Wednesday , 21 October 2026 | [bangla_date]
  1. অন্যান্য
  2. আন্তর্জাতিক
  3. ই-পেপার
  4. খেলা
  5. জনপ্রিয়
  6. জাতীয়
  7. দুর্যোগ
  8. দেশের খবর
  9. বাণিজ্য
  10. বিনোদন
  11. রাজনীতি

যুক্তরাষ্ট্রে আইসের হাতে আটক বাংলাদেশি এনামুল হক

প্রতিবেদক

October 21, 2026 12:23 pm

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের বাফেলো এলাকা থেকে এনামুল হক ইনাম নামে এক বাংলাদেশিকে আটক করেছে মার্কিন অভিবাসন ও শুল্ক এনফোর্সমেন্ট বা আইস। কমিউনিটির তথ্যমতে, গত ১৪ অক্টোবর বুধবার তাঁকে আটক করা হয়। প্রায় ৪২ বছর আগে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমানো এনামুল হক স্থানীয় কমিউনিটিতে বেশ পরিচিত মুখ। একসময়ে তিনি নিউইয়র্কে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করতেন এবং নানা সামাজিক কার্যক্রমে সক্রিয় থাকতেন। পরিচিতজনদের দাবি, বিপদে-আপদে তিনি সবসময়ই মানুষের পাশে দাঁড়াতেন। একসময় বাংলাদেশের তারকাদের নিউইয়র্কেএনে জমজমাট সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করতেন। পরিচিতজনদের বিপদে-আপদেও এগিয়ে আসতেন। কমিউনিটির পরিচিত এই মুখের আটকের ঘটনা যেন নিউইয়র্কের বাংলাদেশি সমাজের এক অস্বস্তিকর বাস্তবতাকেই সামনে এনেছে—বিপদে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর ইচ্ছা থাকলেও অনেকের মনে এখন ভয়। দীর্ঘদিন বসবাস করেছেন নিউইয়র্কের জামাইকায়। বাংলাদেশ থেকে জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী, অভিনেতা-অভিনেত্রীদের যুক্তরাষ্ট্রে এনে অনুষ্ঠান আয়োজন করতেন। তাঁর আমন্ত্রণে ফেরদৌস ওয়াহিদ ও কুমার বিশ্বজিতের মতো তারকারাও নিউইয়র্কে এসেছিলেন। একসময় প্রবাসী সাংস্কৃতিক অঙ্গনে সক্রিয় এই প্রমোটার কয়েক বছর আগে ভার্জিনিয়ায় চলে যান। মানুষ এতটাই আতঙ্কিত যে তাঁর বা তাঁর পরিবারের পাশে প্রকাশ্যে দাঁড়ানোর সাহসও পাচ্ছে না। প্রশ্ন উঠেছে, অভিবাসন অভিযান নিয়ে আতঙ্ক কি প্রবাসীদের দীর্ঘদিনের পারস্পরিক সহযোগিতার সংস্কৃতিকেও প্রভাবিত করছে।

তাঁর আটকের বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর থেকে কমিউনিটিতে এক ধরনের নীরবতা দেখা দিয়েছে। এখন পর্যন্ত তাঁর মুক্তির দাবিতে কোনো সমাবেশ, মানববন্ধন বা প্রকাশ্য প্রতিবাদের উদ্যোগ লক্ষ্য করা যায়নি। তবে এনামুলের ঘনিষ্ঠ এক বন্ধু আক্ষেপ করে বলেন, যিনি নিজে বহু বাংলাদেশির বিপদে পাশে দাঁড়িয়েছেন, আজ তাঁর সেই কঠিন সময়ে কমিউনিটির পক্ষ থেকে বড় কোনো প্রতিবাদ দেখা যাচ্ছে না। আটকের পর থেকে তাঁর সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করা সম্ভব হচ্ছে না বলেও জানিয়েছেন স্বজন ও পরিচিতরা। একসময় যাঁদের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল, তাঁদের অনেকেই এখন নীরব।

এনামুল হকের আটকের কারণ নিয়ে বিভিন্ন মহলে নানা গুঞ্জন রয়েছে। পরিচিতজনদের কারো কারো দাবি, তাঁর গ্রিন কার্ড থাকলেও আটকের সময় সেটি তাঁর কাছে ছিল না। আবার কেউ কেউ বলছেন, দীর্ঘ সময় যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করলেও তাঁর অভিবাসন সংক্রান্ত নথিপত্রে হয়তো কোনো জটিলতা ছিল। তবে এসব দাবির সত্যতা সম্পর্কে কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে, শুধু এনামুল হক নন, সাম্প্রতিক সময়ে বাফেলো এলাকায় আরও কয়েকজন বাংলাদেশি নাগরিককে আইসের অভিযানে আটক করা হয়েছে। কী কারণে তাঁকে আটক করা হয়েছে, বর্তমানে কোথায় রাখা হয়েছে এবং তাঁর বিরুদ্ধে কোনো বহিষ্কার আদেশ রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। শুধু আটকের ঘটনা থেকে তাঁর অভিবাসনগত অবস্থান বা কোনো আইন লঙ্ঘনের বিষয়ে সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই। কখনো আইনজীবী নিয়োগে সহযোগিতা, কখনো পরিবারের জন্য অর্থ সংগ্রহ, আবার কখনো রাজনৈতিক প্রতিনিধিদের মাধ্যমে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করা হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে অভিবাসন আইন প্রয়োগের কঠোরতা এবং আইসের ক্রমবর্ধমান অভিযানের কারণে কমিউনিটির অনেকের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। প্রকাশ্যে কোনো কর্মসূচি না থাকলেও ব্যক্তিগত পর্যায়ে কেউ সহযোগিতা করছেন কি না, সেটিও স্পষ্ট নয়। বাংলাদেশে তাঁর বাড়ি ঢাকার মগবাজারের টিঅ্যান্ডটি কলোনি এলাকায়। একের পর এক এমন ঘটনায় বাফেলোর বাংলাদেশি পরিবার ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। আইসের সরবরাহ করা তথ্য নিয়ে ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, বার্কলে এবং ইউসিএলএর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ডিপোর্টেশন ডেটা প্রজেক্টের বিশ্লেষণে উঠে এসেছে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আরও দেখা যায়, ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় ফেরার সময় আপস্টেট নিউইয়র্কে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের প্রায় ৮৫ শতাংশের বিরুদ্ধে আগে থেকেই বহিষ্কার আদেশ ছিল।

অভিবাসন পরিস্থিতি নিয়ে ডব্লিউএক্সএক্সআই নিউজ এবং বাফেলো টরন্টো পাবলিক মিডিয়ার ১ সেপ্টেম্বরের একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জুলাই মাসেই শুধু আপস্টেট নিউইয়র্কে ৬০০-এর বেশি মানুষকে আইস গ্রেপ্তার করেছে। একই সময়ে পুরো নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যে গ্রেপ্তারের সংখ্যা প্রায় ১ হাজার ৫০০ জনে পৌঁছেছে, যা অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, জুলাই মাসে সারা যুক্তরাষ্ট্রে আইস প্রায় ৫০ হাজার মানুষকে গ্রেপ্তার করে। কিন্তু ২০২৬ সালের জুলাইয়ে এই হার নেমে আসে প্রায় ২৫ শতাংশে।

আইসের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, তাদের এই অভিযান মূলত অপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত বা দণ্ডিত অনিয়মিত অভিবাসীদের লক্ষ্য করে পরিচালিত হচ্ছে। কিন্তু সরকারি তথ্যের বিশ্লেষণ করলে ভিন্ন এক চিত্র বেরিয়ে আসে। সেখানে দেখা যায়, অপরাধমূলক রেকর্ড নেই এমন অনেক ব্যক্তিকেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যায় গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। এই গ্রেপ্তার অভিযান এবং বাফেলোর নিকটবর্তী বাটাভিয়ার বাটাভিয়া সার্ভিস প্রসেসিং সেন্টারে অতিরিক্ত ১০০ জনকে রাখার জন্য অস্থায়ী অবকাঠামো তৈরির পরিকল্পনা নিয়ে অভিবাসী পরিবারগুলোর মধ্যে ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তা তীব্র হচ্ছে। বাফেলোর ক্যানমোর অ্যাভিনিউয়ে তাঁর একটি বাঙালি রেস্তোরাঁ রয়েছে।

বর্তমানে অভিবাসন মামলায় যারা আটক রয়েছেন, তাদের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে জানতে আইসের অনলাইন ডিটেইনি লোকেটর ব্যবস্থা ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। একই সঙ্গে একজন অভিজ্ঞ অভিবাসন আইনজীবীর সহায়তা নিয়ে আটকের প্রকৃত কারণ জানা, আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা এবং মুক্তির সম্ভাব্য পথগুলো যাচাই করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। যাঁদের অভিবাসনসংক্রান্ত মামলা বা আইনি প্রক্রিয়া চলমান, তাঁরাও গ্রেপ্তারের মুখোমুখি হচ্ছেন।

সর্বশেষ - দেশের খবর

আপনার জন্য নির্বাচিত