Friday , 9 October 2026 | [bangla_date]
  1. অন্যান্য
  2. আন্তর্জাতিক
  3. ই-পেপার
  4. খেলা
  5. জনপ্রিয়
  6. জাতীয়
  7. দুর্যোগ
  8. দেশের খবর
  9. বাণিজ্য
  10. বিনোদন
  11. রাজনীতি

সখীপুরে ছেলের সঙ্গে বিরোধ মেটানো বৃদ্ধ দম্পতি ফিরলেন বাড়িতে

প্রতিবেদক

October 9, 2026 7:35 am

টাঙ্গাইলের সখীপুরে সম্পত্তি হাতবদলের ঘটনায় সৃষ্ট বিরোধের জেরে ঘরছাড়া বৃদ্ধ দম্পতি আবদুর রহমান ও তাঁর স্ত্রী আনোয়ারা বেগম অবশেষে নিজেদের বাড়িতে ফিরেছেন। স্থানীয় সংসদ সদস্য ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খানের মধ্যস্থতায় গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তাঁরা পুনরায় সখীপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পাশে অবস্থিত নিজেদের তিনতলা ভবনে ওঠেন। মন্ত্রী ওই দিন সন্ধ্যায় দম্পতির সঙ্গে দেখা করে লন্ডনপ্রবাসী চিকিৎসক ছেলে শাহ জালালের সঙ্গে মুঠোফোনে কথা বলেন এবং সেখানে উপস্থিত স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেন।

পরিবারের ভরণপোষণের জন্য ওই প্রবাসী ছেলে প্রতি মাসে এক লাখ টাকা করে পাঠাবেন বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী। এই আশ্বাসের পরপরই বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় দম্পতির হাতে প্রথম মাসের এক লাখ টাকা তুলে দেওয়া হয়। উল্লেখ্য যে, সখীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সাবেক চিকিৎসা কর্মকর্তা আবদুর রহমান প্রায় চার দশক আগে সেখানে ২৪ শতাংশ জমি কিনে এই ভবনটি নির্মাণ করেছিলেন। এছাড়া মির্জাপুর উপজেলার আজগানা ইউনিয়নের কড়িপাড়ার বদরচালা এলাকায়ও তাঁদের পৈতৃক জমি রয়েছে।

সম্পত্তি লিখে নেওয়ার পর তাঁদের বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়েছিল বলে আনোয়ারা বেগম অভিযোগ করেছিলেন। তাঁর ভাষ্যমতে, তিনি ও তাঁর স্বামী স্বেচ্ছায় দলিল করেননি, বরং তাঁদের বাড়ি ছাড়তে বাধ্য করা হয়েছিল। এ বিষয়ে তিনি আদালতে দলিল বাতিলের মামলা করেছেন এবং টাঙ্গাইল জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের কাছে মারধরের লিখিত অভিযোগও দায়ের করেছেন। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ছেলে শাহ জালাল। তাঁর দাবি, বাবা-মায়ের সম্মতিতেই ইসলামি শরিয়াহ আইন অনুযায়ী সখীপুরের সম্পত্তি ছোট বোন ও মা এবং নিজের নামে হেবা দলিল করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে শাহ আলমের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাঁকে ও তাঁর স্বামীকে বাড়ি ছেড়ে যেতে চাপ দেওয়া হয়েছিল।

ছেলের দাবি অনুযায়ী, সম্পত্তি নিবন্ধনের প্রক্রিয়াটি টানা ১০ দিন ধরে চলেছিল এবং ওই সময় তাঁর মা কোনো আপত্তি না জানিয়েই দলিলে স্বাক্ষর করেছিলেন। সখীপুর উপজেলা সাবরেজিস্ট্রার মাহমুদা আক্তারও নিশ্চিত করেছেন যে, নিয়ম মেনেই তিনটি দলিল সম্পন্ন হয়েছে এবং নিবন্ধনের সময় জোরজবরদস্তির কোনো ঘটনা তাঁর নজরে পড়েনি। এর আগে কয়েক বছর আগে আবদুর রহমান অসুস্থ হওয়ার পর থেকেই পরিবারে বিরোধের সূত্রপাত ঘটে। শাহ জালালের অভিযোগ, তাঁর বড় বোনের স্বামী কৌশলে মির্জাপুরের প্রায় ২০ শতাংশ জমির বড় একটি অংশ হাতিয়ে নিয়েছেন এবং বাবার পেনশনের ৩০ লাখ টাকাও আত্মসাত করেছেন। শাহ জালালের অভিযোগ, তাঁর বড় বোনের স্বামী কৌশলে মির্জাপুরের প্রায় ২০০ শতাংশ জমির মধ্যে ১০৭ শতাংশ লিখে নেন।

বর্তমানে পুরো পরিস্থিতি নিয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ তৎপর হয়েছেন। মন্ত্রী উপস্থিত থাকার সময় সখীপুর ইউএনও আশরাফুল আলম, সহকারী পুলিশ সুপার মামুনুর রশিদ, ওসি মুরাদ হোসেন এবং স্থানীয় বিএনপি নেতা খোরশেদ আলম ও নাজিম উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন। ইউএনও জানিয়েছেন, আপাতত বাবা-মায়ের সঙ্গে প্রবাসী ছেলের এই বিরোধ মিটেছে এবং দম্পতির নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তবে মারধরের অভিযোগে তদন্তকারী কর্মকর্তা টাঙ্গাইল ডিবি পুলিশের এএসআই রিয়াজ আহমেদ এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো মন্তব্য করেননি। দম্পতিকে সম্মানের সঙ্গে ফিরিয়ে আনার মধ্য দিয়ে আপাতত এই পারিবারিক সংকটের আপাত সমাধান হয়েছে বলে স্থানীয়ভাবে জানানো হয়েছে।

সর্বশেষ - Uncategorized