Wednesday , 21 October 2026 | [bangla_date]
  1. অন্যান্য
  2. আন্তর্জাতিক
  3. ই-পেপার
  4. খেলা
  5. জনপ্রিয়
  6. জাতীয়
  7. দুর্যোগ
  8. দেশের খবর
  9. বাণিজ্য
  10. বিনোদন
  11. রাজনীতি

সকল ধর্মের নাগরিক অধিকার নিশ্চিতে জাতীয় কমিটির প্রস্তাব রাষ্ট্রপতির

প্রতিবেদক

October 21, 2026 11:47 am

দেশের সব ধর্মের মানুষের নাগরিক অধিকার, নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার সমানভাবে নিশ্চিত করার লক্ষে একটি জাতীয় কমিটি গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন যে, ‘ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার’। সংবিধান অনুযায়ী হিন্দু, বারাণসী, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ও মুসলমান সহ সকল নাগরিকই সমান অধিকার, মর্যাদা ও ধর্মীয় স্বাধীনতা ভোগ করার অধিকারী এবং এই নীতি বাস্তবায়নে বর্তমান সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ।

আজ বুধবার সকালে বঙ্গভবনে শারদীয় দুর্গাপূজা ২০২৬ ও বিজয়া দশমী উপলক্ষে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে আয়োজিত শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। রাষ্ট্রপতির প্রেস উইংয়ের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতির সহধর্মিনী রাহাত আরা বেগম উপস্থিত ছিলেন। হিন্দু সম্প্রদায়ের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ও সাধারণ নাগরিকদের শুভেচ্ছা জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বঙ্গভবনে আগত অতিথিদের স্বাগত জানান।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে হানাহানি ও সহিংসতার পরিবেশ থাকলেও বাংলাদেশে সব ধর্মের মানুষ শান্তিপূর্ণভাবে নিজ নিজ ধর্মীয় উৎসব উদ্‌যাপন করছে উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি এটিকে দেশের সবচেয়ে বড় অর্জন হিসেবে আখ্যা দেন।

তিনি বলেন, বহুজাতিক এই সম্প্রীতিই আমাদের মূল শক্তি ও অস্তিত্ব, যা যেকোনো মূল্যে রক্ষা করতে হবে। আমাদের অসাম্প্রদায়িক চেতনা হাজার বছরের ঐতিহ্য এবং মহান মুক্তিযুদ্ধসহ সব গণতান্ত্রিক আন্দোলনে সর্বস্তরের মানুষের যৌথ অংশগ্রহণই আমাদের জাতীয় ঐক্যের মূল ভিত্তি।

বক্তব্যে অপপ্রচার ও ধর্মীয় উগ্রবাদের বিষয়ে সতর্ক করে দিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, অশুভ চক্র নানা সময় গুজব ছড়িয়ে দেশের সম্প্রীতি ও জাতীয় অগ্রগতি বিনষ্টের চেষ্টা চালায়। এসব অপশক্তির বিরুদ্ধে তরুন প্রজন্মকে সত্য, ন্যায় ও মানবিকতার পক্ষে শক্ত অবস্থান নিতে হবে। পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সমতা ও সামাজিক ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে একটি মানবিক, নিরাপদ ও কল্যাণমুখী বাংলাদেশ গড়ে তোলার ওপর তিনি জোর দেন। তিনি বলেন, কখনো কখনো গুজব, অপপ্রচার ও ধর্মীয় উগ্রতার মাধ্যমে বিভেদ সৃষ্টির অপচেষ্টা হয়। এসব অপচেষ্টার বিরুদ্ধে আমাদের দৃঢ় ও আপসহীন থাকতে হবে। কোনো অপশক্তিকে বিভেদ সৃষ্টি করে জাতীয় ঐক্য ও অগ্রগতি বিনষ্ট করতে দেওয়া যাবে না। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ।

উৎসবের তাৎপর্য তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি মন্তব্য করেন, বিজয়া দশমীর মূল সুর হলো সত্য ও কল্যাণের জয় এবং অশুভ শক্তির বিনাশ। ধর্ম, বর্ণ বা জাতিগত পরিচয়ের কারণে কোনো নাগরিক যেন বৈষম্য বা নিপীড়নের শিকার না হন, তা নিশ্চিত করা জরুরি। দেশের প্রতিটি নাগরিক যেন নিরাপদে ও নিশ্চিন্তে ধর্ম পালন করতে পারেন, সে জন্য তিনি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও জেলা প্রশাসনকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশনা দিয়েছেন বলে জানান।

অনুষ্ঠানের শুরুতে রাষ্ট্রপতি বঙ্গভবনের ক্রিডেনশিয়াল হলে পৌঁছালে তাকে বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো হয়। শুভেচ্ছা জানানোর মধ্যে ছিল ‘হিন্দুধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট’, ‘বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্ট’, ‘বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ’ এবং মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির নেতৃবৃন্দ। শুভেচ্ছা বিনিময় শেষে রাষ্ট্রপতি মিলনায়তনে আগত দর্শনার্থী ও আমন্ত্রিত অতিথিদের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন, ধর্ম প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ শামীম কায়সার এবং প্রধানমন্ত্রীর হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ও নৃ-গোষ্ঠী বিষয়ক বিশেষ সহকারী (প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদা) বিজন কান্তি সরকার। এছাড়া সরকারের শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তা ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ বঙ্গভবনের এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

সর্বশেষ - দেশের খবর

আপনার জন্য নির্বাচিত