Friday , 23 October 2026 | [bangla_date]
  1. অন্যান্য
  2. আন্তর্জাতিক
  3. ই-পেপার
  4. খেলা
  5. জনপ্রিয়
  6. জাতীয়
  7. দুর্যোগ
  8. দেশের খবর
  9. বাণিজ্য
  10. বিনোদন
  11. রাজনীতি

৩৬৫ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছালো বৈশ্বিক ঋণ

প্রতিবেদক

October 23, 2026 11:55 am

বিশ্ব অর্থনীতির ওপর ঋণের পাহাড় প্রতিনিয়ত ভারী হচ্ছে। ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্সের (আইআইএফ) হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসেই সারা বিশ্বে সরকারি, বেসরকারি ও ব্যক্তিগত ঋণের পরিমাণ ১০ ট্রিলিয়ন ডলার বৃদ্ধি পেয়েছে। সব মিলিয়ে বর্তমানে বৈশ্বিক ঋণের স্থিতি ৩৬৫ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে। মাথাপিছু হিসাব করলে বিশ্বের প্রতিটি মানুষের কাঁধে প্রায় ৪৪ হাজার ডলারের ঋণ রয়েছে। বিশ্বের প্রধান রিজার্ভ মুদ্রা মার্কিন ডলারে ঋণ নেয়ার সুযোগ যুক্তরাষ্ট্রকে বিশেষ সুবিধা দেয়।

ঋণগ্রস্ত দেশগুলোর তালিকায় তালিকার শীর্ষে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

দেশটিতে সরকারি ঋণের পরিমাণ ৪১.৪ ট্রিলিয়ন ডলার, যা তাদের জিডিপির ১২৭ শতাংশের সমান। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা চীনের সরকারি ঋণ ২২.৫ ট্রিলিয়ন ডলার বা জিডিপির ১০৪ শতাংশ। তৃতীয় স্থানে থাকা জাপানের ঋণের পরিমাণ ৮.৭ ট্রিলিয়ন ডলার, যা তাদের জিডিপির ১৯৯ শতাংশ। এছাড়া যুক্তরাজ্যের ৪.৪ ট্রিলিয়ন ডলার (জিডিপির ১০২ শতাংশ), ফ্রান্সের ৪.২ ট্রিলিয়ন ডলার (জিডিপির ১১৮.৫ শতাংশ), ইতালির ৩.৭ ট্রিলিয়ন ডলার (জিডিপির ১৩৮ শতাংশ) এবং জার্মানির ৩.৫ ট্রিলিয়ন ডলার (জিডিপির ৬৫ শতাংশ) সরকারি ঋণ রয়েছে। এই তালিকায় বাংলাদেশ ৪৫তম অবস্থানে রয়েছে, যেখানে বর্তমানে মোট ঋণের পরিমাণ ২০৪.৯ বিলিয়ন ডলার। প্রায় দেড় দশক আগে ২০১০ সালে বাংলাদেশের ঋণের পরিমাণ ছিল ৪০.৯ বিলিয়ন ডলার। বর্তমানে বাংলাদেশের ঋণ-জিডিপি অনুপাত প্রায় ৪০ শতাংশ, যা অনেক উন্নত দেশের তুলনায় কম। অর্থাৎ দেড় দশকে দেশের ঋণ বেড়েছে প্রায় পাঁচ গুণ। ফ্রান্সের ক্ষেত্রে এই চাপ বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে। ইউরোজোনের বাইরে যুক্তরাজ্য বর্তমানে ফ্রান্সের চেয়ে বেশি সুদে ঋণ নিচ্ছে। ঋণের পরিমাণ বাড়ার সঙ্গে সুদের ব্যয় নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে তার চাপ শেষ পর্যন্ত সরকারি বাজেট থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়তে পারে।

বিপুল এই ঋণের বোঝা পরিশোধ করতে গিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সরকারি ব্যয়ে বড় ধরনের চাপের সৃষ্টি হয়েছে। ঋণের বিপরীতে ক্রমবর্ধমান সুদ পরিশোধের জন্য বড় অঙ্কের অর্থ খরচ করতে হচ্ছে রাষ্ট্রগুলোকে। গত এক বছরে উন্নত অর্থনীতির দেশগুলো সরকারি বন্ডের সুদ বাবদ ৩.৩ ট্রিলিয়ন ডলারেরও বেশি ব্যয় করেছে। তুলনামূলকভাবে, বিশ্বের সামরিক খাতে মোট ব্যয় ৩.১ ট্রিলিয়ন ডলার, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই খাতে ব্যয় ২.৬ ট্রিলিয়ন ডলার এবং পরিচ্ছন্ন জ্বালানি খাতে ২.৩ ট্রিলিয়ন ডলারের চেয়েও এই সুদ পরিশোধের হার অনেক বেশি। ঋণের ক্রমবর্ধমান চাপ ইউরোপের অর্থনীতির পাশাপাশি সরকারগুলোর আর্থিক ব্যবস্থাপনার সক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন তুলছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক বিশ্লেষণে বৈশ্বিক ঋণের আকার, সরকারগুলোর অর্থ সংগ্রহের পদ্ধতি এবং ঋণ পরিশোধের ক্রমবর্ধমান চাপ তুলে ধরা হয়েছে।

ঋণ ও সুদ পরিশোধের চাপে শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং সামাজিক সুরক্ষা ও পেনশনের মতো জনগুরুত্বপূর্ণ খাতে বিনিয়োগ সংকুচিত হয়ে আসছে। ফ্রান্সের উদাহরণ টেনে বলা যায়, দেশটিতে ঋণ গ্রহণের খরচ ২০০২ সালের পর থেকে বর্তমানে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। ইউরোজোনে ফ্রান্সকে ১০ বছর মেয়াদি ঋণের জন্য প্রায় ৫ শতাংশ সুদ দিতে হচ্ছে, যেখানে জার্মানির ঋণের সুদের হার ৩.৪১ শতাংশ। ক্রমবর্ধমান এই আর্থিক চাপের ফলে ফ্রান্স, বেলজিয়াম, ইতালি ও পর্তুগালের মতো দেশে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, আবাসন সংকট এবং মজুরি স্বল্পতার প্রতিবাদে বিক্ষোভ হচ্ছে। কিছু স্থানে এই বিক্ষোভ থেকে অগ্নিসংযোগ ও সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে। ফ্রান্সে ঋণ নেয়ার ব্যয় ২০০২ সালের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। উদাহরণ হিসেবে, কোনো বিনিয়োগকারী ১০০ ইউরো দিয়ে ১০ বছর মেয়াদি একটি সরকারি বন্ড কিনলেন। বন্ডটির বার্ষিক সুদের হার ৫ শতাংশ হলে তিনি প্রতি বছর ৫ ইউরো করে সুদ পাবেন। ১০ বছরে সুদের পরিমাণ হবে মোট ৫০ ইউরো। ফলে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিবহন, অবকাঠামো কিংবা সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে অর্থায়ন বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

সরকার মূলত বন্ড ইস্যুর মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ করে থাকে। বিনিয়োগকারীরা এসব বন্ড কিনে সরকারকে অর্থ জোগান দেয় এবং নির্ধারিত মেয়াদে মূল অর্থসহ সুদ ফেরত পাওয়ার নিশ্চয়তা থাকে। তবে ঋণের পরিমাণ ও সুদ পরিশোধের ব্যয় যখন অর্থনীতির সক্ষমতাকে ছাপিয়ে যায়, তখন তা বাজেটে বড় ধরনের ভারসাম্যহীনতা তৈরি করে। পরিস্থিতি সামাল দিতে অনেক দেশকে কর বাড়ানোর পথে হাঁটতে হচ্ছে অথবা জনকল্যাণমূলক খাতের বরাদ্দ ছাঁটাই করতে হচ্ছে। বৈশ্বিক এই ঋণের চিত্র এটিই প্রমাণ করে যে, ঋণ গ্রহণের চেয়েও তা পরিশোধের সক্ষমতা বজায় রাখা অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য সমানভাবে জরুরি। ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান সাধারণত ব্যাংক থেকে ঋণ নিলেও সরকার অর্থ সংগ্রহের জন্য মূলত বন্ড ইস্যু করে। বিশ্বজুড়ে ঋণের এই চিত্র দেখাচ্ছে, ঋণ নেয়া শুধু অর্থ সংগ্রহের বিষয় নয়; তা পরিশোধের সক্ষমতা ধরে রাখাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

সর্বশেষ - আন্তর্জাতিক