Wednesday , 9 September 2026 | [bangla_date]
  1. অপরাধ
  2. আন্তর্জাতিক
  3. খেলা
  4. জনপ্রিয়
  5. জাতীয়
  6. দুর্যোগ
  7. দেশের খবর
  8. বাণিজ্য
  9. বিনোদন
  10. রাজধানী
  11. রাজনীতি

বিএনপি সরকার ক্ষমতায় থাকাকালে পদোন্নতি ও টাকা নেওয়ার অভিযোগ ভিত্তিহীন: আসিফ মাহমুদ

প্রতিবেদক

September 9, 2026 8:35 am

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র ও সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া অভিযোগ করেছেন যে, দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে বিরোধী পক্ষকে হয়রানি করা হচ্ছে। রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি দাবি করেন, তার বিরুদ্ধে দুদকে দায়ের করা অভিযোগগুলোর সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই এবং এগুলো সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। ‘অভিযোগ বনাম বাস্তবতা: এনসিপি মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়ার বিরুদ্ধে দুদকে দায়েরকৃত অভিযোগের প্রকৃত তথ্য ও ঘটনাপ্রবাহ’ শীর্ষক এই সম্মেলনে তিনি প্রশাসনিক নথিপত্র ও সময়কাল তুলে ধরে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেন।

আসিফ মাহমুদ বলেন, তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা থাকাকালে মন্ত্রণালয়ের পদায়ন ও বদলি নিয়ে যে অভিযোগ তোলা হয়েছে, তা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মিথ্যাচার। একটি অভিযোগে ৩৮ জন উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার চলতি দায়িত্ব বাতিল করে অর্থ নেওয়ার কথা বলা হলেও, বাস্তবে ১১২ জনের দায়িত্ব বাতিল করা হয়েছিল। তিনি জানান, ২০২১ সালের ২৫ নভেম্বর ১১২ জনকে চলতি দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল এবং প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালের রায়ের প্রেক্ষিতেই ২০২৫ সালের ৯ ডিসেম্বর মন্ত্রণালয় সেই দায়িত্ব বাতিল করে। এটি আদালতের রায় বাস্তবায়নের একটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত ছিল, কোনো ব্যক্তিগত উদ্যোগ নয়।

অন্য একটি অভিযোগে ১৫০ জন সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার পদোন্নতির বিনিময়ে প্রায় ২ কোটি টাকা নেওয়ার চেষ্টার কথা বলা হয়েছে। আসিফ মাহমুদ এই অভিযোগের অসারতা প্রমাণে সময়কাল উল্লেখ করে বলেন, অভিযোগটি ২০২৬ সালের ২৬ এপ্রিল করা হলেও পদোন্নতির আদেশ হয় ১১ মে। অথচ তিনি ২০২৫ সালের ১০ ডিসেম্বর উপদেষ্টার পদ থেকে পদত্যাগ করেন। এরপর ২০২৬ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বিএনপি সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করে। তিনি প্রশ্ন রাখেন, ‘বিএনপি সরকার ক্ষমতায় বসে থাকা অবস্থায় আমি কীভাবে পদোন্নতি করি এবং টাকা নিই? এটি কীভাবে সম্ভব?’

সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও বলেন, দুদক যদি অভিযোগগুলো সঠিকভাবে যাচাই-বাছাই করত, তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির দায়িত্বে থাকার সময়কাল বিবেচনা করলেই সত্য বেরিয়ে আসত। তার মতে, বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর নতুনভাবে গঠিত দুদক এখন রাজনৈতিকভাবে পরিচালিত হচ্ছে এবং তাকে ভয় দেখানোর উদ্দেশ্যেই এই অনুসন্ধান শুরু হয়েছে। এছাড়া দুদকের মুখপাত্রের বিরুদ্ধেও তিনি অভিযোগ তোলেন। মুখপাত্র প্রথমে সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগের ‘প্রাথমিক সত্যতা’ পাওয়ার কথা জানালেও পরে তা ভুলবশত বলা হয়েছে বলে দাবি করেন, যা তার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছে। এই বক্তব্যের বিষয়ে তিনি আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছেন।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ৮ আগস্ট অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়। আসিফ মাহমুদ শুরুতে শ্রম এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন। ২০২৪ সালের নভেম্বরে তাকে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে তিনি উপদেষ্টার পদ থেকে পদত্যাগ করেন এবং একই বছরের শেষ দিকে আনুষ্ঠানিকভাবে এনসিপিতে যোগ দিয়ে মুখপাত্রের দায়িত্ব পালন শুরু করেন। তিনি দুদকের এই অনুসন্ধানকে ‘মিডিয়া ট্রায়াল’ হিসেবে অভিহিত করে এর তীব্র নিন্দা জানান। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তাঁর বিরুদ্ধে করা অভিযোগের তথ্যসহ ঘটনাপ্রবাহ পর্যালোচনা করলে এর সঙ্গে তাঁর সম্পৃক্ততার কোনো ভিত্তি পাওয়া যায় না। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: আসিফ মাহমুদের প্রশ্ন, ওই পদোন্নতিতে দুর্নীতির অভিযোগ থাকলে তখনকার সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান না করে তাঁর বিরুদ্ধে কেন অনুসন্ধান করা হচ্ছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তাঁকে রাজনৈতিকভাবে ভয় দেখানো ও হয়রানি করার লক্ষ্যেই অনুসন্ধানটি শুরু করা হয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: কিন্তু পরে ওই বক্তব্য প্রকাশ্যে প্রত্যাহার বা সংশোধন করা হয়নি।

সর্বশেষ - অপরাধ

আপনার জন্য নির্বাচিত