যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে দেশটির পররাষ্ট্র দপ্তর তিন লাখেরও বেশি ভিসা বাতিলের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। অবৈধ অভিবাসন রোধে মার্কিন কেন্দ্রীয় সরকারের নেওয়া কঠোর পদক্ষেপের অংশ হিসেবে এই কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ভিসা বাতিলের হার উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের দাবি, এসব ধরপাকড় ও বহিষ্কার অভিযানের মূল লক্ষ্য জাতীয় নিরাপত্তা জোরদার করা। তবে মানবাধিকার কর্মীরা সতর্ক করে বলেছেন, সরকারের এই কঠোর অবস্থানের ফলে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। বিশেষ করে জাতিগত সংখ্যালঘুরা বর্ণগত প্রোফাইলিংয়ের শিকার হওয়ার আশঙ্কায় ভুগছেন বলে মানবাধিকার সংস্থাগুলো উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে তার প্রশাসন ৩ লাখেরও বেশি মার্কিন ভিসা বাতিল করেছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর প্রকাশ করেছে।
এ বিষয়ে পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র টমি পিগট সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানান, মার্কিন ইতিহাসে যেকোনো প্রশাসনের তুলনায় বর্তমান প্রশাসন সবচেয়ে দ্রুত ও সর্বোচ্চ সংখ্যক ভিসা বাতিল করেছে। তিনি স্পষ্টভাবে জানান, জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে প্রশাসন। এর আওতায় ভিসা নিয়ে অবস্থানকারী যেসব বিদেশি নাগরিক আইন লঙ্ঘন করেছেন, জালিয়াতির আশ্রয় নিয়েছেন কিংবা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছেন, তাদের প্রতি কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।
অধিকারকর্মীরা সরকারের এই কর্মকাণ্ডকে নির্দিষ্ট গোষ্ঠীকে লক্ষ্যবস্তু করার কৌশল হিসেবে দেখছেন। উদাহরণ হিসেবে তারা গাজায় ইসরাইলি হামলার প্রতিবাদকারী ফিলিস্তিনপন্থি বিদেশি বিক্ষোভকারীদের ভিসা বাতিল এবং রক্ষণশীল ধারাভাষ্যকার চার্লি কার্কের গুপ্তহত্যা সংক্রান্ত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মন্তব্য করা বিদেশিদের ভিসা বাতিলের ঘটনা তুলে ধরছেন। পাশাপাশি অভিবাসী ও ভিসা আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ওপর নজরদারিও বাড়ানো হয়েছে। সমালোচকদের অভিযোগ, জাতীয় নিরাপত্তার দোহাই দিয়ে সরকার মিনেসোটার সোমালি আমেরিকানসহ বিভিন্ন অভিবাসী সম্প্রদায়কে ঢালাওভাবে টার্গেট করছে। ২০২৪ সালে অবৈধ অভিবাসন বন্ধের প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রচার চালালেও বর্তমান প্রশাসন আইনি অভিবাসন প্রক্রিয়াকেও জটিল করে তুলেছে, যার অংশ হিসেবে নির্দিষ্ট কিছু কাজের ভিসার ক্ষেত্রে অস্বাভাবিক হারে ফি বৃদ্ধি করা হয়েছে।















