বলিউডের শক্তিশালী অভিনেতা নানা পাটেকরের কর্মজীবন যতটা উজ্জ্বল, ব্যক্তিগত জীবন ততটাই রহস্যময় ও ঘটনাবহুল। গত ৮ অক্টোবর ভারতের গোয়ায় নিজ বাসভবনে ৭৫ বছর বয়সে কার্ডিয়াক অ্যারেস্টে আক্রান্ত হয়ে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন এই অভিনেতা। তাঁর মৃত্যুর পর থেকেই চলচ্চিত্রাঙ্গনে তাঁর বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারের পাশাপাশি আলোচিত হচ্ছে তাঁর পারিবারিক জীবনের বিভিন্ন অজানা দিক। বিশেষ করে দীর্ঘ ৩৫ বছর ধরে স্ত্রী নীলকান্তি পাটেকরের সঙ্গে আলাদা থাকার পরেও কেন তিনি আইনগত বিচ্ছেদের পথ বেছে নেননি, তা নিয়ে চলছে নানা জল্পনা। শিশু পুত্রের ট্র্যাজিক মৃত্যু আর দুই বলিউড ডিভার সঙ্গে প্রেমের টানাপোড়েনে ৩৫ বছর ধরে আলাদা থাকার পরেও ডিভোর্স দেননি স্ত্রীকে নানা পাটেকর মৃত্যুর আগ পর্যন্ত। ২০২৬ সালের ৮ অক্টোবর নানা পাটেকরের মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তাঁরা আইনগতভাবে স্বামী-স্ত্রী ছিলেন। পর্দায় নানা পাটেকরকে যতটা শক্ত মানুষ মনে হয়, ব্যক্তিজীবনে তাঁর গল্প ততটাই আবেগে ভরা। এখন মৃত্যুর পর তাঁর ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে উঠে আসছে নানা প্রশ্ন আর আলোচনাও হচ্ছে মিডিয়া ও সামাজিক মাধ্যমে। ছেলের মৃত্যু তাঁকে মানসিকভাবে ভেঙে দিয়েছিল।
১৯৭৮ সালে নানা পাটেকর ও নীলকান্তি বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন। বিয়ের আগে নীলকান্তি মারাঠি সিনেমার জনপ্রিয় অভিনেত্রী ছিলেন এবং পরে ব্যাংকিং পেশায় যুক্ত হন। তাঁদের দাম্পত্য জীবনের শুরুর দিকেই একটি বড় ট্র্যাজেডি ঘটে, যখন তাঁরা আড়াই বছর বয়সী তাদের প্রথম সন্তানকে হারান। এই শোক নানা পাটেকরের মানসিক জীবনে গভীর ক্ষত তৈরি করেছিল, যা পরবর্তী সময়ে তাঁর ব্যক্তিগত সম্পর্কের ওপরও প্রভাব ফেলে। তাঁদের সংসারে মালহার পাটেকর নামে আরেকটি সন্তান রয়েছে। সন্তান হারানোর সেই ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা নানা পাটেকর বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে একাধিকবার উল্লেখ করেছেন। বিয়ের সময় নীলকান্তি একটি ব্যাংকে কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করতেন।
সন্তান হারানোর পর নানা ও নীলকান্তির সম্পর্কে ফাটল ধরে এবং মতের অমিল ও ব্যক্তিত্বগত পার্থক্যের কারণে তাঁরা দীর্ঘ ৩৫ বছর বিচ্ছিন্ন জীবন অতিবাহিত করেন। তবে অবাক করার বিষয় হলো, দীর্ঘ এই সময়েও তাঁরা কখনো আইনি বিচ্ছেদে যাননি। অনেকেই মনে করেন, একে অপরের প্রতি থাকা সম্মান ও দায়িত্ববোধই ছিল এই না ভাঙা সম্পর্কের মূল ভিত্তি। আবার কেউ কেউ এমন দাবিও করেন যে, অন্য নারীদের সঙ্গে সম্পর্কের অপরাধবোধ থেকেই নানা পাটেকর হয়তো বিচ্ছেদের পথে হাঁটতে চাননি। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত আইনিভাবে তাঁরা স্বামী-স্ত্রী হিসেবেই পরিচিত ছিলেন।
নানা পাটেকরের জীবনে একাধিক অভিনেত্রীর সঙ্গে সম্পর্কের গুঞ্জন ছিল দীর্ঘদিনের। নব্বইয়ের দশকে ‘অগ্নি সাক্ষী’ সিনেমার শুটিংয়ের সময় অভিনেত্রী মনীষা কৈরালার সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের কথা বি-টাউনে বেশ আলোচিত ছিল। মনীষা নিজেও পরবর্তী সময়ে তাঁদের সেই জটিল সম্পর্কের অভিজ্ঞতার কথা প্রকাশ্যে এনেছিলেন। একইভাবে ‘আঁচ’ সিনেমার সময় অভিনেত্রী আয়েশা জুলকার সঙ্গেও নানা পাটেকরের ঘনিষ্ঠতা নিয়ে সংবাদমাধ্যমে নানা জল্পনা ছড়িয়েছিল। যদিও এসব সম্পর্কের খুঁটিনাটি নিয়ে বিতর্ক রয়েছে, তবু নানা পাটেকর নিজের জীবনে সব সময় একধরণের অস্থিরতা ও আবেগের দোলাচলে ছিলেন বলে মনে করা হয়।
পর্দার কঠোর ও বাস্তব চরিত্র রূপায়ণের আড়ালে নানা পাটেকরের ব্যক্তিগত জীবন ছিল আনন্দ, বেদনা, প্রেম ও বিচ্ছেদের এক মিশ্রণ। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি স্ত্রী ও সন্তানের সঙ্গে যেমন আবেগীয় দূরত্ব বজায় রেখেছিলেন, তেমনি তাঁর ব্যক্তিজীবন ছিল নানা ঘটনার সমষ্টি। একটি ট্র্যাজিক ঘটনা থেকে শুরু করে সম্পর্কের নানা উত্থান-পতন—সব মিলিয়ে নানা পাটেকর তাঁর জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত নিজের শর্তেই বেঁচেছিলেন, যেখানে আইনি বিচ্ছেদের চেয়ে ব্যক্তিগত বোঝাপড়া বা দূরত্বই ছিল বড় বাস্তবতা। অভিনয়ে তাঁর পরিচয় কঠিন, তীব্র ও বাস্তব চরিত্রের জন্য।
















