আগামী ২৭ অক্টোবর অনুষ্ঠিতব্য ইসরায়েলের জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে বড় ধরনের রাজনৈতিক সংকটে পড়েছেন প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। এর মধ্যেই নতুন করে অভিযোগ উঠেছে যে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের ভয়াবহ হামলার প্রায় ১০ দিন আগে হামাসের বড় ধরনের অভিযানের বিষয়ে তাঁকে সতর্ক করেছিলেন সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান। ইসরায়েলি সংবাদপত্র হারেৎজ-এ প্রকাশিত একটি বইয়ের উদ্ধৃতি থেকে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে।
প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, হামাসের তৎকালীন নেতা ইয়াহিয়া সিনওয়ার বড় ধরনের হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন—এমন তথ্য নিয়ে আমিরাতের প্রেসিডেন্ট নেতানিয়াহুর সঙ্গে প্রায় ৪৫ মিনিট কথা বলেছিলেন। ওই সময় সতর্ক করা হয়েছিল যে, এই হামলা ব্যাপক প্রাণহানি ঘটাতে পারে এবং পুরো অঞ্চলে অস্থিতিশীলতা তৈরি করতে পারে। তবে নেতানিয়াহু এই দাবি সরাসরি অস্বীকার করেছেন। তাঁর কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে, তিনি আমিরাতের প্রেসিডেন্টের কাছ থেকে এমন কোনো সতর্কবার্তা পাননি। এমনকি হারেৎজ ও সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মানহানির মামলার প্রস্তুতির কথাও জানিয়েছেন তিনি। এদিকে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সরাসরি এই অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত বা অস্বীকার না করে জানিয়েছে, তারা গণমাধ্যমের প্রতিবেদন বা জল্পনা নিয়ে কোনো মন্তব্য করে না। অন্যদিকে, সিবিএস নিউজ জানিয়েছে, তারা হারেৎজের এই প্রতিবেদনটি স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি।
এই বিতর্ক এমন এক সময়ে সামনে এল, যখন ২৭ অক্টোবরের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নেতানিয়াহুর জনপ্রিয়তা ও রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন উঠছে। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, ৭ অক্টোবরের হামলা এবং পরবর্তী আঞ্চলিক সংঘাতের জেরে সৃষ্ট জনঅসন্তোষের কারণে নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টির সমর্থন তলানিতে ঠেকেছে। সাম্প্রতিক একটি জরিপে দেখা গেছে, আইজেনকটের ইয়াশার পার্টি ২৩টি আসন পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যেখানে নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি পেতে পারে ২০টি আসন। তবে কোনো পক্ষই সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৬১ আসনের ম্যাজিক ফিগারে পৌঁছাতে পারছে না।
একই জরিপে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আইজেনকটকে ৩৮ শতাংশ মানুষ পছন্দ করছেন, যেখানে নেতানিয়াহুর পক্ষে রয়েছেন ৩৫ শতাংশ ভোটার। এছাড়া ইসরায়েল ডেমোক্রেসি ইনস্টিটিউটের ৩১ আগস্ট থেকে ৩ সেপ্টেম্বরের জরিপ অনুযায়ী, ৬৮ শতাংশ ইহুদি ইসরায়েলি ভোটারের কাছে ৭ অক্টোবরের ঘটনা আসন্ন নির্বাচনে দল নির্বাচনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। সব মিলিয়ে, নির্বাচনের আগে এই নতুন বিতর্ক নেতানিয়াহুর জন্য বড় রাজনৈতিক মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।














