ইলিশ মাছে থাকা ওমেগা ৩ ফ্যাটি অ্যাসিড স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত উপকারী। মাছটি কোথায় ধরা হয়েছে এবং তার প্রাকৃতিক পরিবেশ কেমন, তার ওপর নির্ভর করে এর চর্বি ও পুষ্টিগুণ। ইলিশ মাছের স্বাস্থ্যগত উপকারিতা নিচে তুলে ধরা হলো মাছের খাদ্যাভ্যাস ও বাসস্থানের প্রকৃতি স্বাদকেও প্রভাবিত করে।
- ইলিশে থাকা ডিএইচএ এবং ইপিএ ধরনের ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড হৃদ্রোগের ঝুঁকি কমায়, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখে এবং রক্ত সঞ্চালন প্রক্রিয়া উন্নত করে।
- এটি অত্যন্ত উচ্চ মানের প্রোটিনসমৃদ্ধ মাছ। প্রতি ১০০ গ্রাম ইলিশে ২০ থেকে ২৫ গ্রাম প্রোটিন পাওয়া যায়।
- মাছটিতে থাকা ক্যালসিয়াম, ফসফরাস ও ম্যাগনেশিয়াম হাড়ের গঠনে ও মজবুত করতে ভূমিকা রাখে।
- ইলিশে বিদ্যমান ভিটামিন এ, ডি, জিংক এবং সেলেনিয়াম শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় ও সংক্রমণের বিরুদ্ধে সুরক্ষা দেয়।
- এর মধ্যে থাকা আরজিনিন উপাদান ক্যানসার প্রতিরোধে সহায়তা করে এবং ইলিশ খেলে মস্তিষ্কে ‘ফিল গুড’ বা মন ভালো রাখার হরমোনের নিঃসরণ বৃদ্ধি পায়।
পুষ্টিগুণে ভরপুর হলেও কিছু ক্ষেত্রে এই মাছ খাওয়ার সময় সাবধানতা অবলম্বন করা জরুরি
- যাঁদের সামুদ্রিক খাবারে অ্যালার্জি রয়েছে, তাঁদের ইলিশ খাওয়া থেকে বিরত থাকা উচিত।
- রান্নার ধরনে পুষ্টির তারতম্য হয়। ডুবো তেলে ভাজা, সস বা টেস্টিং সল্ট ব্যবহার করলে উপকারের বদলে ক্ষতি হয়। প্রতি ১০০ গ্রাম বেক করা ইলিশে ২৫০ ক্যালরি থাকলেও ভেজে রান্না করলে তা ৩৫০ ক্যালরি ছাড়িয়ে যায়। তাই ভাপিয়ে, গ্রিল করে বা অল্প তেলে রান্না করাই স্বাস্থ্যকর।
- ইলিশে ফসফরাস ও সোডিয়ামের পরিমাণ বেশি থাকায় কিডনি রোগীদের বিশেষজ্ঞের পরামর্শ মেনে চলা প্রয়োজন।
- অঞ্চলভেদে ইলিশে পারদ ও দূষক পদার্থ থাকতে পারে। তাই গর্ভবতী নারী, স্তন্যদানকারী মা এবং শিশুদের এই বিষয়ে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত।
- ইলিশ মাছের ডিমে কোলেস্টেরল ও সোডিয়ামের পরিমাণ বেশি থাকে, তাই উচ্চ রক্তচাপ বা উচ্চ কোলেস্টেরলের রোগীদের এটি এড়িয়ে চলাই ভালো।
লিনা আকতার, পুষ্টিবিদ, রাইয়ান হেলথকেয়ার হসপিটাল অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টার, দিনাজপুর এই বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দিয়েছেন।
















