Friday , 23 October 2026 | [bangla_date]
  1. অন্যান্য
  2. আন্তর্জাতিক
  3. ই-পেপার
  4. খেলা
  5. জনপ্রিয়
  6. জাতীয়
  7. দুর্যোগ
  8. দেশের খবর
  9. বাণিজ্য
  10. বিনোদন
  11. রাজনীতি

তীব্র দাবদাহে ইউরোপে ৫০ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু

প্রতিবেদক

October 23, 2026 8:53 am

চলতি বছরের গ্রীষ্ম মৌসুমে ইউরোপ জুড়ে ছড়িয়ে পড়া তীব্র দাবদাহে ৫০ হাজার ৩৯১ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। নেচার হেলথ সাময়িকীতে প্রকাশিত দুটি পিয়ার-রিভিউড গবেষণায় উঠে এসেছে যে, এই মৃত্যুর প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ অর্থাৎ ৩২ হাজার ৬০০টিরও বেশি ঘটনা সরাসরি জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে যুক্ত। গবেষকদের মতে, বিগত ২৬ বছরের মধ্যে ইউরোপে তাপপ্রবাহজনিত মৃত্যুর এটি সর্বোচ্চ রেকর্ড, যা ২০০৩ ও ২০২২ সালের ভয়াবহ দাবদাহকেও ছাড়িয়ে গেছে। এরপর মৃত্যুর যে হিসাব অর্থাৎ ৫০ হাজার ৩৯১ জনের মৃত্যুর হিসাব পাওয়ার পর এই গবেষকরা বলছেন, বিগত ২৬ বছরের মধ্যে এই প্রাণহানি সর্বোচ্চ এবং তা ২০২২ ও ২০০৩ সালে ইউরোপে ঘটে যাওয়া আগের বড় দাবদাহগুলোর চেয়েও অনেক বেশি। যার অর্থ দাঁড়ায়— ভবিষ্যতে আমাদের জন্য আরও প্রাণঘাতী গ্রীষ্ম অপেক্ষা করছে।

ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডনের চরম আবহাওয়া ও জলবায়ু পরিবর্তন বিশেষজ্ঞ এবং এই প্রতিবেদনের অন্যতম লেখক ক্লেয়ার বার্নস জানান, দাবদাহে প্রাণহানির এই সংখ্যাটি মহাদেশটির অর্ধেকেরও বেশি এলাকার ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতির ইঙ্গিত দেয়। তিনি আরও বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব থেকে উত্তরণের সুযোগ আমরা অনেকটা হারিয়ে ফেলেছি। শিল্পবিপ্লব-পূর্ব সময়ের চেয়ে বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ধরে রাখার সম্ভাবনা প্রায় শেষ বলে জাতিসংঘের সাম্প্রতিক সতর্কবার্তার সাথে এই পরিস্থিতির মিল পাওয়া যাচ্ছে। লন্ডনের ইম্পেরিয়াল কলেজের চরম আবহাওয়া ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক গবেষক এবং এই প্রতিবেদনের অন্যতম লেখক ক্লেয়ার বার্নস বলেন, দাবদাহজনিত মৃত্যুর সংখ্যার বিচারে ২০২৬ সালের গ্রীষ্ম ইউরোপের অর্ধেকেরও বেশি এলাকার ইতিহাসে সম্ভ। জাতিসংঘের বার্ষিক জলবায়ু সম্মেলনে যোগ দিতে তুরস্কে আন্তর্জাতিক নেতাদের একত্রিত হওয়ার মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে এই ভয়াবহ তথ্য সামনে এলো। এর প্রভাব সবসময় সাথে সাথে দৃশ্যমান না হওয়ায় একে প্রায়শই ‘নীরব ঘাতক’ হিসেবে অভিহিত করা হয়।

চলতি গ্রীষ্মে তাপমাত্রার পারদ ১৯৯১ থেকে ২০২০ সালের গড় তাপমাত্রার তুলনায় প্রায় ২.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা ৫.২ ডিগ্রি ফারেনহাইট বেশি ছিল। কিছু অঞ্চলে পরিস্থিতি ছিল আরও চরম, যেখানে রেকর্ড করা তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে ১২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা ২১.৬ ডিগ্রি ফারেনহাইট পর্যন্ত বেশি ছিল। এই প্রাণহানির প্রকৃত সংখ্যা নিরূপণে বিজ্ঞানীরা ইউরোপের ৩০টি দেশের ৮৫৪টি শহরের তাপমাত্রা এবং জলবায়ু পরিবর্তনহীন বিশ্বের সম্ভাব্য তাপমাত্রার একটি তুলনামূলক বিশ্লেষণ করেছেন। গবেষকদের দাবি, তাদের অনুসৃত পদ্ধতিতে প্রাপ্ত এই সংখ্যা জাতীয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের পরিসংখ্যানের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। সরকারগুলোকে বুঝতে হবে যে, দ্রুত পদক্ষেপ ও সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া পরিস্থিতি কেবল আরও খারাপের দিকেই যাবে। চলতি বছরের মে মাসের শেষ থেকে আগস্টের শেষ পর্যন্ত নজিরবিহীন উচ্চ তাপমাত্রা পুরো মহাদেশকে যেন ঝলসে দিয়েছে।

তীব্র এই দাবদাহে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ৮৫ বছর বা তার চেয়ে বেশি বয়সী প্রবীণ নাগরিকরা। তবে শুধু বয়স্করাই নন, ২০ থেকে ৪৪ বছর বয়সী অন্তত ৮০০ জনসহ ৬৫ বছরের কম বয়সী হাজার হাজার মানুষের মৃত্যুর তথ্য গবেষণায় পাওয়া গেছে। ওয়ারউইক ইউনিভার্সিটির হেলথ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক রাকেল নুনেস এই ফলাফলকে দাবদাহের প্রাণঘাতী রূপ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের মৃত্যুর হারকে উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করেছেন। বিশ্বের দ্রুততম উষ্ণ হতে থাকা মহাদেশ এখন ইউরোপ এবং চরম আবহাওয়া সম্পর্কিত দুর্যোগগুলোর মধ্যে সবচেয়ে প্রাণঘাতী রূপ নেওয়া এই দাবদাহ সেখানকার মানুষের জন্য ইতোমধ্যেই অসহনীয় হয়ে উঠছে। এই দাবদাহে দক্ষিণ ও পশ্চিম ইউরোপ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হলেও যুক্তরাজ্যসহ অপেক্ষাকৃত শীতল উত্তরাঞ্চলীয় দেশগুলোতেও হাজার হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে।

গবেষণায় আরও দেখা গেছে যে, চলতি শতাব্দীর শুরুর দিকে দাবদাহজনিত মোট মৃত্যুর প্রায় ৪০ শতাংশের জন্য জীবাশ্ম জ্বালানির দূষণ দায়ী ছিল, যা এখন বেড়ে প্রায় দুই-তৃতীয়াংশে পৌঁছেছে। ক্লেয়ার বার্নসের মতে, যতক্ষণ পর্যন্ত জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরশীলতা বন্ধ না করা হবে, ততক্ষণ ইউরোপবাসীকে নিয়মিত এমন তীব্র ও বিপজ্জনক গ্রীষ্মকাল পার করতে হবে। গবেষক বার্নস সতর্ক করে বলেন, যতক্ষণ না আমরা জীবাশ্ম জ্বালানি ব্যবহারের অভ্যাস ছাড়তে পারছি, ততক্ষণ পর্যন্ত আমরা একের পর এক তীব্র ও বিপজ্জনক গ্রীষ্মের মুখোমুখি হতেই থাকব।

সর্বশেষ - আন্তর্জাতিক

আপনার জন্য নির্বাচিত

সাজেক থেকে ফেরার পথে পর্যটকদের ওপর হামলা ও গোলাগুলি

প্রথম দেখায় কেন কোহলিকে দাম্ভিক মনে হয়েছিল ডি ভিলিয়ার্সের

সৌদিতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ার আগে মেয়ের সাথে শেষ কথা

কুড়িগ্রামের রৌমারীতে ট্রাক-অটোরিকশা সংঘর্ষে নিহত ৫

৫ দফা দাবিতে রামেক হাসপাতালে ইন্টার্নদের কর্মবিরতি

ইয়েমেনে প্রশিক্ষণ শিবিরে হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত ৫০

রিয়াদ বিমানবন্দরের কার্যক্রম বন্ধের মেয়াদ আরও বাড়াল সৌদি কর্তৃপক্ষ

উখিয়ায় রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে ১০ মৃত্যু: মালিক ও ম্যানেজার অভিযোগে

কক্সবাজারে রিসোর্ট অগ্নিকাণ্ড: এখনো নিখোঁজ একজন

পোশাকশ্রমিকদের মজুরি বোর্ড গঠনে প্রতিনিধি চাইল শ্রম মন্ত্রণালয়