দেশের রাজনীতি যখন উত্তপ্ত, ঠিক সেই সময়ে জামায়াতে ইসলামীর ৩৪ জন সংসদ সদস্যসহ ৭১ জনের একটি বিশাল প্রতিনিধি দল দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্য সফরে ব্যস্ত সময় পার করছেন। একদিকে জামায়াত ১১ দলীয় ব্যানারে লংমার্চ কর্মসূচি নিয়ে দেশজুড়ে মাঠ গরম করার চেষ্টা করছে, অন্যদিকে দলের শীর্ষ পর্যায়ের নেতা ও এমপিসহ তাদের পরিবারের সদস্যরা বিদেশ ভ্রমণে রয়েছেন। জানা গেছে, মালয়েশিয়া সফর শেষ করে গত ১৭ সেপ্টেম্বর এই দলটি সিঙ্গাপুরে পৌঁছায় এবং সেখানে একটি সিম্পোজিয়ামে অংশ নেয়। তাদের ওমরা পালনের জন্য সৌদি আরব যাওয়ার কথা রয়েছে এবং সেখান থেকে ১ অক্টোবর দেশে ফেরার পরিকল্পনা রয়েছে। নির্ভরযোগ্য একটি সূত্র জানিয়েছে, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন সফর নয়; বরং ভবিষ্যতে ইউরোপ ও আমেরিকাসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পর্যায়ক্রমে এ ধরনের সফর চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে দলটির।
সমান্তরাল রাজনৈতিক সমীকরণে সরকার পতনের পরিবর্তে বর্তমান সরকারকে চাপে রাখতে চায় নিষিদ্ধ ঘোষিত দল আওয়ামী লীগ। দলের নেতাকর্মীদের একাংশের ভাষ্যমতে, শেখ হাসিনার দেশে ফেরার পথ সুগম করতে আন্দোলনের গতি ক্রমশ বাড়িয়ে সরকারের ওপর রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি করা হবে। এই কৌশল বাস্তবায়নেই তারা কাজ করে যাচ্ছে।
একই সময়ে ঘটে যাওয়া একটি অদ্ভুত ঘটনার কারণে ধর্ম মন্ত্রণালয় ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় নিয়ে বেশ আলোচনা তৈরি হয়েছে। গত ১৭ সেপ্টেম্বর সচিবালয়ে আয়োজিত একটি সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান সৌদি আরবে আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতায় বিজয়ী বাংলাদেশি হাফেজদের পুরস্কার প্রদান করেন। তবে ওই পুরস্কারের প্যাকেটে ইসরায়েলি লেখক ইউভাল নোয়াহ হারারির লেখা ‘নেক্সাস’ বইটি পাওয়া যায়, যা নিয়ে সমালোচনার ঝড় ওঠে। বইটি হাতে পাওয়ার মাত্র তিন দিনের মাথায় তা ফেরত নিয়েছে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, বিভিন্ন ধর্মভিত্তিক সংগঠনের আপত্তি ও সমালোচনার মুখে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশেই এই বইটি ফেরত নেওয়া হয়েছে।
মজার ব্যাপার হলো, ১৭ থেকে ২০ সেপ্টেম্বর—এই তিন দিনের মধ্যে ঘটে যাওয়া ঘটনাবলি যেন কোনো রহস্যময় ম্যাজিকের মতো। একদিকে হাফেজদের সংবর্ধনা, অন্যদিকে বইটি ঘিরে বিতর্ক ও ফেরত দেওয়ার ঘটনাটি যেভাবে দ্রুতগতিতে ঘটেছে, তা জনমনে কৌতূহল সৃষ্টি করেছে। ঘটনাটির সূত্রপাত হয় ১৮ সেপ্টেম্বর, যখন রাজধানীর গুলশানের লেকশোর গ্র্যান্ডে বইটির প্রকাশনা ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সব মিলিয়ে জামায়াতের বিদেশ সফর এবং সরকারি পুরস্কারে ইসরায়েলি বইয়ের অন্তর্ভুক্তি ও পরবর্তী সংশোধন—এই দুটি বিষয় বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নানামুখী আলোচনার জন্ম দিয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সরকার যে দশায় চলছে, তাতে আগামীতে ক্ষমতার চৌহদ্দি নিশ্চিত ভাবছে দল দুটিই। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এর অংশ হিসেবে রাজধানী ঢাকা থেকে শুরু করে পর্যায়ক্রমে জেলা ও জাতীয় পর্যায়ে কর্মসূচি নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এদিকে জামায়াতের সফরকারী দলে এমপিরা ছাড়াও দলের কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতা এবং এমপিদের পরিবারের সদস্যসহ সংখ্যায় তারা ৭১ জন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: কিন্তু জাতীয় সংসদের বিরোধী দলের এত সদস্যের একসঙ্গে এমন সফর রাজনৈতিক অঙ্গনে যেনতেন ঘটনা নয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এ ছাড়া দেশটির বিভিন্ন রাজনৈতিক ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সিঙ্গাপুরে সফর শেষে তারা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আরেক দেশ ফিলিপাইনে পৌঁছান।















