন, তার স্ত্রী ও সন্তানদের এই ঘটনায় কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই এবং তাদের জড়িয়ে কোনো মানহানিকর বক্তব্য দিলে তিনি প্রতিবাদ করবেন।
- এনসিএর তদন্ত কর্মকর্তার জুলাই মাসের বিবৃতি অনুযায়ী, আনিসুজ্জামান যুক্তরাজ্যে অবস্থান করছিলেন এবং ফ্ল্যাটটিকে নিজের মূল আবাসস্থল হিসেবে ব্যবহার করতেন।
ভূমি নিবন্ধনের নথি অনুযায়ী, আনিসুজ্জামান ২০২৩ সালে ‘রনি ৪২ লিমিটেড’ নামের কোম্পানির মাধ্যমে ১২ দশমিক ৪ মিলিয়ন পাউন্ডে ফ্ল্যাটটি কিনেছিলেন, যা পরে ‘পিএনএন ইউকে প্রপার্টিজ’ নামে নামকরণ করা হয়। ডিবিএস ব্যাংকের ঋণ পরিশোধ না করায় ব্যাংকটি বর্তমানে ফ্ল্যাটটির দখল নেওয়ার চেষ্টা করছে। এনসিএ আইনজীবীরা আদালতে লিখিত বক্তব্যে বলেন, এই হস্তান্তর মূলত একটি সুবিধার জন্য করা হয়েছিল, যার উদ্দেশ্য ছিল সিঙ্গাপুরের ডিবিএস ব্যাংকের কাছ থেকে ফ্ল্যাটটির বিপরীতে নেওয়া ঋণ পুনঃঅর্থায়ন করা। ব্যক্তিগত জীবনে যেভাবে নীরবে দূরত্ব তৈরি করছে ক্রমাগত স্ক্রলিং। আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতার প্রধান কারণ ইসরায়েল: সৌদি, পাকিস্তানসহ ৪ দেশ।
উল্লেখ্য, ১৯৯২ সাল থেকে ২০২৪ সালের আগস্ট পর্যন্ত সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী ও তার পরিবারের সদস্যরা ২৯৫ মিলিয়ন ডলারের বিশাল সম্পদ গড়ে তুলেছিলেন।
শেখ হাসিনার সরকার পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকার বিদেশে পাচার করা সম্পদের সন্ধানে সক্রিয় হয়েছে। প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার বিদেশে থাকা এমন সম্পদের সন্ধান শুরু করে, যেগুলো স্বৈরাচারী শাসনামলে বাংলাদেশ থেকে পাচার করা অর্থে কেনা হয়েছে বলে সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছিল। সংস্থাটি তখন বিষয়টিকে চলমান দেওয়ানি তদন্তের অংশ বলে উল্লেখ করে।
এর আগে গত জুন মাসে এনসিএ সাবেক ভূমিমন্ত্রীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রায় ১৮৫ মিলিয়ন পাউন্ড মূল্যের সম্পদ জব্দ করেছিল। ২০২৫ সালের জুনে এনসিএ সাবেক ভূমিমন্ত্রীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রায় ১৮৫ মিলিয়ন পাউন্ড মূল্যের সম্পত্তি জব্দ করে।
এছাড়া, সাইফুজ্জামান চৌধুরী যে প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ নিয়েছিলেন, সেই মার্কেট ফিন্যান্সিয়াল সলিউশনসও বর্তমানে প্রতারণার অভিযোগে তদন্তাধীন রয়েছে। মেসির ছেলের গায়ে কোমোর জার্সি দেখে পাজের উচ্ছ্বাস।















