টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার মহেরা ইউনিয়নের নগর ছাওয়ালী গ্রামের সুইটি আক্তার প্রায় চার বছর আগে জীবিকার সন্ধানে সৌদি আরবে পাড়ি জমিয়েছিলেন। দরিদ্র পরিবারের পাঁচ মেয়ের মধ্যে সবার ছোট সুইটিকে বিদেশ পাঠাতে তার বাবা দিনমজুর ফজল মিয়াকে দেড় লাখ টাকা ঋণ করতে হয়েছিল। শুরুতে প্রথম পাঁচ মাস নিয়মিত টাকা পাঠালেও পরবর্তীতে ফোন করে পরিবারের কাছে কারাগারে আটকের খবর জানান তিনি। সৌদি আরবে সম্প্রতি অনৈতিক কাজের অভিযোগে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পর থেকে সুইটির ভাগ্যে কী ঘটেছে তা নিয়ে তার পরিবার চরম উদ্বেগের মধ্যে রয়েছে। পরিবারের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৪ বছর আগে সৌদি আরব যান টাঙ্গাইলের মির্জাপুরের মহেরা ইউনিয়নের নগর ছাওয়ালী গ্রামের সুইটি আক্তার। প্রথম ৫ মাস বাড়িতে টাকাও পাঠান তিনি। সৌদির আরবে দুই প্রবাসী মৃত্যুদণ্ডের রায় কার্যকরের পর থেকে বাংলাদেশে এ বিষয়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে সুইটির বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে কয়েকজন প্রতিবেশীদের ভিড় দেখা যায়। ৪ বছর আগে ধার-দেনা করে মেয়েকে সৌদি পাঠিয়েছিলেন। ফজল মিয়া বলেন, ‘দালালের মাধ্যমে সৌদিতে চাকরির জন্য পাঠিয়েছিলাম মেয়েকে। পরে একদিন ফোন করে জেলে যাওয়ার খবর জানায়।’।
সুইটির মা জহুরা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান, তার মেয়ের সঙ্গে প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে কোনো যোগাযোগ নেই। তবে শেষবার ১৫ দিন আগে ফোন করে সুইটি জানিয়েছিল যে, দুই মাসের মধ্যে সে মুক্তি পেয়ে বাড়ি ফিরবে। মক্কায় কর্মরত অন্য নারীকর্মীদের সঙ্গে বিবাদের জেরে তাকে ফাঁসিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছিল বলে সুইটি ফোনে তার পরিবারকে জানিয়েছিল। সেই দীর্ঘ কারাবাসের সময় এক বছর মেয়ের কোনো খোঁজই পাননি তারা। ১৫ দিন আগের ফোনেও সুইটি তার বিচারের বিষয়ে কোনো কথা বলেনি, কেবল মুক্তির আশার কথাই শুনিয়েছিল। সেখান থেকে ১৫ দিন আগেও ফোন করেছিলেন। আমার মেয়ে সুইটির কী হয়েছে, এ বিষয়ে এখনও পরিস্কার করে কিছু জানি না। জানিয়েছিলেন জেল থেকে মুক্তি পাবেন কয়েক মাসের মধ্যেই।
এদিকে, বিভিন্ন মানুষের কাছ থেকে সুইটির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ার খবর শোনার পর থেকেই বাবা ফজল মিয়া ও মা জহুরা বেগম দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের কিছুই জানানো হয়নি। ফজল মিয়া বলেন, মেয়ের ভাগ্যে ঠিক কী ঘটেছে এবং সে আসলেই বেঁচে আছে কি না, তা নিয়ে তারা এখনো অন্ধকারে আছেন। কেবল মানুষের কাছে শোনা তথ্যের ওপর ভিত্তি করে তারা এখন বড় অনিশ্চয়তায় দিন পার করছেন। বিভিন্ন জন বিভিন্নভাবে মতামত ও প্রতিবাদ করছেন।
সুইটির বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে স্থানীয় মহেরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বিভাস সরকার নুপুর এবং মির্জাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল্লাহ আল মামুন জানিয়েছেন, এ বিষয়ে সরকারি কোনো পর্যায় থেকে তাদের কাছে এখনো কোনো তথ্য আসেনি। পরিবারটি এখন শুধু সরকারের কাছ থেকে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে এবং জীবিত বা মৃত যে অবস্থাতেই হোক, তারা তাদের মেয়েকে ফিরে পাওয়ার আকুতি জানিয়েছেন।
















