জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে বৃহস্পতিবার ৩৭ মিনিটের দীর্ঘ এক ভাষণে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু নিউইয়র্কের প্রথম মুসলিম মেয়র জোহরান মামদানিকে কঠোর সমালোচনা ও তীব্র আক্রমণের নিশানা করেছেন। ভাষণে তিনি সরাসরি দাবি করেন, মামদানি দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে নিউইয়র্কের ইহুদি সম্প্রদায় নিজেদের আর নিরাপদ বোধ করছেন না। একই সঙ্গে তিনি গাজায় ইসরাইলি সামরিক অভিযানকে গণহত্যা হিসেবে অভিহিত করার বিষয়টি প্রত্যাখ্যান করে এটিকে এই শতকের সবচেয়ে বড় মিথ্যাচার বলে আখ্যায়িত করেন।
নেতানিয়াহুর এই অভিযোগের কড়া জবাব দিয়েছেন মেয়র মামদানি। তিনি এক বিবৃতিতে স্পষ্ট করেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) গ্রেপ্তারি পরোয়ানা মাথায় নিয়ে নিজের যুদ্ধাপরাধ আড়াল করার কৌশল হিসেবেই নেতানিয়াহু এমন ভিত্তিহীন মিথ্যা ছড়াচ্ছেন। কোনো মিথ্যা দিয়ে যুদ্ধাপরাধের দায় এড়ানো সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি। উল্লেখ্য, নেতানিয়াহুর ভাষণ চলাকালে সেখানে উপস্থিত ছিলেন না মামদানি। এর বদলে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও বার্তায় নিজের বাসভবনে জলপাই গাছ রোপণ এবং গাজার একটি ফিলিস্তিনি পরিবারের সঙ্গে নৈশভোজের দৃশ্য প্রকাশ করে শান্তির বার্তা দিয়েছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও ডেমোক্রেট দলের নেতারা মনে করছেন, ইসরাইলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে নিজের অবস্থান পোক্ত করতে ও আসন্ন নির্বাচনে সুবিধা পেতে মামদানিকে ব্যবহার করছেন নেতানিয়াহু। সমালোচকদের মতে, নিজের অপকর্মের দায় এড়াতে ইহুদিবিদ্বেষকে রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছেন ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী, যা প্রকারান্তরে মার্কিন ইহুদিদের নিরাপত্তাকে আরও বেশি ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তিনি মামদানির বিরুদ্ধে ইহুদিবিদ্বেষ ছড়ানোর অভিযোগ তোলেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: জবাবে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে ফিলিস্তিনিদের ওপর চালানো গণহত্যা ঢাকতে নির্লজ্জ মিথ্যাচারের পাল্টা অভিযোগ তোলেন মেয়র মামদানি।















