যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে বৈশ্বিক তেলের দাম চড়া রাখার লক্ষ্যে হরমুজ প্রণালিতে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার কৌশল পরিবর্তন করেছে ইরান। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা শুরুর পর থেকেই ইরান কৌশলগত এই জলপথের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চালিয়ে আসছে। যুদ্ধের আগের হিসাব অনুযায়ী, বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় ২০ শতাংশ এই পথ দিয়েই সরবরাহ করা হতো। বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদন / সারে ভর্তুকির অর্ধেকই যাচ্ছে বড় কৃষকদের কাছে। হুতি হামলায় সৌদি আরামকোতে আগুন, রিয়াদে আহত ৪। হুতি হামলার মুখে প্রাসাদ বদলাচ্ছেন সৌদি যুবরাজ সালমান। হামলার ধরন ও গতি দুটোই বদলানো হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনের ফলাফলে প্রভাব ফেলাও এর একটি উদ্দেশ্য।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইরানের দুই জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, প্রায় ১০ দিন আগে থেকে নিষেধাজ্ঞা অমান্যকারী জাহাজগুলোর ওপর নতুন কৌশলে হামলা চালানো হচ্ছে। তেহরানের মূল লক্ষ্য হলো বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমাতে যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের মিত্রদের নেয়া যেকোনো পদক্ষেপ ব্যর্থ করে দেওয়া। এর অংশ হিসেবে ইরান এমন পরিস্থিতি তৈরি করতে চাইছে যাতে কোনো জাহাজই তাদের নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে হরমুজ পার হতে না পারে। এমনকি অদূর ভবিষ্যতে প্রণালিটি পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়ারও হুমকি দিয়েছে দেশটি। গ্রাহকের আমানত ফেরত দিতে ৭ হাজার কোটি টাকা ধার পেল ন্যাশনাল ব্যাংক। তেহরানের দুই জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার বরাত দিয়ে আজ মঙ্গলবার বার্তাসংস্থা রয়টার্স এ তথ্য জানিয়েছে।
সামরিক বিশ্লেষণে উঠে এসেছে, ইরানের রাডার ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এখন ছোট নৌযান ব্যবহার করে নজরদারি চালাচ্ছে। এসব নৌযানে থাকা নিরস্ত্র পর্যবেক্ষকরা সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু ও মার্কিন যুদ্ধজাহাজের তথ্য আইআরজিসিকে সরবরাহ করছে। সাম্প্রতিক এমন একটি ঘটনায় মার্কিন বাহিনী একটি ছোট নৌযান ধ্বংস করেছে।
সাম্প্রতিক দিনগুলোতে হরমুজ ও ওমান উপসাগর এলাকায় বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনা যুদ্ধের শুরুর তুলনায় সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও ইউকেএমটিওর তথ্য অনুযায়ী, গত ৪৮ ঘণ্টায় অন্তত পাঁচটি জাহাজে হামলার ঘটনা ঘটেছে। ওমান উপসাগরসহ কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের উপকূলের কাছাকাছি এলাকায় হামলার পরিধি বাড়ানোর ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
যুক্তরাষ্ট্র নেতৃত্বাধীন জয়েন্ট মেরিটাইম ইনফরমেশন সেন্টার (জেএমআইসি) জানিয়েছে, হরমুজে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের ঝুঁকি এখনো চরম পর্যায়ে রয়েছে। ড্রোন নজরদারি, পর্যবেক্ষণ এবং রেডিওর মাধ্যমে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছে ইরান।
ইরানের বর্তমান অবস্থান ও পরিকল্পনা
- প্রেসিডেন্টের বক্তব্য: হরমুজ প্রণালি পুনরায় সচল করার জন্য নতুন পরিকল্পনায় দেশটির সর্বোচ্চ নেতার পূর্ণ সমর্থন রয়েছে।
- শর্তসাপেক্ষ প্রস্তাব: যুক্তরাষ্ট্র সব ধরনের অর্থনৈতিক অবরোধ তুলে নিলে মাত্র সাত দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত করতে ইরান প্রস্তুত।
- সাবেক মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রীর অভিমত: ট্রাম্পের অধীনে ইরানে চলমান যুদ্ধের স্থায়িত্ব কতদিন হবে, তা নিয়ে নানামুখী পর্যবেক্ষণ ও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।














