যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল উভয় দেশই এখন গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনের অপেক্ষায় রয়েছে। এর মধ্যে ইসরাইলে সংসদ নির্বাচন এবং যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প নির্বাচনের আগ পর্যন্ত ইরানে নতুন করে বড় ধরনের হামলা না চালানোর কথা জানিয়েছেন। তবে নির্বাচনের পরই দেশটিতে তীব্র সামরিক অভিযানের জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল নির্দিষ্ট পরিকল্পনা তৈরি করে রেখেছে। এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে দুই দেশের সামরিক বাহিনী মহড়া জোরদার করেছে এবং ইরাকের আকাশসীমা ব্যবহার করে বিমান হামলার কৌশল অনুশীলন করছে। সম্প্রতি মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ ইসরাইলে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে এই বিষয়ে আলোচনা করেছেন। তাদের সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুর তালিকায় ইরানের জ্বালানি অবকাঠামো, পারমাণবিক স্থাপনা এবং ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ভাণ্ডারের মতো সংবেদনশীল স্থানগুলো রয়েছে। কর্মকর্তাদের মতে, এমন হামলার মাধ্যমে ইরানের অর্থনীতি ধসিয়ে দিয়ে দেশটিকে কূটনৈতিক আপসের টেবিলে নিয়ে আসা সম্ভব হতে পারে।
তবে এই পরিকল্পনার কার্যকারিতা নিয়ে বিশ্লেষকদের মধ্যে সংশয় রয়ে গেছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প অতীতে এ ধরনের বড় সংঘাতের অনেক পরিকল্পনা শেষ মুহূর্তে আটকে দিয়েছেন। নভেম্বরের শুরুর দিকে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন শক্তির সমাবেশ পূর্ণতা পাবে, যেখানে তিনটি বিমানবাহী রণতরী, হাজার হাজার মেরিন সেনা ও যুদ্ধবিমান মোতায়েন থাকবে। তবে ২৭শে অক্টোবরের ইসরাইলি নির্বাচন এবং মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচন পুরো পরিস্থিতিকে রাজনৈতিকভাবে জটিল করে তুলেছে। নির্বাচন ও জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির ঝুঁকি এড়াতে ট্রাম্প আপাতত কোনো পদক্ষেপে যাচ্ছেন না। তবুও হোয়াইট হাউস স্পষ্ট করেছে যে, ইরান যাতে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না পারে, সেজন্য সামরিকসহ সব বিকল্পই খোলা রাখা হয়েছে।
তেহরানও নতুন কোনো হামলার বিষয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে। ইরানের মধ্যস্থতাকারীদের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা মাহদি মোহাম্মাদি জানিয়েছেন, ওয়াশিংটন ৭২ ঘণ্টার মধ্যে অভিযান শেষ করবে—এমন ধারণা অমূলক। ইরান সাফ জানিয়েছে, কোনো হামলা হলে তা কেবল বাণিজ্যিক জাহাজ বা জ্বালানি অবকাঠামোতে সীমাবদ্ধ থাকবে না। সেক্ষেত্রে তারা ডেটা সেন্টার ও সমুদ্রের তলদেশের ইন্টারনেট কেবল লক্ষ্য করেও পাল্টা আক্রমণ চালাবে। এছাড়া পিকঅ্যাক্স পাহাড়ে পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা হলে ইরান সৌদি আরবের তেল শোধনাগারে আঘাত হেনে তেলের দাম বাড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়েছে, যা সরাসরি মার্কিন অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। তেহরানের মতে, এবারের সম্ভাব্য প্রতিরোধ আরও তীব্র, কৌশলগত এবং ভিন্নধর্মী হবে।















