নিউইয়র্ক সিটিতে গুরুতর মানসিক অসুস্থতায় ভুগছেন এমন গৃহহীন ব্যক্তিদের সুস্থতা নিশ্চিত ও স্থায়ী আবাসনের পথ সুগম করতে ব্রুকলিনে চালু হয়েছে নতুন একটি কেন্দ্র, যার নাম রাখা হয়েছে ‘ব্রিজ টু হোম’। গত ২৯ সেপ্টেম্বর মেয়র জোহরান মামদানি এবং এনওয়াইসি হেলথ অ্যান্ড হসপিটালস কর্তৃপক্ষ যৌথভাবে এই উদ্যোগটি উদ্বোধনের ঘোষণা দেয়। ব্রুকলিনের ক্রাউন হাইটস এলাকায় অবস্থিত এই কেন্দ্রে একসঙ্গে অন্তত ৫০ জন ব্যক্তি আবাসনের সুযোগ পাবেন। ম্যানহাটনে প্রথম কেন্দ্র চালুর পর তার অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে ব্রুকলিনে দ্বিতীয় কেন্দ্র চালু করা হয়েছে। কেন্দ্রটি এনওয়াইসি হেলথ+ হসপিটালস/উডহাল হাসপাতালের কাছাকাছি হওয়ায় বাসিন্দারা হাসপাতালের সঙ্গে ধারাবাহিক চিকিৎসাসেবার সংযোগ বজায় রাখতে পারবেন।
এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য হলো, হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হওয়ার পর কোনো ব্যক্তি যেন সরাসরি আশ্রয়কেন্দ্রে ফিরে না যান, বরং তারা প্রয়োজনীয় সহায়তা নিয়ে যেন স্থায়ীভাবে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেন। এখানকার বাসিন্দারা মানসিক ও আচরণগত স্বাস্থ্যসেবার পাশাপাশি চিকিৎসা সহায়তা, সামাজিক পরিষেবা এবং স্থায়ী আবাসনের জন্য প্রয়োজনীয় আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে সার্বক্ষণিক সহায়তা পাবেন। মেয়র জোহরান মামদানি বলেন, হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়ার মানেই চিকিৎসাসেবা শেষ হয়ে যাওয়া নয়, বরং সুস্থতার পথচলা সেখানে থেকেই শুরু হয়। চিকিৎসার পাশাপাশি নিরাপদে থাকার জায়গাও প্রয়োজন। ব্রুকলিনে কর্মসূচি সম্প্রসারণের মাধ্যমে আরও বেশি মানুষকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা, স্থিতিশীলতা ও সহায়তা দিয়ে মর্যাদার সঙ্গে স্থায়ী আবাসনে যাওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।
প্রকল্পটির আওতায় একজন অতিথি সর্বোচ্চ ১২ মাস অথবা স্থায়ী আবাসনের ব্যবস্থা না হওয়া পর্যন্ত সেখানে থাকতে পারবেন। কেন্দ্রের সেবাগুলোর মধ্যে রয়েছে মাদক ও নেশাজাতীয় দ্রব্য ব্যবহারের সমস্যার চিকিৎসা, ব্যক্তিগত ও গ্রুপ থেরাপি, সামাজিক সেবা এবং ২৪ ঘণ্টা পেশাদার সহায়তার ব্যবস্থা। এনওয়াইসি হেলথ হসপিটালসের প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড. মিচেল কাটজ জানান, গুরুতর মানসিক সমস্যায় আক্রান্ত রোগীদের হাসপাতাল ত্যাগের পর যদি একটি স্থিতিশীল ও চিকিৎসাসুবিধাসম্পন্ন পরিবেশে রাখা যায়, তবে তাদের দ্রুত সেরে ওঠার সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যায়। প্রত্যেকের জন্য থাকবে ব্যক্তিগত কক্ষ।
স্বাস্থ্য ও মানবসেবা-বিষয়ক ডেপুটি মেয়র ড. হেলেন আর্টেগা এই উদ্যোগের গুরুত্ব ব্যাখ্যা করে বলেন, এই কর্মসূচিটি একই সঙ্গে মানসিক স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপদ আবাসের প্রয়োজনীয়তাকে অত্যন্ত কার্যকরভাবে মোকাবিলা করছে। সরকারের এই সমন্বিত পদক্ষেপের মাধ্যমে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকা নিউইয়র্কবাসীর জীবনমান উন্নয়নে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো।

















