সংবাদ শিরোনাম ও অন্যান্য আপডেট
- সরকার দুঃখিত ও বিব্রত: হামলা-ভাঙচুরের প্রতিটি ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য।
- এক্সপ্লেইনার: যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সম্পর্কের গতিপ্রকৃতি বিশ্লেষণ।
- স্বাস্থ্য খাত: মাঠপর্যায়ে ৪০ শতাংশ শূন্যপদ পূরণ ও ৩৫ হাজার নিয়োগের উদ্যোগ।
- কলিমহর মা ও শিশু কেন্দ্র: নয় বছরেও পূর্ণাঙ্গ সেবা চালু হয়নি।
- সমবায় কেলেঙ্কারি: কোটি টাকা নিয়ে লাপাত্তা সমবায় সমিতির সভাপতি।
গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার রাওনাট বাজারে অবস্থিত ‘শুভেচ্ছা মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেড’-এর প্রায় তিন কোটি টাকা নিয়ে সভাপতি আবুল হাসেম উধাও হয়ে গেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। গত ১৭ সেপ্টেম্বর থেকে সমিতির কার্যালয়ে তালা ঝুলছে এবং তখন থেকেই তিনি লাপাত্তা। এতে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন শত শত সাধারণ সদস্য যারা নিজেদের কষ্টার্জিত অর্থ এই সমিতিতে জমা রেখেছিলেন। ২০১০ সালে ১০৯৮ নম্বর নিবন্ধনে যাত্রা শুরু করা এই সমিতিটি কাপাসিয়ার দুর্গাপুর ইউনিয়নসহ আশেপাশের সাতটি ইউনিয়নের বিপুল সংখ্যক মানুষকে সদস্যভুক্ত করেছিল। বিগত বছরে সদস্য সংখ্যা ৪৯৬ জন থাকলেও বর্তমানে তা প্রায় এক হাজারে উন্নীত হয়েছে বলে জানা গেছে। ১৫ শতাংশ মুনাফার প্রলোভন দেখিয়ে অনেক সদস্যকে বিভিন্ন ব্যাংক থেকে টাকা তুলে এই সমিতিতে বিনিয়োগ করতে উৎসাহিত করা হয়েছিল, যার ফলে সমিতির মূলধন বর্তমানে প্রায় ১০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে বলে দাবি ক্ষতিগ্রস্তদের। এক্সপ্লেইনার / যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সম্পর্কে ভাটার টান। মাঠপর্যায়ের ৪০ শতাংশ পদ শূন্য / স্বাস্থ্য খাতে ৩৫ হাজার পদে দ্রুত নিয়োগে সরকারের উদ্যোগ। ৯ বছরেও পূর্ণাঙ্গ সেবা চালু হয়নি কলিমহর মা ও শিশু কেন্দ্রে। সমবায় অফিস সূত্রে জানা যায়, ২০১০ সালে ১০৯৮ নম্বর নিবন্ধনের মাধ্যমে সমিতিটির কার্যক্রম শুরু হয়। বর্তমানে সমিতির সদস্যরা টাকার জন্য পাগলের মতো ঘুরছেন। ফুলবাড়িয়া গ্রামের এক সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, তিনি সমিতিতে ছয় লাখ টাকা রেখেছেন। একই সঙ্গে বিভিন্ন বিষয়ে অনৈতিক সুবিধা গ্রহণের অভিযোগও রয়েছে।
সমিতির সভাপতি ৪৬ বছর বয়সী আবুল হাসেম দড়িমেরুন গ্রামের মৃত আব্দুল হাইয়ের ছেলে। গতকাল সোমবার সরেজমিনে দেখা যায়, সমিতির কার্যালয় এবং ভবনের নিচতলার দোকানপাট সবই তালাবদ্ধ। ভুক্তভোগী সালমা বেগম, সুবর্ণা আক্তার, নিখিল দাস ও আরও অনেকে জানিয়েছেন, তারা জীবনের শেষ সম্বলটুকু হারিয়ে এখন দিশেহারা। তারা তাদের জমাকৃত টাকা উদ্ধারের আশায় প্রতিদিন অফিসের সামনে ভিড় করছেন। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী সদস্যরা থানায় ও গাজীপুর আদালতে দুটি মামলা দায়ের করেছেন। কাপাসিয়া উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা মাহফুজুল আমিন জানান, গ্রাহকদের তথ্যানুযায়ী প্রায় তিন কোটি টাকা নিয়ে সভাপতি পালিয়ে গেছেন এবং তার মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। তিনি আরও জানান, বিষয়টি তদন্তাধীন এবং কীভাবে কার্যালয়টি খুলে সদস্যদের টাকা ফেরতের ব্যবস্থা করা যায় তা নিয়ে কাজ চলছে।
জেলা সমবায় কর্মকর্তা আরিফা সুলতানা শিপা এ বিষয়ে কোনো তথ্যই জানেন না বলে দাবি করেছেন। তিনি জানান, ওই সমিতির সদস্য সংখ্যা, মূলধন বা অডিট সংক্রান্ত কোনো তথ্য তার কাছে নেই। তবে তার এমন দায়সারা মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছেন ঢাকা বিভাগীয় সমবায় কার্যালয়ের যুগ্ম নিবন্ধক মো. আব্দুল ওয়াহেদ। তিনি সাফ জানিয়েছেন, জেলা সমবায় কর্মকর্তার অগোচরে এমন বড় অনিয়ম ঘটে থাকলে তার বিরুদ্ধেও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে বলে তিনি আশ্বস্ত করেছেন। পলাতক আবুল হাসেমের সাথে যোগাযোগের একাধিক চেষ্টা করা হলেও তার কোনো হদিস পাওয়া যায়নি।
















