সাভার থেকে দুই বন্ধুর সঙ্গে কক্সবাজার ভ্রমণে গিয়েছিলেন ইশরাত জাহান ইমা। তারা উঠেছিলেন উখিয়ার ইনানী সৈকত সংলগ্ন পাটুয়ারটেকের টুপটুপ রিসোর্টে। শনিবার ভোরে ইমা ও আইরিন জাহান মিম রিসোর্ট থেকে বেরিয়ে সৈকতে হাঁটতে যান। তবে তাদের সঙ্গী নাসরিন আক্তার মুক্তা তখন রিসোর্টেই রয়ে গিয়েছিলেন। সকালে ফেরার পথে তারা রিসোর্টে আগুন জ্বলতে দেখেন। ফেরার সময় দুজন দেখতে পান তিনতলা ওই রিসোর্টে আগুন লেগেছে। ২ বান্ধবীসহ ঘুরতে গিয়েছিলেন, রোববার ফেরার কথা ছিল নিহত মুক্তার। ইমা জানান, তারা ৩ জনই সাভারে থাকেন এবং বেসরকারি সংস্থায় চাকরি করেন। মুক্তার খবরের অপেক্ষায় গতকাল শনিবার সারাদিন দিশেহারা হয়েছিলেন দুজনে।
ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে ইমা জানান, রিসিপশনে পৌঁছানোর পর পাশের রান্নাঘর থেকে আগুনের স্ফুলিঙ্গ বের হতে দেখেন। চট্টগ্রাম / আত্মসমর্পণ করতে গিয়ে কারাগারে বহিষ্কৃত স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা ‘বগা’। কিন্তু পিনটাই খুলতে পারছিলেন না,’ এভাবেই ঘটনার বর্ণনা দিচ্ছিলেন ইমা।
তিনি সিকিউরিটি গার্ডকে দ্রুত সবাইকে বের করে দেওয়ার নির্দেশ দিলেও অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রের পিন খুলতে না পারায় সবাই দিশেহারা হয়ে পড়েন। তিনি একটি অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র নিয়ে ছোটাছুটি করছিলেন। হোটেলের অন্য কর্মচারীরাও অগ্নিনির্বাপক নিয়ে দৌড়াদৌড়ি করছিল।
কাঠের দেয়ালে দ্রুত আগুন ছড়িয়ে পড়ে এবং সিঁড়িটি পুড়ে যাওয়ায় উপরে ও নিচে যাতায়াতের পথ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। মুহূর্তের মধ্যেই রিসিপশনের কাঠের দেওয়ালে আগুন লেগে যায়। চোখের পলকে পুরো সিঁড়িতে আগুন ধরে ওপরে-নিচে ওঠানামার পথ বন্ধ হয়ে যায়,’ যোগ করেন তিনি।
এরপর দুটি বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শুনে তারা সরে যেতে বাধ্য হন এবং পরে পুরো রিসোর্টটি আগুনে ভস্মীভূত হয়ে যায়। ‘আমাদের আর কেউ রইল না, কী নিয়ে বেঁচে থাকব?’।
অগ্নিকাণ্ডের পর থেকে বান্ধবী মুক্তাকে আর খুঁজে পাননি ইমা ও মিম। মুক্তা ঢাকা মহানগর ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ফয়সালের স্ত্রী। তাদের আশঙ্কা, রিসোর্টের প্রধান সিঁড়িটি পুড়ে যাওয়ায় মুক্তা বের হতে পারেননি এবং ভেতরে আটকা পড়ে মারা গেছেন।
শনিবার সকাল সাতটার দিকে মেরিন ড্রাইভ সংলগ্ন এই রিসোর্টে আগুন লাগার পর ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট সকাল সোয়া আটটার দিকে তা নিয়ন্ত্রণে আনে। সেখান থেকে পুড়ে যাওয়া ১০ জনের দেহাবশেষ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে সেগুলো এতটাই দগ্ধ যে ডিএনএ পরীক্ষা ছাড়া পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। পুলিশের ধারণা, মৃতদের মধ্যে এক পরিবারের ছয় সদস্য থাকতে পারেন। এছাড়া মুক্তা ছাড়াও আরও তিনজন নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানা গেছে। পুলিশের সন্দেহ, মৃতদের মধ্যে এক পরিবারের ৬ সদস্য রয়েছেন। শনিবার দুপুরে ফায়ার সার্ভিস ও কর্মীরা রিসোর্ট থেকে পুড়ে যাওয়া ১০টি মরদেহ উদ্ধার করেন। ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট সকাল ৮টা ১৫ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। কক্সবাজারে রিসোর্টে আগুন, মৃত বেড়ে ১০। তবে এখন পর্যন্ত তাদের শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।
ফায়ার সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, ঝুঁকিপূর্ণ বিবেচনায় চার মাস আগেই কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করা হয়েছিল। জুন মাসে পরিদর্শনের পর ১১ তারিখ ভবনটিকে অগ্নিঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে ঘোষণা করে আনুষ্ঠানিক নোটিশ দেওয়া হয়, কারণ রিসোর্টটির কোনো অগ্নিনিরাপত্তা লাইসেন্স ছিল না।
এ ঘটনায় শনিবার পুলিশ মামলা দায়ের করেছে। রিসোর্ট মালিক তানভীর আহমদকে প্রধান আসামি করে চারজনের নামে এই মামলা করা হয়। মামলার অপর আসামি ও রিসোর্ট ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ সুমনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ঘটনার তদন্তের স্বার্থে পুলিশ হতাহত ও নিখোঁজ ব্যক্তিদের তথ্য সংগ্রহ করছে। এদিকে, কম্বোডিয়ায় প্রতারণার ফাঁদে আটকা পড়া ১৮০০ বাংলাদেশির ৩১ অক্টোবরের সময়সীমা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। প্রতিমন্ত্রী ইশরাকের অস্ত্র প্রদর্শনের ঘটনায় তদন্তের নির্দেশ ডিএমপির। কক্সবাজারে অগ্নিকাণ্ড: রিসোর্ট মালিকসহ ৪ জনের নামে মামলা, ব্যবস্থাপক গ্রেপ্তার।














