Monday , 12 October 2026 | [bangla_date]
  1. অন্যান্য
  2. আন্তর্জাতিক
  3. ই-পেপার
  4. খেলা
  5. জনপ্রিয়
  6. জাতীয়
  7. দুর্যোগ
  8. দেশের খবর
  9. বাণিজ্য
  10. বিনোদন
  11. রাজনীতি

চুয়েটে উপাচার্য ভবনে তালা ও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করল

প্রতিবেদক

October 12, 2026 10:14 am

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমের কার্যালয়ে প্রবেশকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। সোমবার সকালে নিয়োগের ২১ দিন পর উপাচার্য ভবনের তালা ভেঙে দপ্তরে প্রবেশ করেন অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম। এ সময় তার সাথে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক কিছু শিক্ষার্থী এবং ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকর্মী ছিলেন। পরে অধ্যাপক আরাফাত রহমান তার কাছে রুটিন দায়িত্ব হস্তান্তর করেন। কিন্তু এই প্রবেশের খবর ছড়িয়ে পড়লে সকাল সাড়ে ৯টা থেকেই শিক্ষার্থীরা উপাচার্য ভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। তারা দুপুর ১২টার মধ্যে উপাচার্যকে ভবন ছেড়ে যাওয়ার আলটিমেটাম দেন। নির্ধারিত সময়ে তিনি ভবন না ছাড়লে শিক্ষার্থীরা ভবনের প্রধান ফটকে পুনরায় তালা ঝুলিয়ে দেন এবং একইসাথে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। দুপুর ১২টার পর থেকেই শিক্ষার্থীরা ‘প্রত্যাখ্যান, প্রত্যাখ্যান, নতুন ভিসি প্রত্যাখ্যান’ এবং বিভিন্ন দাবির সপক্ষে স্লোগান দিতে থাকেন।

ঘটনার সময় ভবনের ভেতরে উপাচার্যের পাশাপাশি ছাত্রদল সভাপতি ওয়াসিফ রাশেদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবু সুফিয়ান আল সাবিত এবং সাংগঠনিক সম্পাদক বিপ্লব হোসাইন আটকা পড়েন। উপাচার্যের প্রবেশের সময় ফুল ও খাবার নিয়ে ভেতরে যাওয়ার চেষ্টা করা ছাত্রদল নেতাদের শিক্ষার্থীরা বাধা দিলে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। এক পর্যায়ে ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক বিপ্লব হোসাইন তন্ময় এবং শিক্ষার্থী সাদ বিন মোস্তফার মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। আন্দোলনরত যন্ত্রকৌশল বিভাগের শিক্ষার্থী মাহিরা তাজরীন বলেন, উপাচার্য তালা ভেঙে ভেতরে ঢুকলেও তারা আলটিমেটাম দিয়েছিলেন যা তিনি মানেননি, তাই তালা দিতে বাধ্য হয়েছেন। উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম জানান, তিনি সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ে আসার পর ছাত্রকল্যাণ অধিদপ্তরের শিক্ষকদের অপেক্ষায় ছিলেন এবং তখন পর্যন্ত কোনো দাপ্তরিক কাজ করেননি।

ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবু সুফিয়ান আল সাবিতের ভাষ্যমতে, তারা উপাচার্যের সাথে একসঙ্গেই ভেতরে প্রবেশ করেছেন। সাংগঠনিক সম্পাদক বিপ্লব হোসাইন দাবি করেন, সরকার যেহেতু অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে দায়িত্ব দিয়েছে, তাই ছাত্রদল তার কার্যক্রমকে সহযোগিতা করছে এবং তাকে কাজের সুযোগ দেওয়া উচিত। তবে শিক্ষার্থীরা তাদের অবস্থান থেকে সরে আসতে নারাজ। চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী মাহিদুর রহমান ওসমানী স্পষ্ট করেছেন যে তারা নতুন উপাচার্যকে মেনে নেননি এবং আন্দোলন চালিয়ে যাবেন। গত ২১ সেপ্টেম্বর অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে সরিয়ে অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে নিয়োগ দেওয়ার পর থেকেই চুয়েটে অস্থিতিশীলতা চলছে। সাবেক উপাচার্যকে পুনর্বহালের দাবিতে শিক্ষার্থীরা ‘সর্বাত্মক শাটডাউন’ কর্মসূচি পালন করছেন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরাও কর্মবিরতিতে রয়েছেন। এই আন্দোলনের কারণে ক্যাম্পাসের একাডেমিক কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। এছাড়া সোমবার বিকেলে চুয়েট অডিটোরিয়ামে শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারী সমিতির সংবাদ সম্মেলনের ঘোষণা রয়েছে।

সর্বশেষ - জনপ্রিয়

সর্বোচ্চ পঠিত - জনপ্রিয়