পুঁজিবাজারে প্রতারণার শিকার হওয়া পাঁচ ব্রোকারেজ হাউসের ১৭ হাজার ৯২৫ জন বিনিয়োগকারী তাদের পাওনা অর্থ ফেরত পেতে যাচ্ছেন। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) চেয়ারম্যান মমিনুল ইসলাম মঙ্গলবার রাজধানীর নিকুঞ্জে ডিএসই টাওয়ারে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, ডিএসইর নিজস্ব বিনিয়োগকারী সুরক্ষা তহবিল (আইপিএফ) ব্যবহার করে ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকদের পাওনা পরিশোধ করা হবে।
এই পাঁচটি ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠান হলো মশিউর সিকিউরিটিজ, তামহা সিকিউরিটিজ, ক্রেস্ট সিকিউরিটিজ, বাঙ্কো সিকিউরিটিজ এবং শাহ মোহাম্মদ সগীর অ্যান্ড কোম্পানি লিমিটেড। ডিএসইর তথ্য অনুযায়ী, এসব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে লেনদেন করে বিনিয়োগকারীরা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছিলেন। ইতিপূর্বে আইপিএফ ও সংশ্লিষ্ট ব্রোকারেজ হাউসগুলোর যৌথ উদ্যোগের মাধ্যমে ভুক্তভোগীদের ৩৭ কোটি ৬০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ হিসেবে দেওয়া হয়েছে।
নতুন এই সিদ্ধান্তের আওতায়, প্রতিটি ক্ষতিগ্রস্ত অ্যাকাউন্টের ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত পাওনা আইপিএফ থেকে পরিশোধ করা হবে। এর ফলে মোট ১৭ হাজার ৩৩২ জন বিনিয়োগকারী তাদের পাওনার পুরো অর্থ বা শতভাগ ফেরত পাবেন। এই খাতে মোট ৭২ কোটি টাকা ব্যয় করা হবে। প্রক্রিয়াটির বিষয়ে ডিএসই জানিয়েছে, আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে মশিউর সিকিউরিটিজের ক্ষতিগ্রস্তদের পাওনা প্রদান শুরু হবে। পরবর্তী সময়ে ধাপে ধাপে অন্যান্য চার প্রতিষ্ঠানের গ্রাহকদেরও অর্থ বুঝিয়ে দেওয়া হবে।
ডিএসই চেয়ারম্যান মমিনুল ইসলাম একে পুঁজিবাজারের জন্য একটি মাইলফলক হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, অনেক বিনিয়োগকারী তাদের সারা জীবনের সঞ্চয় বা পেনশনের টাকা হারিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছিলেন। এই পদক্ষেপে বাজারের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা পুনরুদ্ধার হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। ডিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুজহাত আনোয়ার এবং আইপিএফ চেয়ারম্যান নাসরিন বেগম এ সময় উপস্থিত ছিলেন। নাসরিন বেগম বলেন, এটি কোনো অনুদান বা দয়া নয়, বরং আইনি যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে দাবির বিপরীতে সেটেলমেন্ট প্রদান করা হচ্ছে। যেখানে অবিচার থাকে, সেখানে প্রতিকারের ব্যবস্থাও থাকা জরুরি।
বিনিয়োগকারী সুরক্ষা তহবিলের বিষয়ে ডিএসই জানায়, এই তহবিল মূলত বাজারের বিনিয়োগকারীদের সহায়তার জন্য গঠিত। ব্রোকারেজ হাউসগুলো তাদের ট্রেড কমিশনের একটি নির্ধারিত অংশ নিয়মিতভাবে এই তহবিলে জমা করে থাকে।
অন্যদিকে, বাজারের উন্নয়নে নতুন পরিকল্পনা তুলে ধরে মমিনুল ইসলাম জানান, বন্ড লিস্টিং ফি উল্লেখযোগ্য হারে কমিয়ে আনা হয়েছে। তিনি বলেন, ২০২৭ সালের মার্চের মধ্যে যেসব প্রতিষ্ঠান ডিরেক্ট লিস্টিং বা আইপিওর জন্য আবেদন করবে, তাদের লিস্টিং ফি-তে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় দেওয়া হবে। এই সুবিধার মাধ্যমে ২০২৭ সালের মধ্যে সরকারি, বহুজাতিক বা দেশি অন্তত ১০টি শক্তিশালী বা ‘ব্লু চিপ’ কোম্পানিকে বাজারে তালিকাভুক্ত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে ডিএসই। চাকরির আরও তথ্য: এই প্রক্রিয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত ৯৭ শতাংশ বিনিয়োগকারী বা গ্রাহক তাঁদের বিনিয়োগের পুরো টাকা ফেরত পাবেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এখন ডিএসই অবশিষ্ট পাওনা পরিশোধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
















