আজ ৮ সেপ্টেম্বর বিশ্ব ফিজিওথেরাপি দিবস। ১৯৫১ সালে বিশ্ব ফিজিওথেরাপি সংস্থা প্রতিষ্ঠার পর থেকে ১৯৯৬ সাল থেকে প্রতিবছর এই দিনটি পালন করা হচ্ছে। ফিজিওথেরাপিস্টদের কাজের গুরুত্ব ও অবদান জনসমক্ষে তুলে ধরাই এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যমতে, প্রতিবছর বিশ্বে দুই কোটির বেশি মানুষ হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান, যা মোট মৃত্যুর প্রায় ৩০ শতাংশের বেশি। এর মধ্যে তিন-চতুর্থাংশেরও বেশি মৃত্যু ঘটে বাংলাদেশসহ নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে।
এই প্রেক্ষাপটে ২০২৬ সালের বিশ্ব ফিজিওথেরাপি দিবসের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘হৃদ্রোগ ও স্ট্রোক প্রতিরোধ, ব্যবস্থাপনা এবং পুনর্বাসনে ফিজিওথেরাপি ও শারীরিক কার্যক্রমের ভূমিকা’। এই প্রতিপাদ্যের মাধ্যমে এটি স্পষ্ট করা হয়েছে যে, কেবল আঘাত-পরবর্তী পুনর্বাসন নয়, বরং হৃদ্রোগ বা স্ট্রোকের পর রোগীর হাঁটাচলা, শারীরিক ভারসাম্য ও শক্তি পুনরুদ্ধারে ফিজিওথেরাপিস্টদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সড়ক দুর্ঘটনা, বার্ধক্যজনিত সমস্যা এবং দীর্ঘমেয়াদি ব্যথার প্রকোপ বাড়ায় বর্তমানে বিশ্বজুড়ে চিকিৎসাব্যবস্থায় ফিজিওথেরাপি একটি অপরিহার্য অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বাংলাদেশে ফিজিওথেরাপি সেবার চাহিদা বাড়লেও এই খাতে আইনি সুরক্ষার অভাব রয়েছে। ২০১৮ সালে ‘বাংলাদেশ রিহ্যাবিলিটেশন কাউন্সিল’ গঠিত হলেও তা এখনো পূর্ণাঙ্গভাবে কার্যকর হয়নি। ফলে ‘ফিজিওথেরাপিস্ট’ পদবিটি আইনি সুরক্ষা না পাওয়ায় অনেকেই ভুয়া পরিচয় দিয়ে সেবা দিচ্ছেন, যা রোগীদের জন্য বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করছে।
বাংলাদেশ ফিজিওথেরাপি অ্যাসোসিয়েশন দিবসটি উপলক্ষে বেশ কিছু দাবি ও সংকল্প তুলে ধরেছে। তাদের প্রধান দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘বাংলাদেশ রিহ্যাবিলিটেশন কাউন্সিল’কে পূর্ণাঙ্গরূপে কার্যকর করা। তারা চায় এটি বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের আদলে একটি স্বতন্ত্র নিয়ন্ত্রক পরিষদ হিসেবে কাজ করবে, যা ফিজিওথেরাপিস্টদের নিবন্ধন, যোগ্যতা যাচাই এবং পেশাগত মানদণ্ড নিশ্চিত করবে।
এছাড়া ফিজিওথেরাপি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মানোন্নয়ন, নতুন ফিজিওথেরাপি কলেজ প্রতিষ্ঠা এবং সরকারি স্বাস্থ্যসেবা কাঠামোয় স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী ফিজিওথেরাপিস্টদের যথাযথ পদমর্যাদায় নিয়োগের দাবি জানানো হয়েছে। পাশাপাশি প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা পর্যায়ে ফিজিওথেরাপি সেবা সম্প্রসারণের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে, যাতে হৃদ্রোগ, স্ট্রোক, ডায়াবেটিস ও দীর্ঘমেয়াদি ব্যথায় আক্রান্ত রোগীরা সময়মতো পুনর্বাসন সেবা পেতে পারেন।
দিবসটি উপলক্ষে আজ দেশের বিভিন্ন মেডিকেল কলেজ, হাসপাতাল ও ফিজিওথেরাপি প্রতিষ্ঠানে সেমিনার, বিনা মূল্যে স্বাস্থ্য পরীক্ষা ক্যাম্প, র্যালি ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে। এসব অনুষ্ঠানে হৃদ্রোগ প্রতিরোধে শারীরিক সক্রিয়তার গুরুত্ব এবং পেশাগত আইনি স্বীকৃতির দাবিগুলো জোরালোভাবে তুলে ধরা হয়। বাংলাদেশ ফিজিওথেরাপি অ্যাসোসিয়েশনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং মিরপুর সিআরপির জুনিয়র কনসালট্যান্ট তানজির-উজ-জামান এ বিষয়ে পেশাগত মানদণ্ড নিশ্চিতের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ফিজিওথেরাপিস্টদের গুরুত্ব ও অবদানকে জনসমক্ষে তুলে ধরার লক্ষ্যে ১৯৯৬ সাল থেকে সংস্থাটি দিনটি পালন করে আসছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এতে রোগীরা স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তাঝুঁকিতে পড়ছে।












