কুষ্টিয়া সদর উপজেলার আলামপুর ইউনিয়নের খয়েরপুর গ্রামে সামাজিক আধিপত্য ও পূর্ব বিরোধের জের ধরে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার সকাল সাড়ে ছয়টার দিকে এ ঘটনায় আবদুল হালিম (৬৫) নামের একজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে, যাদের মধ্যে কয়েকজনকে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। নিহত আবদুল হালিম খয়েরপুর গ্রামের বাসিন্দা এবং স্থানীয়ভাবে ইউসুফ আলীর অনুসারী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। সংঘর্ষের পর ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, এলাকায় মসজিদের ব্যাটারি চুরিকে কেন্দ্র করে বেশ কিছুদিন ধরেই আবদুল মান্নান ও ইউসুফ আলীর পক্ষের লোকজনের মধ্যে উত্তেজনা চলছিল। এই বিরোধের জেরে অতীতেও কয়েক দফা পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। শনিবার ভোররাতে স্থানীয় চাপাইগাছি বিলের পাশে দুই পক্ষের লোকজন একত্রিত হলে পরিস্থিতির অবনতি হয়। পরিবারের ভাষ্যমতে, বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় প্রতিপক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আবদুল হালিমের ওপর আক্রমণ চালায়। গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ইকবাল হোসেন এই মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। পথে মান্নানের পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্র ছুড়ে তাঁকে আঘাত করেন বলে স্থানীয় সূত্রের ভাষ্য। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
নিহত আবদুল হালিমের ছেলে হাবিবুর রহমান জানান, কিছুদিন আগে প্রতিপক্ষের হামলায় তাঁদের পক্ষের কয়েকজন গুরুতর আহত হয়েছিলেন। সেই ঘটনার জেরে সৃষ্ট উত্তেজনা সাময়িকভাবে মীমাংসা হলেও সম্প্রতি আলামপুর এলাকায় পুনরায় হুমকির মুখে পড়েন তাঁরা। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে একজনকে আটক করেছে পুলিশ। জেলা পুলিশের মুখপাত্র ও কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) ফয়সাল মাহমুদ জানিয়েছেন, পরিস্থিতি বর্তমানে পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ ও স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়নের (এসআরবি) সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে। এ ঘটনায় যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
















