আবুধাবিতে আফগানিস্তানের বিপক্ষে টেস্টের তৃতীয় দিনে ইতিহাস গড়লেন হাসান মাহমুদ। বাংলাদেশের প্রথম পেসার হিসেবে টেস্ট ক্রিকেটে হ্যাটট্রিক করার গৌরব অর্জন করেছেন তিনি। ইনিংসের ৮৩তম ওভারের তৃতীয় বল থেকে শুরু করে টানা তিন বলে আফগানিস্তানের ৬, ৭ ও ৮ নম্বর উইকেট তুলে নিয়ে এই কীর্তি গড়েন এই তরুণ পেসার। ৪ উইকেটে ২১১ রান নিয়ে দিন শুরু করা আফগানরা হাসানের বোলিং তোপে মাত্র ২৯ রানের ব্যবধানে শেষ ৬ উইকেট হারিয়ে ২৪০ রানে অলআউট হয়েছে। এর ফলে বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে ১০৬ রানের মূল্যবান লিড পেয়েছে। আবুধাবিতে আজ শুধু হ্যাটট্রিকই নয়, আফগানিস্তানের বিপক্ষে প্রথম ইনিংসে ৫৫ রানে ৫ উইকেট নিয়েছেন হাসান।
হাসানের হ্যাটট্রিকটি ছিল রোমাঞ্চকর। ওভারের তৃতীয় বলে তার ব্যাক অব আ লেংথ ডেলিভারিটি নিচু হয়ে ভেতরে ঢুকে আঘাত করে ইসমত আলমের স্টাম্পে। পরের বলে ব্যাটসম্যান কায়েসের ব্যাটের কানায় লেগে বল স্লিপের দিকে চলে গেলে উইকেটকিপার লিটন দাস ঝাঁপিয়ে পড়ে দারুণ এক ক্যাচ নেন। হ্যাটট্রিকের শেষ উইকেটটির জন্য বাংলাদেশকে নাটকীয় মুহূর্ত পার করতে হয়েছে। এলবিডব্লুর আবেদনে আম্পায়ার সাড়া না দিলেও অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শেষ ৬ সেকেন্ড বাকি থাকতে রিভিউ নেন। প্রযুক্তির সহায়তায় দেখা যায় বল স্টাম্পে আঘাত করছে, সফল হয় রিভিউ। জিয়ার উইকেট পাওয়ার সাথে সাথেই পূর্ণ হয় হাসানের হ্যাটট্রিক। এই ম্যাচে হাসান ৫৫ রান খরচ করে ৫টি উইকেট শিকার করেছেন।
২০০০ সালে টেস্ট ক্রিকেটে যাত্রা শুরু করা বাংলাদেশের ১৬২টি টেস্টের ইতিহাসে এটি তৃতীয় হ্যাটট্রিক। এর আগে ২০০৩ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে অলক কাপালি এবং ২০১৩ সালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সোহাগ গাজী হ্যাটট্রিক করেছিলেন। হাসান বাংলাদেশের প্রথম পেসার হিসেবে এই তালিকায় নাম লেখালেন। এছাড়া প্রায় দেড় শ বছরের দীর্ঘ টেস্ট ইতিহাসে এটি সব মিলিয়ে ৫০তম হ্যাটট্রিক। ২০২৬ সালে এটিই প্রথম এবং এর আগের ৪৯তম হ্যাটট্রিকটি করেছিলেন অস্ট্রেলিয়ার স্কট বোল্যান্ড, গত বছরের জুলাই মাসে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে।
হাসানের এই হ্যাটট্রিকের অনন্য বৈশিষ্ট্য হলো তিনটি উইকেটই ছিল ভিন্ন প্রকৃতির। বোল্ড, ক্যাচ এবং এলবিডব্লু—তিন ধরনের আউটেই হাসান তার নৈপুণ্য দেখিয়েছেন। দ্বিতীয় উইকেটে লিটন দাসের অবদান থাকলেও বাকি দুটিতে একক কৃতিত্ব ছিল হাসানের। দিনের শেষে আফগানদের অল্প রানে গুটিয়ে দিতে পারায় ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ এখন অনেকটাই বাংলাদেশের হাতে। টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে নিজের নাম স্থায়ীভাবে লিখে রাখার দিনটিতে হাসান মাহমুদ প্রমাণ করলেন কেন তিনি বাংলাদেশের পেস বোলিংয়ের ভবিষ্যৎ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন। বাংলাদেশের এগারো ফিল্ডারই এলবিডব্লু চেয়ে জোরেশোরে আওয়াজ তুলেছিলেন।
















