ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের হামলা থেকে সুরক্ষায় সৌদি আরবকে সামরিক সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাজ্য। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম জানিয়েছেন, সৌদি আরবের যুদ্ধবিমানগুলোকে আকাশপথে জ্বালানি সরবরাহে সহায়তা করবে ব্রিটেনের রয়্যাল এয়ার ফোর্স (আরএএফ)। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্ক যাওয়ার পথে বিমানে সাংবাদিকদের সামনে তিনি এই সিদ্ধান্তের কথা জানান।
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর মতে, এই পদক্ষেপ ব্রিটেন ও সামগ্রিক আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ। সৌদি আরব বারবার হামলার শিকার হচ্ছে এবং সামনের দিনগুলোতে পরিস্থিতির আরও অবনতির আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে লোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যপথগুলো সচল রাখা জরুরি, কারণ বিশ্বের মোট বাণিজ্যের প্রায় ১২ শতাংশ এই পথ দিয়েই পরিচালিত হয়। এই পথে সৌদি বাণিজ্যিক জাহাজ ও জ্বালানি অবকাঠামো হুথিদের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে। বার্নহাম বলেন, ‘আমি ব্রিটেন ও বৃহত্তর অঞ্চলের স্বার্থ রক্ষায় পদক্ষেপ নিচ্ছি। আমাদের তেল পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথগুলো খোলা রাখতে হবে।’।
প্রতিরক্ষামূলক অভিযানের অংশ হিসেবে আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই ব্রিটিশ আরএএফ ভয়েজার ট্যাংকার বিমান কাজ শুরু করবে। বার্নহাম স্পষ্ট করেছেন যে, এই সামরিক সহায়তা সাময়িকভাবে কয়েক সপ্তাহের জন্য দেওয়া হবে এবং পরিস্থিতির ওপর নিয়মিত নজর রাখা হবে। এর আগে হুথিদের সাম্প্রতিক হামলার কড়া নিন্দা জানিয়েছে লন্ডন। তারা জানিয়েছে, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা রক্ষা এবং বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষায় অংশীদারদের সঙ্গে যুক্তরাজ্য কাজ করে যাবে। এসব যুদ্ধবিমান ‘প্রতিরক্ষামূলক’ অভিযানে থাকবে।
ইয়েমেনের সংঘাত সম্প্রতি নতুন মোড় নিয়েছে। হুথিরা সৌদি আরবের ভূখণ্ড লক্ষ্য করে ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার অব্যাহত রেখেছে। এমনকি গত শনিবার রিয়াদকে লক্ষ্য করে চালানো হামলা দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা প্রতিহত করেছে। এর পাশাপাশি বাব আল-মান্দেব প্রণালিতে অবরোধ ঘোষণা ও কৌশলগত বন্দরনগরী মোকা দখলের মাধ্যমে সমুদ্রপথের ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণ বাড়ানোর চেষ্টা করছে গোষ্ঠীটি। ইয়েমেনে এরই মধ্যে সংঘাত আবারও তীব্র হয়েছে। চলতি মাসের শুরুতে ইয়েমেনের উপকূলীয় এলাকায় আরো অগ্রসর হয় হুথিরা। এতে সমুদ্রপথে জাহাজ চলাচলের ওপর নজরদারির সক্ষমতা আরো বেড়েছে গোষ্ঠীটির।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় সৌদি আরব আনুষ্ঠানিকভাবে বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক শক্তির কাছে আকাশ প্রতিরক্ষা সহায়তা চেয়েছে। এর মধ্যে ফ্রান্স, মিশর ও পাকিস্তানের কাছেও অনুরোধ পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে। অতীতে যুক্তরাষ্ট্র হুথিদের বিরুদ্ধে সরাসরি সামরিক পদক্ষেপ নিলেও বর্তমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ওয়াশিংটন সরাসরি হস্তক্ষেপের বিষয়ে অনাগ্রহ প্রকাশ করেছে। এমন পরিস্থিতিতেই যুক্তরাজ্যের এই সহায়তার ঘোষণা সামনে এলো। তবে সর্বশেষ উত্তেজনার মধ্যে ওয়াশিংটন সামরিকভাবে হস্তক্ষেপে আগ্রহ দেখাচ্ছে না।
















