যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগ সংস্থা (আইসিই) এজেন্টদের জন্য বৈদ্যুতিক শক গ্লাভস ব্যবহারের পরিকল্পনা নিয়ে দেশজুড়ে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে। এই বিতর্কিত প্রযুক্তি নিষিদ্ধ করার লক্ষ্যে গত ৩ সেপ্টেম্বর মার্কিন কংগ্রেসে ‘নো শক অ্যাক্ট’ বা ‘শক নিষেধ আইন’ নামে একটি নতুন বিল উত্থাপন করা হয়েছে। পেনসিলভানিয়ার প্রতিনিধি ম্যাডেলিন ডিন এবং ইলিনয়ের প্রতিনিধি ডেলিয়া রামিরেজ যৌথভাবে এই বিলটি উপস্থাপন করেন।
প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যে, যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগ (ডিএইচএস) আইসিই কর্মকর্তাদের জন্য প্রায় ৬ হাজার শক গ্লাভস কেনার পরিকল্পনা করেছে। এই প্রকল্পের জন্য আনুমানিক ১ কোটি ৬৭ লাখ ডলার ব্যয় করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। কেনটাকিভিত্তিক ‘কমপ্লায়েন্ট টেকনোলজিস এলএলসি’র তৈরি ‘সিটিজি-৫ জি.এল.ও.ভি.ই.’ মডেলের এই গ্লাভসগুলো মূলত আইসিইর দুটি প্রধান শাখা—‘হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইনভেস্টিগেশনস’ এবং ‘এনফোর্সমেন্ট অ্যান্ড রিমুভাল অপারেশনস’-এর কর্মকর্তাদের দেওয়ার কথা রয়েছে।
প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানের দাবি, এই গ্লাভসগুলো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও কারা কর্মকর্তাদের জন্য পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এবং প্রতিরোধকারী ব্যক্তিকে শান্ত করার একটি প্রযুক্তি। তবে এই যন্ত্রের কার্যকারিতা ও নিরাপত্তা নিয়ে ব্যাপক উদ্বেগ রয়েছে। গত ৩১ আগস্ট ডেলিয়া রামিরেজসহ ৫০ জন প্রতিনিধি ডিএইচএস সচিব মার্কওয়েন মুলিনকে একটি চিঠি পাঠিয়ে এই প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে কঠোর প্রশ্ন তুলেছেন। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, এই গ্লাভসগুলো প্রায় ৩৮০ ভোল্টের বৈদ্যুতিক শক দিতে সক্ষম, যা নির্যাতনবিরোধী আন্তর্জাতিক নীতিমালার পরিপন্থী হতে পারে।
আইসিই এখনো এই গ্লাভস ব্যবহারের সুনির্দিষ্ট নির্দেশিকা প্রকাশ করেনি। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, গ্রেপ্তার অভিযান, আটককেন্দ্রে তল্লাশি কিংবা কোনো ব্যক্তির সঙ্গে সরাসরি সংঘর্ষের সময় এগুলো ব্যবহারের ঝুঁকি রয়েছে। প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান সতর্ক করে জানিয়েছে যে, সঠিক নিয়ম মেনে ব্যবহার না করলে এই প্রযুক্তির আঘাতে গুরুতর জখম এমনকি মৃত্যুও ঘটতে পারে।
সিনেটেও এই পরিকল্পনার বিরুদ্ধে জোরালো অবস্থান নেওয়া হয়েছে। গত ২৭ আগস্ট নেভাদার সিনেটর ক্যাথরিন কর্টেজ মাস্টোসহ ১৬ জন সিনেটর ট্রাম্প প্রশাসনের কাছে শক গ্লাভস কেনার এই পরিকল্পনা বাতিল করার আহ্বান জানান। সাবেক আইসিই কর্মকর্তা ক্লেয়ার ট্রিকলার-ম্যাকনাল্টি এই প্রযুক্তির কৌশলগত সীমাবদ্ধতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তার মতে, নিয়ন্ত্রিত আটককেন্দ্রে এর ব্যবহারের কিছু যৌক্তিকতা থাকলেও, রাস্তায় গ্রেপ্তার বা সাধারণ মানুষের সঙ্গে আচরণের ক্ষেত্রে এটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।
ডিএইচএসের পক্ষ থেকে অবশ্য দাবি করা হয়েছে যে, মাঠপর্যায়ে কর্মকর্তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং অবৈধ অভিবাসীদের বহিষ্কার প্রক্রিয়া সহজতর করতে তারা নিয়মিত বিভিন্ন সরঞ্জাম পর্যালোচনা করে। সংস্থাটির ভাষ্যমতে, আইসিই যেসব প্রযুক্তি গ্রহণ করে, তা আইন ও নীতিমালা মেনেই বাছাই করা হয়। তবে শক গ্লাভস নিয়ে বিতর্ক শুধু অভিবাসন বিভাগের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই; চলতি বছরের শুরুতে নেব্রাস্কার ওমাহা সরকারি বিদ্যালয়গুলোতেও নিরাপত্তাকর্মীদের জন্য এই যন্ত্র ব্যবহারের উদ্যোগ নিয়ে সমালোচনা হয়েছিল।
বর্তমানে ‘নো শক অ্যাক্ট’ বিলটি প্রতিনিধি পরিষদের বিচারবিষয়ক কমিটিতে পর্যালোচনার জন্য পাঠানো হয়েছে। তবে বিলটি আইনে পরিণত হওয়ার পথে বড় বাধা রয়েছে। বর্তমানে কংগ্রেসের উভয় কক্ষেই রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রণ থাকায়, বিলটি পাস করতে হলে উভয় কক্ষের অনুমোদনের পাশাপাশি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থন প্রয়োজন হবে। ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন বহিষ্কার নীতির প্রেক্ষাপটে আইসিইর এই নতুন প্রযুক্তি ব্যবহারের পরিকল্পনাটি মানবাধিকার সংগঠন ও আইনপ্রণেতাদের মধ্যে বড় ধরনের উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এতে অভিবাসন আইন প্রয়োগের সময় কেন্দ্রীয় সরকারের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের শক গ্লাভস ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: শক গ্লাভস এমন এক ধরনের বিশেষ দস্তানা, যা কারও শরীরে সরাসরি স্পর্শ করিয়ে বৈদ্যুতিক শক দিতে পারে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তবে প্রতিষ্ঠানটি নিজেই সতর্ক করে জানিয়েছে, এই প্রযুক্তি ঝুঁকিমুক্ত নয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তবে শুধু মৌখিকভাবে নির্দেশ না মানার কারণে বা শাস্তি দেওয়ার উদ্দেশ্যে এটি ব্যবহার করা উচিত নয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: শক গ্লাভসের নিরাপত্তা নিয়ে এরই মধ্যে কংগ্রেসে ব্যাপক উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।














