Thursday , 8 October 2026 | [bangla_date]
  1. অন্যান্য
  2. আন্তর্জাতিক
  3. ই-পেপার
  4. খেলা
  5. জনপ্রিয়
  6. জাতীয়
  7. দুর্যোগ
  8. দেশের খবর
  9. বাণিজ্য
  10. বিনোদন
  11. রাজনীতি

মহানবী (সা.)-কে নিয়ে মন্তব্যে সৌদিতে শ্রীলঙ্কান যুবকের মৃত্যুদণ্ড

প্রতিবেদক

October 8, 2026 12:46 pm

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-কে নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য করার অভিযোগে সৌদি আরবে ২৪ বছর বয়সি এক শ্রীলঙ্কান অভিবাসী শ্রমিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। আনোজান শিবারাসা নামের ওই তরুণকে জুলাই মাসে গ্রেফতার করা হয়। ঘটনার সূত্রপাত জুনের শেষ দিকে, যখন শ্রীলঙ্কায় একটি ধর্মীয় বিতর্ককে কেন্দ্র করে অনলাইনে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। হিন্দু তীর্থযাত্রীদের নিয়ে একটি ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে এক মুসলিম তরুণের কুকুরকে লাথি দেওয়ার ভিডিও ভাইরাল হলে অনলাইনে ধর্মীয় সংঘাতের সূত্রপাত ঘটে।

সেই বিতর্কের এক পর্যায়ে একজন হিন্দু দেবতাকে নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য করলে তার প্রতিক্রিয়ায় আনোজান তামিল ভাষায় মহানবী (সা.)-কে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করেন। যদিও পরবর্তীতে তিনি সেই পোস্ট মুছে ফেলে ক্ষমা চেয়ে একটি ভিডিওবার্তা দিয়েছিলেন, কিন্তু তার আগেই মন্তব্যের স্ক্রিনশট ছড়িয়ে পড়ে। আনোজানের ভাই হামসিদান শিবারাসার ভাষ্যমতে, সৌদি আরবে থাকা অবস্থায় কেউ বিষয়টি প্রথম দিকে জানতেন না। পরবর্তীতে শ্রীলঙ্কার কিছু ব্যক্তি তার কর্মস্থলে ই-মেইল করার পর বিষয়টি নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান ও কর্তৃপক্ষের নজরে আসে। গ্রেফতারের পর তার ডিভাইস জব্দ এবং সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টগুলো মুছে ফেলা হয়। পরে প্রতিষ্ঠানটি সৌদি কর্তৃপক্ষকে জানালে আনোজানের বিরুদ্ধে মামলা হয়।

আইনি প্রক্রিয়ার শুরুর দিকে আল-আহসা ক্রিমিনাল কোর্ট আনোজানকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড ও ৩০ লাখ সৌদি রিয়াল জরিমানার আদেশ দিয়েছিল। শ্রীলঙ্কার পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিজিতা হেরাথ জানান, সেই সাজা কমানোর আবেদন করা হলেও তা বাতিল করা হয়। পরিস্থিতি আরও জটিল হয় ১৭ সেপ্টেম্বর, যখন সৌদি প্রসিকিউশন সাইবার অপরাধ আইনের পরিবর্তে শরিয়াহ আইনে বিচারের জন্য আপিল করে। আপিল আদালত সেই আবেদন মঞ্জুর করে আনোজানের দণ্ড বাড়িয়ে মৃত্যুদণ্ডে উন্নীত করে। এরপর ১৭ সেপ্টেম্বর মামলায় বড় পরিবর্তন আসে।

ছেলের প্রাণভিক্ষা চেয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে আবেদন জানিয়েছেন আনোজানের মা রাসামানিক্কাম যোগালক্ষ্মী। তার পরিবারের সাথে এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে কোনো যোগাযোগ নেই বলে জানা গেছে। শ্রীলঙ্কায় এই ঘটনায় ব্যাপক উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও ধর্মীয় সংগঠন তার দণ্ড মওকুফের জন্য কূটনৈতিক পর্যায়ে জোরালো তৎপরতা চালাচ্ছে।

শ্রীলঙ্কার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আনোজানকে সব ধরনের আইনি ও কূটনৈতিক সহায়তা দেওয়ার চেষ্টা চলছে। গত ২১ সেপ্টেম্বর তার পরিবার প্রেসিডেন্ট অনুরা কুমারা দিসানায়েকের সাথে দেখা করেন। প্রেসিডেন্ট তাদের আশ্বস্ত করে বলেছেন, আনোজানের জন্য সাধারণ ক্ষমা পাওয়ার ক্ষেত্রে সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

সৌদি কর্তৃপক্ষ এখনো এই মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের কোনো নির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণা করেনি। অতীতে এমন নজির রয়েছে যে, সৌদি আরবে অনেক সময় পরিবার বা সংশ্লিষ্ট দেশের দূতাবাসকে আগাম নোটিশ না দিয়েই সাজা কার্যকর করা হয়। ফলে আনোজানের জীবন রক্ষায় দেশটির সরকারের ওপর দ্রুত কূটনৈতিক চাপ তৈরির চেষ্টা করছে শ্রীলঙ্কা।

সর্বশেষ - Uncategorized

আপনার জন্য নির্বাচিত