বিএনপির কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক আনোয়ার হোসেন খোকনের কর্মকাণ্ড ও সাংগঠনিক নেতৃত্ব নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। দলের চেয়ারপারসন তারেক রহমানের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত খোকনের বিরুদ্ধে সংগঠনের প্রবীণ ও ত্যাগী নেতাদের অবমূল্যায়ন করার অভিযোগ উঠেছে। দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকেই তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সাংগঠনিক কার্যক্রমে সক্রিয় থাকলেও, তার কর্মপদ্ধতি নিয়ে শুরু হয়েছে ব্যাপক সমালোচনা। অভিযোগ রয়েছে যে, তিনি অনেক সময় নেতাকর্মীদের সঙ্গে ধমকের সুরে কথা বলেন এবং মতের অমিল হলে কঠোর আচরণ প্রদর্শন করেন। তাদের অভিযোগ, বহু বছর ধরে আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় থাকা সত্ত্বেও প্রবাসী নেতাদের রাজনৈতিক অবদান যথাযথ স্বীকৃতি পাচ্ছে না। তাদের বক্তব্য, যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী নেতাদের মধ্য থেকে কাউকে মনোনয়ন বা সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে দেখা যায়নি, যেখানে যুক্তরাজ্যপ্রবাসী একাধিক নেতা রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান পেয়েছেন। তাদের কেউ তাকে মানেন, আবার অনেকেই মানেন না। তাদের ধারণা, তার প্রতিবেদনের কারণেই যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটি গঠনের বিষয়টি বারবার পিছিয়ে যাচ্ছে। সেই ভিডিও সোস্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে।
ওয়ান-ইলেভেনের সময়কার দুঃসময়ে তৎকালীন চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি ও আন্দোলনের ক্ষেত্রে যে সকল নেতা-কর্মীরা অগ্রণী ভূমিকা রেখেছিলেন, তারা এখন মনে করছেন যে দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে তাদের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অবদান ও ত্যাগের যথাযথ মূল্যায়ন করা হচ্ছে না। যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির একাধিক জ্যেষ্ঠ নেতার ভাষ্য অনুযায়ী, আনোয়ার হোসেন খোকন দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের সাংগঠনিক পরিস্থিতির প্রকৃত চিত্র তুলে ধরছেন না। প্রবীণ নেতারা আক্ষেপ করে বলছেন, খোকনের রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের শুরু হওয়ার অনেক আগে থেকেই তারা বিএনপির রাজনীতির সাথে যুক্ত থাকলেও, বর্তমানে তাদের উপেক্ষা করা হচ্ছে।
সম্প্রতি জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ অধিবেশনকে কেন্দ্র করে নিউইয়র্কে বিএনপির নানা কর্মসূচিতে তার আচরণের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন কর্মীরা। গত ১৯ সেপ্টেম্বর শনিবার নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে মঞ্চে বসা নিয়ে জ্যেষ্ঠ নেতাদের সঙ্গে তার উচ্চবাচ্যের ঘটনা ঘটে। এরপর ২১ সেপ্টেম্বর সোমবার বিকেলে জেএফকে বিমানবন্দরে তারেক রহমানের আগমনে আয়োজিত স্বাগত কর্মসূচিতেও কয়েকজন কর্মীর সঙ্গে তার বাকবিতণ্ডার ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনায় উপস্থিত প্রবীণ নেতাদের মধ্যে গভীর ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তারা মনে করছেন, এই পরিস্থিতি দলের সাংগঠনিক ঐক্যের জন্য ক্ষতিকর।
নেতাকর্মীদের একটি বড় অংশের দাবি, যদি দলের শীর্ষ নেতৃত্বের বর্তমান সফরকালেও যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির নতুন কমিটি নিয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না আসে, তবে খোকনের বিরুদ্ধে প্রকাশ্য বিরোধ আরও তীব্র হতে পারে। অনেকেরই ভাষ্য, কমিটি গঠন না হলে তারা খোকনের নেতৃত্ব মানতে আর প্রস্তুত নন। এই পুরো পরিস্থিতি এবং নেতাকর্মীদের অভিযোগের বিষয়ে আনোয়ার হোসেন খোকনের বক্তব্য জানতে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয় এবং বার্তা পাঠানো হয়, তবে প্রতিবেদনটি লেখা পর্যন্ত তিনি কোনো প্রতিক্রিয়া জানাননি। টেক্সট মেসেজ করে কথা বলার অনুরোধ জানানো হলেও প্রতিবেদন প্রকাশের আগ মুহূর্ত পর্যন্ত তার কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তার তত্ত্বাবধানে নিউইয়র্ক স্টেট বিএনপি, নিউইয়র্ক মহানগর উত্তর ও দক্ষিণসহ আরও কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে কমিটি গঠিত হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির পূর্ণাঙ্গ কমিটি না হওয়ায় নেতা-কর্মীদের একটি অংশের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।
















