আবাসন খাতে স্থায়িত্ব এবং আস্থার জায়গাটি ধরে রাখতে শুরু থেকেই গুণগত মান ও প্রতিশ্রুতি রক্ষার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে আসছে এসইএল। প্রতিষ্ঠানটির মতে, নকশাগত সৌন্দর্যের চেয়েও ভবনের অবকাঠামোগত নিরাপত্তা বেশি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ মানুষের জীবনের সুরক্ষার সাথে কোনো আপস করা সম্ভব নয়। একই সাথে মানসম্মত ইলেকট্রিক্যাল, প্লাম্বিং ও অগ্নিনির্বাপণব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি। নির্ধারিত সময়ে প্রকল্প হস্তান্তর ব্যবসার মূল ভিত্তি হিসেবে কাজ করে, কারণ সময়মতো ফ্ল্যাট না পেলে ক্রেতা ও জমির মালিক উভয়েই ক্ষতিগ্রস্ত হন। নিজস্ব অর্থায়নে কাজ করায় বিলম্ব হলে নির্মাতা প্রতিষ্ঠানও লোকসানের সম্মুখীন হয়, তাই সঠিক সময়ে কাজ সম্পন্ন করা উভয় পক্ষের জন্যই লাভজনক। আমরা নিজস্ব অর্থায়নে কাজ করি; তাই বিলম্ব হলে আমাদেরও লোকসান হয়। ডিজাইন দুর্বল হলে ভালো মালামাল ব্যবহার করেও লাভ হয় না। এ ছাড়া ভবনের ভেতরে নিরাপদ স্থান রাখা এবং বিপদের সময় দ্রুত বের হওয়ার পথ সুনির্দিষ্ট রাখাও আমরা নিশ্চিত করি। বর্তমানে আপনারা কোন শ্রেণির মানুষের জন্য ফ্ল্যাট নির্মাণ করছেন এবং ক্রেতাদের চাহিদায় কী পরিবর্তন দেখছেন।
বর্তমান সময়ে একক পরিবারের সংখ্যা বাড়ার ফলে মানুষের চাহিদায় বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। এখন ক্রেতারা ৯০০ থেকে ১২০০ বর্গফুটের কম্প্যাক্ট ও সহজে রক্ষণাবেক্ষণযোগ্য ফ্ল্যাটের দিকে ঝুঁকছেন। এছাড়া আধুনিক ক্রেতারা এখন ওপেন কিচেন, ফ্লেক্সিবল ফার্নিচার এবং ভবনের ভেতর জিম, রানিং ট্র্যাক ও কমিউনিটি স্পেসের মতো যৌথ সুযোগ-সুবিধা বেশি পছন্দ করেন। আবাসন কোম্পানিগুলোও এসব আধুনিক চাহিদাকে প্রাধান্য দিয়ে প্রকল্পের নকশা করছে।
নির্মাণসামগ্রীর উচ্চ মূল্যের কারণে আবাসন খাত বর্তমানে বেশ চ্যালেঞ্জের মুখে। নির্মাণ খরচ বাড়লে ফ্ল্যাটের দামে বড় ধরনের প্রভাব পড়ে। এ বিষয়ে আবদুর রহমান জানান, মালামালের দাম যদি ১০০ টাকা বাড়ে, তবে ফ্ল্যাটের চূড়ান্ত দামে এর প্রভাব পড়ে ২০০ টাকা পর্যন্ত। কারণ, ডেভেলপারকে জমির মালিকের অংশের নির্মাণ খরচও বহন করতে হয়। জ্বালানি ও পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধির ফলে ফ্ল্যাটের দাম সাধারণ ক্রেতার ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে, যার নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে বিক্রির ওপর।
ভবিষ্যৎ আবাসন নিয়ে পরিকল্পনার বিষয়ে তিনি জানান, এখন পরিবেশবান্ধব গ্রিন বিল্ডিং তৈরিতে জোর দেওয়া হচ্ছে। আইএফসির এজ (EDGE) সার্টিফায়েড প্রকল্পসহ স্মার্ট প্রযুক্তি, সেন্সর লাইট ও বর্জ্য শোধনব্যবস্থা যুক্ত হচ্ছে নতুন আবাসন প্রকল্পে। ভূমিকম্প-সহনশীল ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে সঠিক স্ট্রাকচারাল ডিজাইন ও উন্নত নির্মাণসামগ্রীর সমন্বয়ের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড মেনে নকশা করা এবং ভবনে নিরাপদ স্থান ও জরুরি নির্গমনের পথ সুনিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। ভূমিকম্প–সহনশীল ভবন নির্মাণে আপনাদের নজর কতটা।
পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় ঢাকার ভবিষ্যৎ আবাসন প্রকল্পে জলাবদ্ধতা নিরসন এবং বৃষ্টির পানি শোষণের জন্য বিধিমালা অনুযায়ী প্লটের একটি অংশ উন্মুক্ত রাখা প্রয়োজন। অনেক ক্ষেত্রে ব্যবসায়িক লাভের চেয়ে পরিবেশকে গুরুত্ব দিয়ে অতিরিক্ত পার্কিং না করে খালি জায়গা রাখা হচ্ছে। এছাড়া বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য সুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট বা এসটিপি স্থাপন এবং ঘরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে তাপপ্রতিরোধী ব্লকের ব্যবহার বাড়ছে। জলাবদ্ধতা, তাপমাত্রা বৃদ্ধি ও উপযোগ সেবার চাপ—ঢাকার ভবিষ্যৎ আবাসনে এসব ঝুঁকি মোকাবিলায় কী প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ঘরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে ভবন এমনভাবে নকশা করি, যেন পর্যাপ্ত আলো-বাতাস পেলে এসির নির্ভরতা কমে।
সাধারণ মানুষের জন্য আবাসন সহজলভ্য করার লক্ষ্যে সরকারি উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে আবদুর রহমান বলেন, প্রথমত, সরকার নিজে ২৫ বছর মেয়াদি দীর্ঘমেয়াদি ঋণসুবিধাসহ সাশ্রয়ী মূল্যের আবাসন প্রকল্প গ্রহণ করতে পারে। দ্বিতীয়ত, বেসরকারি খাতের ফ্ল্যাট কেনার ক্ষেত্রে ব্যাংক ঋণের সুদের হার সহনীয় পর্যায়ে নামিয়ে আনা এবং দীর্ঘমেয়াদে ঋণ পরিশোধের সুযোগ দেওয়া প্রয়োজন। যথাযথ সরকারি নীতি সহায়তা পেলে মধ্যবিত্তের জন্য ফ্ল্যাট কেনার বিষয়টি আরও সহজ হবে।

















