জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকায় হতাহতের ঘটনায় দায়ের করা দুটি আলাদা মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ মোট ৬৩ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেছে পুলিশ। এর মধ্যে নাদিম হত্যাচেষ্টা মামলায় ৩০ জন এবং মো. বাবুল মৃধা নিহতের ঘটনায় অন্য মামলায় ৩৩ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে।
যাত্রাবাড়ী থানায় দায়ের করা নাদিম হত্যাচেষ্টা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই ইব্রাহিম খলিল গত ২৭ জুলাই আদালতে অভিযোগপত্রটি জমা দেন। এই মামলায় শেখ হাসিনার পাশাপাশি সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সাবেক খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম, সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন, সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান, সাবেক ডিবিপ্রধান হারুন অর রশীদ, সাবেক যুগ্ম কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার এবং ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি সাদ্দাম হোসেনসহ আরও অনেককে আসামি করা হয়েছে। এই মামলায় ৬৬ জনকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।
মামলার এজাহারে উল্লেখ রয়েছে, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই রায়েরবাগ বাসস্ট্যান্ড এলাকায় বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে অংশ নেন তোলারাম কলেজের শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান প্রান্ত ও নাদিম। সেখানে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলার সময় প্রান্তের থুতনি দিয়ে গুলি ঢুকে মাথার পেছন দিয়ে বেরিয়ে যায়, এতে তিনি ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান। নাদিমের বাম হাঁটুতে গুলি লাগলেও তিনি চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হন।
অন্য একটি ঘটনায়, রাজমিস্ত্রি মো. বাবুল মৃধা নিহতের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় গত ১৩ আগস্ট যাত্রাবাড়ী থানার এসআই মাহমুদুল হাসান ইরফান আদালতে অভিযোগপত্র দেন। এ মামলায় ৩৯ জনকে অব্যাহতি দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, ১৯ জুলাই দনিয়া ও লাকি কমিউনিটি সেন্টার এলাকায় আন্দোলনে অংশ নেওয়া আবু তালেবকে খুঁজতে বের হয়ে বাবুল মৃধা গুলিবিদ্ধ হন। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং বিজিবি হাসপাতালে চিকিৎসার পর তাকে ২২ আগস্ট সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) স্থানান্তর করা হয়। সেখানে ৫২ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর ৯ সেপ্টেম্বর তিনি মারা যান।
বাবুল মৃধা হত্যা মামলায় আসামি হিসেবে শেখ হাসিনা ছাড়াও সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাছান মাহমুদ, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, ঢাকা দক্ষিণ সিটির সাবেক মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস, স্থানীয় সাবেক সংসদ সদস্য কাজী মনিরুল ইসলাম মনু, পটুয়াখালী-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এস এম শাহজাদা, পিরোজপুর-২ আসনের মহিউদ্দিন মহারাজ, বরিশাল-৪ আসনের পঙ্কজ নাথ এবং বরিশাল সিটির সাবেক মেয়র সাদিক আবদুল্লাহর নাম রয়েছে। এছাড়া তালিকায় আছেন কামরুল হাসান রিপন, হারুনুর রশিদ মুন্না, মিরাজুল ইসলাম মিরাজ এবং সজল কুণ্ডসহ অন্যান্যরা। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: আর এতে সংশ্লিষ্টতা না পাওয়ায় ৬৬ জনকে অব্যাহতি দেয়ার সুপারিশ করেছেন তিনি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: প্রান্তকে উদ্ধার করে যাত্রাবাড়ীর সালমান হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক লিমিটেডে নেয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তখন আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা ও গুলির ঘটনা ঘটে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: শেখ হাসিনা ছাড়াও এ মামলর আসামিদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাছান মাহমুদ, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, ঢাকা। 5, 3.
















