Friday , 16 October 2026 | [bangla_date]
  1. অন্যান্য
  2. আন্তর্জাতিক
  3. ই-পেপার
  4. খেলা
  5. জনপ্রিয়
  6. জাতীয়
  7. দুর্যোগ
  8. দেশের খবর
  9. বাণিজ্য
  10. বিনোদন
  11. রাজনীতি

চরই যাদের ঠিকানা: বেঁচে থাকার লড়াই ও স্বপ্ন

প্রতিবেদক

October 16, 2026 7:17 am

উত্তরাঞ্চলের একসময়ের খরস্রোতা নদীগুলো এখন পলি আর বালুর স্তূপে পরিণত হয়েছে। ব্রহ্মপুত্র, তিস্তা, ধরলা, দুধকুমার বা জিনজিরামের মতো নদীগুলোর বুক চিরে প্রতি বছর জেগে উঠছে নতুন নতুন চর। পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্যমতে, বাংলাদেশে এ ধরনের প্রায় ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৫০০টি চর রয়েছে। এসব চরাঞ্চলে প্রায় ৮ লাখ ৩০ হাজার হেক্টর ভূমি রয়েছে, যা দেশের মোট ভূখণ্ডের প্রায় ৫ দশমিক ৭ শতাংশ। ২০২২ সালে পরিচালিত চর ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড সেটেলমেন্ট প্রজেক্টের (সিডিএসপি) জরিপে এই তথ্য উঠে এসেছে। ড্রেজিংয়ের অভাব ও নদীর স্বাভাবিক প্রবাহে বাধার কারণে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। নতুন পে-স্কেল / এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য লাগবে বাড়তি ১৩ হাজার ৩৯২ কোটি টাকা। ভারত-বাংলাদেশ কনস্যুলার সংলাপ শিগগির, হাসিনাকে ফেরাতে দিল্লিকে চাপ দেবে ঢাকা। মোটরসাইকেলের সামনেও থাকতে হবে নম্বর প্লেট। এক সময় শুষ্ক মৌসুমেও উত্তরাঞ্চলের যেসব নদী ছিল খরস্রোতা, এখন সেগুলোর বয়ে চলা অনেকটাই ধীর। ‘বর্ষার পর চর যেমন জেগে ওঠে, তেমন এক রাতেই নদীতে বিলীন হয়ে যেতে পারে। ষাটোর্ধ্ব এই কৃষক বলেন, ‘কৃষক বলতে পারে না ফসল ঘরে তুলতে পারবে কিনা। আর গরু-ছাগল পালন বাড়তি আয়ের পথ,’ যোগ করেন মোকছেদ। ‘চরে না গেলে অনুমান করা যাবে না যে চরে কীভাবে উন্নতি সাধিত হচ্ছে।’। কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, গাইবান্ধা, সিরাজগঞ্জ, বগুড়া, জামালপুর, টাঙ্গাইল, মানিকগঞ্জ, ফরিদপুর ও রাজবাড়ী জেলার চরাঞ্চলে উন্নয়নের চিত্র এখন স্পষ্ট, নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন তিনি। যাতায়াত ব্যবস্থা বলতে ছিল কেবল নৌকা।

চরবাসীর জীবনচিত্র ও অভিজ্ঞতার কথা

  • নজু মিয়া (৭০): চর এলাকায় জন্ম ও বেড়ে ওঠা এই কৃষক সমতলের চেয়ে চরের পরিবেশকেই বেশি আপন মনে করেন।
  • ফজলু মুন্সী (৮০): জীবনে সাতবার ঠিকানা পরিবর্তন করতে হয়েছে এই প্রবীণকে, তবুও চরের জীবনযাত্রার কৌশলে তিনি অভ্যস্ত।
  • মোকছেদ আলী (৬০-ঊর্ধ্ব): চরের অনিশ্চয়তার কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, আজ যা আছে পরের বছর তা নাও থাকতে পারে, তবুও চরের ফসলই তাদের বেঁচে থাকার সম্বল।

কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলার ‘মানুষমারার চর’ এর মতো এলাকাগুলোতে ভাঙনে সর্বস্ব হারানো প্রায় ৫০০ পরিবার নতুন করে বসতি গড়েছে। পোড়ার চরেও একই চিত্র, যেখানে প্রায় ৪০০ পরিবার ব্রহ্মপুত্রের পলিতে বিভিন্ন ফসল ফলিয়ে টিকে থাকার লড়াই করছে। এখানকার বাসিন্দাদের মতে, চরের জীবন যেমন আশার আলো দেখায়, তেমনি যেকোনো সময় নদী ভাঙনে সব হারানোর ভয়ও তাড়া করে ফেরে। নদী ভাঙে, চর জাগে, জীবন থেমে থাকে না,’ যোগ করেন তিনি। নজু বলেন, ‘আমি এখনো দিনভর শ্রম দিয়ে ফসল ফলাই।’। কুড়িগ্রামের চিলমারী, উলিপুর, রাজিবপুর ও রৌমারী উপজেলার বিচ্ছিন্ন চরের বাসিন্দারা ঘোড়ার গাড়ি, গরুর গাড়ি ব্যবহার করে নিজেদের চেষ্টায় পরিস্থিতি বদলে ফেলেছেন।

উন্নয়ন ও অবকাঠামোর দৃশ্যপট

চরাঞ্চল এখন আর বিচ্ছিন্ন কোনো দ্বীপ নয়। অনেক চরেই বিদ্যুৎ ও সৌর বিদ্যুতের সুবিধা পৌঁছেছে। গড়ে উঠেছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ডেইরি ফার্ম, চিকিৎসাকেন্দ্র এবং ছোট ছোট চালকল। কুড়িগ্রামের চর বেগমগঞ্জ তার একটি উজ্জ্বল উদাহরণ। গবেষক ও নদী বিশেষজ্ঞ ড. তুহিন ওয়াদুদ জানান, চরাঞ্চলের মানুষের জীবন-জীবিকার মানোন্নয়ন এখন সময়ের দাবি। নদী তীরেই হাট-বাজার গড়ে ওঠায় স্থানীয় অর্থনীতিতে চরের পণ্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এতে একদিকে যেমন তাদের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত হচ্ছে, অন্যদিকে রাখছেন অর্থনীতিতে ভূমিকা। উন্নত জাতের ঘাস চাষের মাধ্যমে গড়ে উঠছে ছোট ছোট দুগ্ধ খামার। চরের দুধ ও দুগ্ধজাত পণ্য উপজেলা পর্যায়ের বাজারে সরবরাহ করা হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞ মত ও প্রত্যাশা

পানি উন্নয়ন বোর্ডের উত্তরাঞ্চলীয় প্রধান প্রকৌশলী সরফরাজ বান্দার মতে, কুড়িগ্রাম থেকে পাবনার ঢালারচর পর্যন্ত আট শতাধিক স্থানে চর রয়েছে, যেখানে প্রায় ১৮ থেকে ২০ লাখ মানুষ বসবাস করছেন। তবে স্থানীয় চর উন্নয়ন কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম বেবু মনে করেন, মাঠ পর্যায়ের সঠিক পরিসংখ্যান ও সরকারি তথ্যের মধ্যে ব্যবধান রয়েছে। চরের উন্নয়ন আরও গতিশীল করতে তিনি পৃথক ‘চর মন্ত্রণালয়’ গঠনের প্রস্তাব দিয়েছেন। এদিকে নদী গবেষক ড. তুহিন ওয়াদুদ ও ‘তিস্তা বাঁচাও, নদী বাঁচাও’ সংগ্রাম পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক নজরুল ইসলাম হক্কানী নিয়মিত নদী শাসনের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। তাদের মতে, নদী বাঁচলে তবেই কৃষি, পরিবেশ ও অর্থনীতি সুরক্ষিত থাকবে। অমূল্য রায়ের তথ্যানুযায়ী, চরে পানির স্তর আট থেকে ১০ ফুটের মধ্যে পাওয়া যায়, যা সমতলের ৩৫ থেকে ১০০ ফুটের তুলনায় কৃষিকাজে সেচ দেওয়া সহজ করে তোলে। এই সুবিধা কাজে লাগিয়ে চরের বাসিন্দারা বাদাম, ভুট্টা, মরিচ ও মিষ্টি আলুর মতো ফসলের পাশাপাশি পশুপালনেও সফল হচ্ছেন। মাছ শিকারের পাশাপাশি চরের বাসিন্দারা পেশা হিসেবে বেছে নিচ্ছেন কৃষি ও পশুপালন। তিনি চান, চরেই তার জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত কাটুক। ‘১০ বছর আগে চর ছেড়ে সমতলে বাড়ি করেছিলাম, এক মাসের বেশি থাকতে পারিনি। আঙুল গুনে শৈশব স্মৃতি থেকে এ পর্যন্ত হিসাব করে তিনি জানান, সাতবার তাকে চর বদলাতে হয়েছে। অক্টোবর থেকে জুন পর্যন্ত চর এলাকা ঘুরলে কেবলই চোখে পড়ে ফসলের সবুজ খেত। কৃষির পাশাপাশি পশু পালনেও সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

সর্বশেষ - আন্তর্জাতিক

সর্বোচ্চ পঠিত - আন্তর্জাতিক

আপনার জন্য নির্বাচিত

মহানবী (সা.)-কে নিয়ে মন্তব্যে সৌদিতে শ্রীলঙ্কান যুবকের মৃত্যুদণ্ড

মক্কা-মদিনায় হুমকি এলে বাংলাদেশ পাশে থাকবে: শামা ওবায়েদ

রিয়াদ বিমানবন্দরে হুথি হামলা: ঢাকা থেকে ৫ ফ্লাইট বাতিল

মাইক্রোসফটসহ ৮ প্রতিষ্ঠানের গ্রিন কার্ড আবেদন স্থগিত

বাংলাদেশে প্রযুক্তি ও এআই খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী মার্কিন কোম্পানিগুলো

হরমুজে নতুন কৌশল ইরানের: ব্যাহত হতে পারে তেলের সরবরাহ

নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত সাবেক সেনাকর্মকর্তা জিয়াউল আহসান

দিল্লিতে বিক্ষোভ ও ধরপাকড়: তেলাপোকা আন্দোলনের নেপথ্যে কী?

পাঠ্যবইয়ে স্বাধীনতার ঘোষণায় বড় পরিবর্তন আনছে এনসিটিবি

জে-১ ভিসা: হার্ভার্ড-ইয়েলসহ ৯ বিশ্ববিদ্যালয়ে বড় তদন্ত শুরু