Monday , 12 October 2026 | [bangla_date]
  1. অন্যান্য
  2. আন্তর্জাতিক
  3. ই-পেপার
  4. খেলা
  5. জনপ্রিয়
  6. জাতীয়
  7. দুর্যোগ
  8. দেশের খবর
  9. বাণিজ্য
  10. বিনোদন
  11. রাজনীতি

এ বছরের সেরা ইমোজি: কেন শীর্ষে চোখের জল?

প্রতিবেদক

October 12, 2026 5:24 am

বর্তমান ডিজিটাল যুগে আমাদের আবেগ প্রকাশের অন্যতম মাধ্যম হয়ে দাঁড়িয়েছে ইমোজি। গত এক বছরে বিশ্বব্যাপী সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয় ইমোজির তকমা পেয়েছে সেই পরিচিত হলুদ মুখটি, যার দুচোখ থেকে জল গড়াচ্ছে। গুগল ও বিভিন্ন সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, হোয়াটসঅ্যাপের মতো ব্যক্তিগত চ্যাট প্ল্যাটফর্মে এর ব্যবহার ব্যাপক। কেবল শেষ ৭২ ঘণ্টার হিসাব ধরলেই দেখা যায়, এটি অন্তত ১৫ বার ব্যবহার করা হয়েছে। মজার ব্যাপার হলো, আমরা এখন হাসি বা আনন্দের চেয়েও অদ্ভুত সব পরিস্থিতিতে—যেমন কোনো নতুন চাকরি পাওয়ার খবরে কিংবা দুর্ঘটনাবশত কিছু পড়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে—এই কান্নার ইমোজিটি বেশি ব্যবহার করছি। অদ্ভুত কোনো কারণে কারও সঙ্গে দেখা করতে গেছেন। গুগলের পক্ষ থেকে দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চোখের কোণ থেকে জল গড়ানো হলুদ বৃত্তের ইমোজিটি এখন আনুষ্ঠানিকভাবে বিশ্বজুড়ে সবচেয়ে জনপ্রিয় ইমোজির স্বীকৃতি পেয়েছে।

একসময়কার ট্রেন্ডি ইমোজি যেমন ‘কান্না-হাসি’ বা কাত হওয়া মুখগুলো এখন অনেকের কাছেই পুরোনো ফ্যাশনের মতো। বিশেষ করে জেন-জি প্রজন্মের কাছে এগুলো এখন আর আগের মতো আকর্ষণীয় নয়। ৩০ বছরের কম বয়সীদের কাছে পুরোনো এসব ইমোজি পাঠালে তারা উত্তরে হাসিতে মৃত মাথার খুলির প্রতীক পাঠিয়ে দেয়। এমনকি দুটি বিয়ারের গ্লাস, চোখ ঢাকা বানর বা সানগ্লাস পরা হাসিমুখের মতো ইমোজিগুলোও এখন তরুণ প্রজন্মের কাছে কিছুটা সেকেলে হয়ে পড়েছে।

২০২৫-২৬ সালে এসে ইমোজির পছন্দ ও ব্যবহারে বড় ধরনের পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এখন মৌলিকত্ব ও সৃজনশীলতাই মুখ্য। ভাঙা হৃদয়ের বদলে এখন মলিন বা ঝরে পড়া গোলাপ, আর লাইক বাটনের পরিবর্তে জোড়হাতের প্রতীক বেশি ব্যবহৃত হচ্ছে। ২০২১ সালে ৪৮২তম অবস্থানে থাকা মোয়াই স্ট্যাচু ইমোজিটি এখন ৩৩তম অবস্থানে উঠে এসেছে, যা ভাবলেশহীন মুখভঙ্গির বিকল্প হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এছাড়া অ্যাপলের তালিকা অনুযায়ী, মানসিক ক্লান্তি বা কৌতুকপূর্ণ হতাশা বোঝাতে চোখের নিচে কালচে দাগ থাকা মুখের ইমোজিটি বেশ জনপ্রিয়। চলতি বছরের মার্চে যুক্ত হওয়া বিকৃত মুখের ইমোজিটি এখন আতঙ্ক বা অস্বস্তি প্রকাশের অন্যতম হাতিয়ার হয়ে উঠেছে। নতুন কোনো ফ্যাশন ড্রপ বা শিল্পকর্মের মতোই ২০২৫-২৬ সালে এসে ইমোজির মূল আকর্ষণ নির্ভর করে এর মৌলিকত্বের ওপর।

ইমোজির এই বিবর্তন নিয়ে বোর্নমাউথ ইউনিভার্সিটির গবেষকেরা একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন। তাদের গবেষণায় দেখা গেছে, মানুষের আসল মুখের অভিব্যক্তি মস্তিষ্ক যেভাবে প্রক্রিয়াজাত করে, ইমোজির ক্ষেত্রেও স্নায়বিক প্রতিক্রিয়া অনেকটা একই রকম। গবেষক দলের প্রধান ম্যাডেলিন মলি এলি বলছেন, ইমোজি வெறும் ডিজিটাল কৌতুক নয়; এটি অর্থপূর্ণ আবেগময় সংকেত হিসেবে আমাদের মস্তিষ্কে প্রভাব ফেলে। এই প্রভাবের কারণেই হয়তো টিকটকের এক ব্যবহারকারী রসিকতা করে বলেছেন, আমরা কেবল সত্যিকারের কান্নার সময় ছাড়া বাকি সব আবেগেই এই কান্নার ইমোজি ব্যবহার করি। নতুন নতুন প্রতীক যখন প্রতিনিয়ত যোগাযোগের ধরন পাল্টে দিচ্ছে, তখন এই মিশ্র অর্থযুক্ত ইমোজিগুলো আমাদের মস্তিষ্কে বেশ প্রভাব ফেলছে।

২০১৫ সালে অক্সফোর্ড ইংলিশ ডিকশনারি প্রথমবারের মতো ‘কান্না-হাসি’ ইমোজিকে বছরের সেরা শব্দ হিসেবে বেছে নিয়েছিল, যা ডিজিটাল যোগাযোগের ইতিহাসে এক বিশাল মাইলফলক ছিল। বয়স্কদের মধ্যে অবশ্য ইমোজির ব্যবহার এখনো কিছুটা সীমিত। নতুন ধরনের এই অ-মৌখিক যোগাযোগের সঙ্গে মানিয়ে নিতে অনেকে কিছুটা দ্বিধা বোধ করেন, তবে তাদের সহায়তার জন্য ইমোজিপেডিয়ার মতো প্ল্যাটফর্মগুলো কাজ করছে। সংক্ষেপে বলতে গেলে, ইমোজি এখন শুধু প্রতীক নয়, বরং যোগাযোগের নিজস্ব একটি ভাষা হয়ে উঠেছে। আপনি ম্যারাডোনা কিংবা মারাকাসের মতো সৃজনশীল ইমোজি ব্যবহার করে নিজের ভাবনার প্রকাশ ঘটাতে পারেন, যা বর্তমান সময়ের নতুন ট্রেন্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। আপনি কি নিজের বয়স লুকিয়ে তরুণ দেখাতে চান।

সর্বশেষ - আন্তর্জাতিক

সর্বোচ্চ পঠিত - আন্তর্জাতিক

আপনার জন্য নির্বাচিত