নারায়ণগঞ্জ শহরের চাষাঢ়ায় সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত শুভ চন্দ্র দাস ওরফে মো. বিল্লাল (৩২) হত্যাকাণ্ডের ছয় দিন পেরিয়ে গেলেও এখনো তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়নি। নিহত ব্যক্তির ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে মা ও বাবার মধ্যে তীব্র মতভেদ ও টানাপোড়েন তৈরি হওয়ায় মরদেহটি বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হিমঘরে রাখা হয়েছে।
পরিবারের তথ্য অনুযায়ী, ২০০৩ সালে শুভর মা পার্বতী রানী দাস তিন সন্তানসহ হিন্দুধর্ম ত্যাগ করে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন এবং আয়েশা বেগম নাম ধারণ করেন। তখন থেকেই শুভ ও তাঁর ভাই সুজন মুসলিম পরিচয়ে বড় হয়েছেন। শুভ আট বছর আগে জ্যোতি আক্তার নামে এক মুসলিম তরুণীকে বিয়ে করেন এবং তাঁদের সংসারে দুই বছর বয়সী এক কন্যা সন্তান রয়েছে। তবে জাতীয় পরিচয়পত্রে শুভর নাম পরিবর্তন করা হয়নি।
ঘটনার সূত্রপাত ৫ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাত সোয়া একটার দিকে, যখন চাষাঢ়া হকার্স মার্কেটের পেছনের সড়কে শুভকে গুলি করে হত্যা করা হয়। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে পাঁচটি গুলির খোসা ও ১০০টি ইয়াবা উদ্ধার করে। তদন্ত সংশ্লিষ্টদের ভাষ্যমতে, ইয়াবার বিনিময়ে এক সহযোগীর মাধ্যমে শুভকে ঘটনাস্থলে ডেকে নিয়ে ১০ থেকে ১২ জনের একটি দল তাঁকে গুলি ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে। এ ঘটনায় ইতিমধ্যে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত বিদেশি পিস্তল ও ম্যাগাজিন জব্দ করা হয়েছে।
নিহতের মৃত্যুর পর তাঁর মা ও স্ত্রী ইসলামি রীতিতে দাফনের উদ্যোগ নিলে বাবা হরি চন্দ্র দাস বাধা দেন। তিনি দাবি করেন, শুভ হিন্দু পরিবারে জন্মেছেন, তাই হিন্দু ধর্মীয় রীতিতেই তাঁর শেষকৃত্য হওয়া উচিত। এই বিরোধের জেরে মরদেহ প্রথমে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় রাখা হলেও পরে আদালতের নির্দেশে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হিমঘরে পাঠানো হয়।
বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়ালে শুভর মা ও ভাই উচ্চ আদালতে রিট আবেদন করেন। বৃহস্পতিবার বিচারপতি ইকবাল কবির ও বিচারপতি সাইফুল ইসলামের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চ শুভকে ইসলামি রীতিতে দাফন করার আদেশ প্রদান করেন।
নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও অপারেশন) তারেক আল মেহেদী জানান, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। রিটকারী আইনজীবী মো. জুয়েল আজাদ জানান, আদেশের কপি হাতে পাওয়ার পর রোববার পরবর্তী কার্যক্রম শুরু হবে।
নিহত শুভর স্ত্রী জ্যোতি আক্তার জানান, তাঁর স্বামী জীবিত থাকাকালে মুসলিম রীতি অনুযায়ী দাফনের ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। আদালতের আদেশের পর এখন তাঁরা মাসদাইরে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের কেন্দ্রীয় কবরস্থানে দাফনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের উপপরিদর্শক মফিজুল ইসলাম জানান, শুভর বাবা আইনজীবীর মাধ্যমে হিন্দু রীতিতে শেষকৃত্যের আবেদন করলেও আদালতের চূড়ান্ত আদেশে ইসলামি রীতিতে দাফনের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বিল্লালকে (৩২) এখনো দাফন কিংবা দাহ করা হয়নি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: প্রায় আট বছর আগে ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরে তিনি মুসলিম তরুণী জ্যোতি আক্তারকে বিয়ে করেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তাঁরা নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লার ভূঁইগড় এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: কিন্তু তাঁর শ্বশুর পুলিশ পাঠিয়ে মাসদাইর কবরস্থান থেকে মরদেহ নিয়ে গেছেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তিনি বলেন, ‘আমার স্বামী মরে গিয়েও শান্তি পাইতাছে না। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তাঁর বাবা নিজে জাতীয় পরিচয়পত্রে সৎমায়ের নাম ব্যবহার করেছেন বলেও পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়। চাকরির আরও তথ্য: হস্তান্তরের আগপর্যন্ত মরদেহ ঢাকা মেডিকেলের হিমঘরে রাখার আবেদন করলে আদালত তা মঞ্জুর করেন।















