সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদ বুধবার ও বৃহস্পতিবার উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। ইরান সমর্থিত ইয়েমেনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হুতিরা দাবি করেছে, তারা রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। তাসনিম নিউজ এজেন্সির তথ্যমতে, বৃহস্পতিবার এ দাবির পাশাপাশি রাজধানীজুড়ে একাধিক বিস্ফোরণের বিকট শব্দ শোনা গেছে। তবে সৌদি আরব আনুষ্ঠানিকভাবে এই দাবির সত্যতা নিশ্চিত করেনি এবং এখন পর্যন্ত কোনো হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, শহরের বিভিন্ন প্রান্তে বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া গেলে কূটনীতিকদের নিজ নিজ দূতাবাসের ভেতরে নিরাপদে অবস্থান করতে বলা হয়। এছাড়া আন্তর্জাতিক স্কুলগুলোতেও সতর্কতামূলক বাড়তি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তাসনিম নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার (০৮ অক্টোবর) হুতিদের এ দাবির মধ্যেই রিয়াদজুড়ে একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।
এর আগের দিন কিং খালিদ বিমানবন্দরে হুতিদের ড্রোন হামলায় একজন নিহত ও আটজন আহত হয়েছিলেন। একই দিনে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় আবহা বিমানবন্দরে আরেক হামলায় দুজন নিহত ও ২৮ জন আহত হওয়ার ঘটনা ঘটে। নিহতদের মধ্যে মরক্কোর একজন এবং আলজেরিয়ার একজন নাগরিক রয়েছেন। এ ধরনের হামলার কারণে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো বিমান চলাচলে মারাত্মক বিঘ্ন ঘটেছে। সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুরকি আল-মালকি জানিয়েছেন, রিয়াদের উত্তরাঞ্চলে একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা হয়েছে। পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে ইয়েমেনের রাজধানী সানায় ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের একটি প্ল্যাটফর্ম ধ্বংস করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
সাম্প্রতিক সময়ে সৌদি আরবের তেল স্থাপনা, সামরিক স্থাপনা ও বিমানবন্দর লক্ষ্য করে হুতিরা দফায় দফায় হামলার দাবি করে আসছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় সৌদি নেতৃত্বাধীন বাহিনী ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূল ও বাব আল-মান্দেব প্রণালির নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধারে জোরদার অভিযান পরিচালনা করছে। বৈশ্বিক বাণিজ্যের প্রায় ১২ শতাংশ এই প্রণালি দিয়ে সম্পন্ন হয়। ওয়াশিংটনভিত্তিক ইনস্টিটিউট ফর দ্য স্টাডি অব ওয়ারের বিশ্লেষণে উঠে এসেছে, সৌদি অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টি ও অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত করতেই হুতিরা এসব হামলা চালাচ্ছে। এদিকে জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, গত জুলাই থেকে ইয়েমেনে সংঘাত তীব্র আকার ধারণ করায় দুই লাখেরও বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতায় ইয়েমেন বর্তমানে অন্যতম সংঘাতময় কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।

















