Wednesday , 23 September 2026 | [bangla_date]
  1. অপরাধ
  2. আন্তর্জাতিক
  3. খেলা
  4. জনপ্রিয়
  5. জাতীয়
  6. দুর্যোগ
  7. দেশের খবর
  8. বাণিজ্য
  9. বিনোদন
  10. রাজধানী
  11. রাজনীতি

মানবাধিকার সংস্কারে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের অভিযোগ হিউম্যান রাইটস ওয়াচের

প্রতিবেদক

September 23, 2026 6:45 am

মানবাধিকার ও নিরাপত্তা খাতের সংস্কার নিয়ে সরকার তাদের পূর্বের প্রতিশ্রুতি থেকে সরে এসেছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)। সংস্থাটির পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাসে জাতীয় সংসদে পাস হওয়া তিনটি নতুন আইন বাংলাদেশে মানবাধিকার সুরক্ষার পথকে সংকুচিত করেছে। মূলত ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করা অন্তর্বর্তী সরকারের সময় নিরাপত্তা ও বিচারিক জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে যেসব রক্ষাকবচ তৈরি করা হয়েছিল, তা বর্তমান সরকারের নতুন আইনের মাধ্যমে তুলে নেওয়া হয়েছে। এতে অতীতে বারবার ঘটা গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের মতো ভয়াবহ ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটার শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের স্বাধীনতা ও তদন্ত ক্ষমতা খর্ব করার পদক্ষেপ নিয়েছে। সংস্থাটি জানায়, ২০০৯ সালে কমিশন গঠিত হলেও এর কোনো স্বাধীন ক্ষমতা ছিল না। অন্তর্বর্তী সরকার অধ্যাদেশের মাধ্যমে কমিশনকে তদন্তের ক্ষমতা, স্বাধীন নিয়োগ প্রক্রিয়া ও আর্থিক স্বাধীনতা দিয়েছিল। কিন্তু নতুন আইনে কমিশনের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় সরকারের নিয়ন্ত্রণ ফিরিয়ে আনা হয়েছে। এখন কমিশন কোনো নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে অভিযোগ পেলে সরাসরি তদন্ত না করে শুধু প্রতিবেদন তলব করতে পারে। সংশ্লিষ্ট বাহিনী সাড়া না দিলে বা সন্তোষজনক ব্যাখ্যা না দিলে কেবল তখন কমিশন নিজস্ব অনুসন্ধান শুরুর সুযোগ পাবে, যা আগে অধ্যাদেশের মাধ্যমে অনেক বেশি শক্তিশালী ছিল।

গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার সংক্রান্ত নতুন আইনটিও অন্তর্বর্তীকালীন সংস্কারের চেতনার সাথে সাংঘর্ষিক। আগের অধ্যাদেশে কমিশনকে গুমের তদন্ত ও গোপন বন্দিশালা পরিদর্শনের পূর্ণ ক্ষমতা দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু নতুন আইনে সেই ক্ষমতা কেড়ে নিয়ে অভিযুক্ত নিরাপত্তা সংস্থা ছাড়া অন্য কোনো সংস্থাকে দিয়ে তদন্তের বিধান রাখা হয়েছে। এছাড়া কমান্ড রেসপনসিবিলিটি বা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার দায়বদ্ধতার ক্ষেত্রেও আন্তর্জাতিক মানদণ্ড শিথিল করা হয়েছে। রোম সংবিধির সেই কঠোর মানদণ্ড বদলে নতুন আইনে কমান্ডিং অফিসারকে দায়ী করার জন্য সরাসরি নির্দেশের অকাট্য প্রমাণ উপস্থাপনের বাধ্যবাধকতা জুড়ে দেওয়া হয়েছে।

বিতর্কিত র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) বিলুপ্তির দীর্ঘদিনের দাবি থাকলেও নতুন আইনের মাধ্যমে কেবল এর নাম পরিবর্তন করে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) করা হয়েছে। গত ১৬ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যক্রম শুরু করা এই বাহিনীর লোগো ও গঠন আগের মতোই রাখা হয়েছে। বাহিনীর সাবেক সাত শীর্ষ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে রয়েছে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এবং গুমের অভিযোগে অনেকের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচার চলছে। অথচ এসআরবি বাহিনীতে পুরোনো ব্যাটালিয়নের সব সদস্য, ক্ষমতা ও নথিপত্র স্থানান্তর করা হয়েছে। গত মে মাসে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ মন্তব্য করেছিলেন যে নাম পরিবর্তনের ফলে হয়তো যুক্তরাষ্ট্র তাদের নিষেধাজ্ঞা পুনর্বিবেচনা করতে পারে, যা বাস্তবে মানবাধিকারের চেয়ে কৌশলগত সমাধানের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে।

এইচআরডব্লিউ-এর এশিয়া অঞ্চলের পরিচালক এলাইন পিয়ারসন বলেন, যে সরকার পরিবর্তনের জন্য বিক্ষোভকারীরা জীবন বাজি রেখেছিল, তারা সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় এলেও এখন উল্টো পথে হাঁটছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, অতীতের নিপীড়নের পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে নিরাপত্তা খাতে বাস্তবমুখী সংস্কার এবং ক্ষমতার অপব্যবহার তদন্তে একটি স্বাধীন মানবাধিকার সংস্থার প্রকৃত কর্তৃত্ব প্রয়োজন। অথচ বর্তমান সরকার নতুন আইনের মাধ্যমে নিরাপত্তা বাহিনীকে জবাবদিহিতা থেকে আড়াল করার পথ প্রশস্ত করেছে।

বর্তমান সরকারের নীতিমালার সমালোচনা করে সংস্থাটি জানায়, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে আটকের সংস্কৃতি এখনো বিদ্যমান। যদিও ব্যাপক মানবাধিকার লঙ্ঘনের মাত্রা কিছুটা কমেছে, কিন্তু নিরাপত্তার নামে সামরিক কর্মকর্তাদের বেসামরিক আইন প্রয়োগে মাঠে নিয়োগের বিষয়টি শঙ্কা জাগাচ্ছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও বৃটেনসহ আন্তর্জাতিক অংশীদারদের প্রতি এইচআরডব্লিউ-এর আহ্বান, তারা যেন বাংলাদেশের নতুন সরকারের মানবাধিকার নীতি নিয়ে জোরালো উদ্বেগের কথা জানান। সংস্থাটি দাবি করছে, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা, স্বাধীন বাহ্যিক নজরদারি এবং গুমের মতো অপরাধের বিচার নিশ্চিত করতে সরকারকে চাপে রাখা জরুরি, অন্যথায় বাংলাদেশ মানবাধিকার পরিস্থিতির পুরোনো অন্ধকার অধ্যায়েই ফিরে যাবে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: উপরন্তু নিয়মিত পুলিশের ক্ষেত্রে যেটুকু সুরক্ষামূলক বিধান প্রযোজ্য, এই বাহিনীর ক্ষেত্রে তাও রাখা হয়নি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সংস্থাটি আরও উল্লেখ করে, ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো ব্যাপক মানবাধিকার লঙ্ঘন করেছে, যার মধ্যে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, জোরপূর্। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: গত ৬ সেপ্টেম্বর বিরোধী আইনপ্রণেতাদের ওয়াকআউটের মধ্য দিয়ে সংসদে পাস হওয়া নতুন আইনে নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ সরাসরি তদন্তের ক্ষমতা মানবাধিকার কমিশনকে দেয়া হয়নি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বর্তমানে হত্যাকাণ্ড ও গুমের ঘটনা উল্লেখযোগ্য হারে কমলেও আগের সরকারের মতোই তারেক রহমান সরকারও শত শত রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে নির্বিচারে আটকে রেখেছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তৎকালীন আইনে সরকার বা সরকার-ঘনিষ্ঠদের প্রাধান্য থাকা একটি কমিটির মাধ্যমে কমিশনারদের বাছাই করা হতো। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: প্রথমবারের মতো নির্যাতনবিরোধী আন্তর্জাতিক সনদের প্রটোকল অনুযায়ী গোপন বন্দিশালা বা আটককেন্দ্রগুলো পরিদর্শন ও পর্যবেক্ষণের লক্ষ্যে একটি জাতীয় প্রতিরোধ ব্যবস্থা গঠন করা হয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তবে ফেব্রুয়ারিতে নতুন সরকার নির্বাচিত হওয়ার পর এই অধ্যাদেশটি সংসদে অনুমোদন করার প্রয়োজন ছিল, অন্যথায় তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যেত।

সর্বশেষ - অপরাধ

আপনার জন্য নির্বাচিত

নিরাপত্তার স্বার্থে সিলিন্ডারবাহী লরিতে গ্যাস দেবে না আশুলিয়ার স্টেশনগুলো

পাকিস্তানের কোহাট পুলিশ লাইনে বড় বিস্ফোরণ, হতাহত বহু

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে যাত্রাবাড়ীর দুই ঘটনায় শেখ হাসিনাসহ ৬৩ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র

কাতার ও উজবেকিস্তানের মধ্যে পাঁচ বছর মেয়াদী ঐতিহাসিক সাংস্কৃতিক সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষর

ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযানে দেশবাসীর সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী

কুয়ালালামপুরে বড় অভিযান: ৩৬৪ বাংলাদেশিসহ ৪৭২ অভিবাসী আটক

গুচ্ছ ভর্তি: নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তর্ভুক্তি ও পবিপ্রবি উপাচার্যের নেতৃত্বে প্রস্তুতি

নারীর নিরাপত্তা ও সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করাই সরকারের লক্ষ্য: রুহুল কবির রিজভী

নাটোর: সিসিটিভি ক্যামেরা ও কবুতরের ঘরে থেকেও শেষরক্ষা হলো

ধানমন্ডিতে এপেক্সের শো-রুমে আগুন, নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে ৫ ইউনিট