নাটোরের লালপুর উপজেলার বিলমাড়িয়া ইউনিয়নের মোহরকয়া গ্রামে পুলিশের অভিযানে গ্রেপ্তার হয়েছেন ওহিদুল মোল্লা (৩২) নামের এক কুখ্যাত হ্যাকার। সোমবার গভীর রাতে অভিযান চালিয়ে পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে। ওহিদুল স্থানীয়ভাবে ইমো হ্যাকিং চক্রের ‘সম্রাট’ হিসেবে পরিচিত। লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, গ্রেপ্তার এড়াতে হ্যাকার ওহিদুল নানা ধরনের অভিনব কৌশল অবলম্বন করতেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গ্রামের প্রধান সড়ক থেকে নিজ বাড়ি পর্যন্ত অন্তত ২০টি সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করেছিলেন ওহিদুল। এর উদ্দেশ্য ছিল পুলিশ বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কোনো গাড়ি আসার সংকেত পেলেই দ্রুত পালিয়ে যাওয়া। এছাড়া তিনি নিজের বাড়ির একটি বিশেষ অংশকে কবুতরের ঘর হিসেবে সাজিয়েছিলেন। বাইরে থেকে দেখে বোঝার উপায় ছিল না যে সেখানে মানুষের বসবাসের ব্যবস্থা আছে। সেই কবুতরের ঘরের ভেতরে শীতাতপনিয়ন্ত্রণ যন্ত্র এবং সিসিটিভি মনিটরসহ আরামদায়ক বিছানা তৈরি করে তিনি হ্যাকিংয়ের কার্যক্রম চালাতেন।
তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, হ্যাকিংয়ের কাজে ওহিদুল নিয়মিত ৭টি মুঠোফোন ব্যবহার করতেন, যাতে অদলবদল করে ৬৮টি সিম কার্ড চালানো হতো। ঘর থেকে উদ্ধার হওয়া এসব সিম কার্ডের নম্বরের হিসাব রাখতে তিনি সাদা কাগজে সাংকেতিক ছক তৈরি করে রেখেছিলেন, যেখানে বিকাশ বা নগদের মতো আর্থিক লেনদেনের হিসাব চিহ্নিত ছিল। তাঁর অধীনে এলাকায় কয়েক শ হ্যাকার চক্র গড়ে উঠেছিল এবং সবাই তাঁকে গুরু হিসেবে মান্য করত। যাতায়াতের জন্য তিনি দামি মোটরসাইকেল ব্যবহার করতেন বলেও জানা গেছে।
এই ঘটনায় লালপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আল মাসুম বাদী হয়ে সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা দায়ের করেছেন। ওই মামলায় ওহিদুল ছাড়াও তাঁর পাঁচ সহযোগীকে আসামি করা হয়েছে। মঙ্গলবার বিকেলে পুলিশ তাঁকে আদালতে সোপর্দ করেছে এবং বর্তমানে তিনি কারাবন্দী রয়েছেন। ওহিদুল মোল্লাকে ধরতে পুলিশের দীর্ঘদিনের নজরদারি ও কৌশলী অভিযান অবশেষে সফল হয়েছে বলে জানিয়েছে থানা কর্তৃপক্ষ। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: আজ মঙ্গলবার বিকেলে তাঁকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: প্রাচীরঘেরা পাকা বাড়ির একটি কক্ষে কয়েক শ কবুতর রাখার বাসা বানিয়েছেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: আরাম–আয়েশের জন্য সেই ঘরে দামি আসবাব, সিসিটিভি মনিটর ও শীতাতপনিয়ন্ত্রণ যন্ত্র বসিয়েছেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এখানে বসে তিনি হ্যাকিং করে অন্যের মুঠোফোনের নিয়ন্ত্রণ নিতেন।
















