বাংলাদেশ যুব অধিকার পরিষদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সানি সানোয়ারকে সংগঠনের সকল দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি প্রদান করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার দলটির উপ-দপ্তর সম্পাদক নাইম হোসেন শান্ত স্বাক্ষরিত এক সাংগঠনিক আদেশে এই সিদ্ধান্তের বিষয়টি জানানো হয়। আদেশে উল্লেখ করা হয়, সানি সানোয়ারের বিরুদ্ধে গুরুতর সাংগঠনিক শৃঙ্খলা পরিপন্থী কর্মকাণ্ড এবং সংগঠনের নীতিবিরোধী কার্যকলাপে জড়িত থাকার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেছে। সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি নাদিম হাসান ও সাধারণ সম্পাদক মুনতাজুল ইসলামের নির্দেশে এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
এই বহিষ্কারের ঠিক আগেই রাজধানীর মতিঝিলের বাংলার বাণী ভবন ঘিরে সৃষ্ট বিতর্ক নিয়ে একটি গণমাধ্যম প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ওই প্রতিবেদনে ভবন দখলের নেপথ্যে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ও গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরের সংশ্লিষ্টতা এবং সেখানে সানি সানোয়ারের ভূমিকার কথা উঠে আসে। প্রতিবেদনটি প্রকাশের পরপরই দলের পক্ষ থেকে এই বহিষ্কারের আদেশ আসে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৫ই আগস্টের রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর থেকেই মতিঝিলের বাংলার বাণী ভবনটি নিয়ে বিভিন্ন পক্ষ দখলদারিত্বের চেষ্টা চালায়। ভবনটির অধিকাংশ অংশ এখন গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। সেখানে একটি বেসরকারি ব্যাংকের কার্যক্রম পরিচালিত অংশটুকু বাদে প্রায় পুরোটাই দখলদারদের কবজায় রয়েছে। এর আগে ৫ই আগস্টের পর বিক্ষুব্ধ জনতা ভবনটিতে হামলা করেছিল এবং পরবর্তী সময়ে কিছু বিএনপি নেতাকর্মীও ভবনটি দখলের চেষ্টা চালিয়ে ব্যর্থ হন।
স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, সারোয়ার হোসেন সানী—যিনি নিজেকে নুরুল হক নুরের আত্মীয় হিসেবে পরিচয় দেন—তিনিই মূলত ভবনটির নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছেন। গণঅধিকার পরিষদের ব্যানারে পরিচালিত এসব কর্মকাণ্ডের নেপথ্যে দলীয় সভাপতি নুরুল হক নুরের নির্দেশ রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। বিশেষ করে ভবনের দু’টি ফ্লোর তালা মেরে রাখা এবং ভবনের পেছনের অংশে একটি রেস্টুরেন্ট খোলার বিষয়টিও ওই প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। এই রেস্টুরেন্টের মালিকানায় গণঅধিকার পরিষদের সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তিদের নামও এসেছে। তবে সাংগঠনিকভাবে সানি সানোয়ারকে সরিয়ে দেওয়ার বিষয়টি এখন রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
















