Friday , 9 October 2026 | [bangla_date]
  1. অন্যান্য
  2. আন্তর্জাতিক
  3. ই-পেপার
  4. খেলা
  5. জনপ্রিয়
  6. জাতীয়
  7. দুর্যোগ
  8. দেশের খবর
  9. বাণিজ্য
  10. বিনোদন
  11. রাজনীতি

সন্দেহের ভিত্তিতে কাউকে বাংলাদেশি বলে ফেরত পাঠানো যাবে না

প্রতিবেদক

October 9, 2026 8:22 am

কেবল সন্দেহের ওপর ভিত্তি করে কাউকে ‘বাংলাদেশি’ হিসেবে চিহ্নিত করে দেশছাড়া করার কোনো আইনি ক্ষমতা কর্তৃপক্ষের নেই। পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদের এক বাসিন্দাকে আটকে রাখা এবং তাকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার সরকারি সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে দায়ের করা একটি রিট পিটিশনের শুনানি চলাকালে কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য এ অভিমত ব্যক্ত করেন। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টেলিগ্রাফের ৯ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদনে বিষয়টি উঠে আসে। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টেলিগ্রাফের এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা যায়।

আটক ব্যক্তির স্ত্রী তার স্বামীর মুক্তি এবং ফরেনার্স রিজিওনাল রেজিস্ট্রেশন অফিসের (এফআরআরও) দেওয়া দেশত্যাগের নির্দেশ চ্যালেঞ্জ করে আদালতে রিট আবেদন করেছিলেন। রিট আবেদনকারীর আইনজীবী রবিউল ইসলাম আদালতে জানান, প্রতিবেশী কয়েকজনের দেওয়া জবানবন্দির ভিত্তিতে তৈরি হওয়া সন্দেহের জের ধরে তার মক্কেল গত ৮ আগস্ট থেকে আটক রয়েছেন। আইনজীবী জোর দিয়ে বলেন, আইনগত যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে কোনো ব্যক্তিকে এভাবে আটকে রাখা আইনসম্মত নয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, আবেদনকারীর আইনজীবীর দাবি, ‘গত ৮ আগস্ট থেকে কয়েকজন প্রতিবেশীর দেওয়া জবানবন্দি থেকে তৈরি হওয়া সন্দেহের ভিত্তি’তেই তার মক্কেলকে আটকে রাখা হয়েছে। পাশাপাশি তিনি প্রশ্ন তোলেন, ঐ ব্যক্তিকে কেন দুই মাস ধরে হেফাজতে আটকে রাখা হয়েছে এবং তার জাতীয়তা বা নাগরিকত্ব নির্ধারণে কর্তৃপক্ষ কেন ‘একটি পরিষ্কার ও সুস্পষ্ট প্রক্রিয়া’ অনুসরণ করেনি। বিচারপতি প্রশ্ন তোলেন, কেবল এ ধরনের তথ্যের ওপর ভর করে কীভাবে একজন মানুষের জাতীয়তা বা নাগরিকত্ব চূড়ান্তভাবে নির্ধারণ করা সম্ভব। গুটি কয়েক মানুষের জবানবন্দির ওপর ভিত্তি করে কেউ সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারে না যে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি একজন অনুপ্রবেশকারী।

বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য ওই ব্যক্তির ওপর কার্যকর করা বহিষ্কারের আদেশটি সাময়িকভাবে স্থগিত করেছেন। তিনি পর্যবেক্ষণ দেন যে, কোনো ব্যক্তির নাগরিকত্ব যাচাইয়ের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত তাকে আত্মপক্ষ সমর্থনের পর্যাপ্ত সুযোগ দেওয়া। শুনানিকালে বিচারপতির মন্তব্য ছিল, ‘মনে হচ্ছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আবেদনকারীকে সেই সুযোগটুকুও দেয়নি।’ আদালতের একটি প্রশ্নের জবাবে উঠে আসে, ১৯৭০-এর দশক থেকে বহু মানুষ সীমান্ত অতিক্রম করেছেন, যা পরিস্থিতির জটিলতাকেই নির্দেশ করে। মামলার গুরুত্ব বিবেচনায় বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য বিষয়টি প্রধান বিচারপতির কাছে ফেরত পাঠিয়ে একটি উপযুক্ত বেঞ্চে শুনানির জন্য পাঠানোর অনুরোধ জানান। এ বিষয়ে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য মন্তব্য করেন, ‘সুতরাং, যেকোনো ব্যক্তিকে দেশান্তর করার সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সরকারের উচিত তার নথিপত্র সঠিকভাবে যাচাই করা। রাজ্য সরকারের পক্ষে উপস্থিত অতিরিক্ত অ্যাডভোকেট জেনারেল রাজদীপ মজুমদার যুক্তি দেন যে, আটক ব্যক্তি হয়তো জাল বা ভুয়া কাগজপত্রের মাধ্যমে ভোটার কার্ড, আধার ও প্যান কার্ডের মতো নথিপত্র সংগ্রহ করেছেন।

উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের মাঝামাঝি সময় থেকেই বিজেপি শাসিত বিভিন্ন রাজ্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠছে যে, তারা বাংলাভাষী মুসলিম পরিযায়ী শ্রমিকদের ‘অবৈধ বাংলাদেশি’ হিসেবে শনাক্ত করছে। আদালত বা ট্রাইব্যুনালের কোনো সুনির্দিষ্ট আদেশ ছাড়াই বিএসএফের সহায়তায় তাদের জোরপূর্বক বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এই নীতি অনুযায়ী, পুলিশের কাজ ছিল সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের হোল্ডিং সেন্টারে বন্দি করে সংক্ষিপ্ত প্রক্রিয়ায় দ্রুত বহিষ্কার করা। এর আগে গত জুলাই মাসে এমন চারজন ভারতীয় নাগরিক—যার মধ্যে নারী ও শিশুও ছিল—বাংলাদেশ ভূখণ্ডে প্রায় এক বছর কাটানোর পর আদালতের নির্দেশে মহদিপুর স্থলবন্দর দিয়ে নিজ দেশে ফিরে আসেন। বিজেপি পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় আসার কয়েকদিন পরই নতুন সরকার ‘ডিটেইন, ডিলিট, ডিপোর্ট’ (আটক, বাতিল ও বিতাড়ন) নীতি ঘোষণা করে।

সর্বশেষ - Uncategorized