নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসের সানাই রেস্টুরেন্ট মিলনায়তনে বাংলাদেশ সোসাইটির ২০২৬ সালের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আয়োজন করা হয়েছে এক বিশেষ নির্বাচনী বিতর্কের। আগামী ৭ অক্টোবর বুধবার সন্ধ্যা ৭টায় অনুষ্ঠেয় এই আয়োজনে অংশ নেবেন সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদের প্রার্থীরা। বাংলাদেশি কমিউনিটির অন্যতম বৃহৎ এই সংগঠনের নির্বাচন ঘিরে ভোটারদের মধ্যে বেশ আগ্রহ তৈরি হয়েছে। পুরো আয়োজনটি পরিচালনা করছে ফাউন্ডেশন ফর বেটার ওয়ার্ল্ড নামের একটি সংগঠন। আয়োজক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই বিতর্ক অনুষ্ঠানটি কেবল আমন্ত্রিত অতিথিদের জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়েছে। এই নির্বাচনী বিতর্ক সঞ্চালনা করবেন বিশিষ্ট সাংবাদিক ও উপস্থাপক খালেদ মুহিউদ্দীন। ‘নেতৃত্ব, স্বচ্ছতা, সেবা: আমার ভবিষ্যত’-এই মূল প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে সাজানো হয়েছে পুরো আয়োজন। সাধারণ সম্পাদক পদে রয়েছেন মোহাম্মদ আলী, ফিরোজ আহমেদ ও রাব্বি সৈয়দ। বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচন ঘিরে সাধারণত প্রচারণা, সভা-সমাবেশ ও ব্যক্তিগত যোগাযোগের ওপরই বেশি জোর দেখা যায়।
নির্বাচনী বিতর্কে অংশগ্রহণকারী সভাপতি পদের দুই প্রার্থী হলেন আতাউর রহমান সেলিম ও আজমল হোসেন কুনু। প্রার্থীদের দায়িত্বের ভিন্নতার কথা বিবেচনা করে অনুষ্ঠানটিতে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থীদের জন্য পৃথক প্রশ্ন এবং আলাদা পর্ব সাজানো হয়েছে। বিতর্কের অংশ হিসেবে সভাপতি প্রার্থীদের কাছে জানতে চাওয়া হবে, বিজয়ী হলে তাদের মেয়াদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তিনটি কাজ কী হবে। এছাড়া বর্তমান নেতৃত্বের তুলনায় তারা কীভাবে ভিন্নভাবে সংগঠন পরিচালনা করবেন এবং সদস্যদের কাছে প্রশাসনের জবাবদিহি নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে তাদের কর্মপন্থা কী হবে, তাও জানতে চাইবেন আয়োজকরা। প্রথাগত নির্বাচনী সভা কিংবা প্রচার নয়, বরং প্রার্থীদের পরিকল্পনা, নেতৃত্বের সক্ষমতা, জবাবদিহি এবং সংগঠনের ভবিষ্যৎ নিয়ে সরাসরি প্রশ্নোত্তরের মধ্য দিয়ে ভোটারদের সামনে প্রার্থীদের অবস্থান তুলে ধরাই এই আয়োজনের লক্ষ্য। শুরুতেই প্রার্থীরা নিজেদের পরিচয়, নির্বাচনে অংশ নেওয়ার কারণ এবং বাংলাদেশ সোসাইটি নিয়ে তাদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরবেন। এখানে বাংলাদেশ সোসাইটির আর্থিক স্বচ্ছতা, সদস্যপদ প্রক্রিয়া, সক্রিয় সদস্যসংখ্যা বৃদ্ধি, নতুন প্রজন্মকে সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত করা এবং সদস্যদের সরাসরি উপকারে আসে, এমন নতুন কর্মসূচি নিয়ে প্রার্থীদের অবস্থান জানতে চাওয়া হবে।
সভাপতি প্রার্থীদের জন্য বিতর্কের একটি বিশেষ ও গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে থাকছে “প্রথম ১০০ দিন” শীর্ষক পরিকল্পনা। নির্বাচিত হলে প্রথম ১০০ দিনের মধ্যে তারা কোন সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন, তা ভোটার ও সদস্যদের সামনে স্পষ্ট করার সুযোগ পাবেন দুই প্রার্থী। পাশাপাশি পুরো বিতর্কে নতুন প্রজন্মের অংশগ্রহণ ও তাদের মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে পৃথক আলোচনার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। আয়োজকরা আশ্বস্ত করেছেন যে, পুরো বিতর্কে প্রত্যেক প্রার্থীর জন্য সমান সময় বরাদ্দ থাকবে এবং শৃঙ্খলা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ বজায় রেখে বিতর্কটি পরিচালিত হবে। আয়োজকদের পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রায় এক ঘণ্টার এই বিতর্কে প্রত্যেক প্রার্থীকে সমানভাবে বক্তব্য রাখার সুযোগ দেওয়া হবে।
















