হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালের যাত্রীসেবা বা প্যাসেঞ্জার হ্যান্ডলিং কার্যক্রম পরিচালনার জন্য দ্বিতীয় অপারেটর হিসেবে চুক্তিবদ্ধ হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক এভিয়েশন সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান মেনজিস এভিয়েশন। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা এই দায়িত্ব পেলে কার্যক্রম শুরুর প্রথম বছরেই ১২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করবে। এই বিনিয়োগের মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি এভিয়েশন খাতের আধুনিকায়নে গুরুত্ব দেওয়া হবে।
মেনজিসের পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই বিনিয়োগের হাত ধরে প্রথম বছরেই এক হাজারের বেশি মানুষের সরাসরি কর্মসংস্থান তৈরি হবে। এছাড়া সার্বিক অর্থনীতি ও এভিয়েশন সাপ্লাই চেইনের ওপর ভিত্তি করে আরও সাড়ে চার হাজারের বেশি পরোক্ষ কর্মসংস্থান সৃষ্টির সম্ভাবনা দেখছে কোম্পানিটি। ঢাকায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই মহাপরিকল্পনা তুলে ধরা হয়। এতে বক্তব্য রাখেন মেনজিস এভিয়েশনের মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকা অঞ্চলের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট জন হেন্ডারসন, এশিয়া অঞ্চলের এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট চার্লস উইলি এবং ব্রিটিশ হাইকমিশনের ট্রেড অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট ডিরেক্টর সাকিব এরশাদ।
প্রস্তাবিত এই বিনিয়োগের বড় একটি অংশ ব্যয় করা হবে বাংলাদেশের এভিয়েশন খাতের মানবসম্পদ উন্নয়ন ও কারিগরি সক্ষমতা বৃদ্ধিতে। এর অংশ হিসেবে ঢাকায় একটি ‘মেনজিস ট্রেনিং একাডেমি’ স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির। এখান থেকে আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে, যা বাংলাদেশি কর্মীদের দীর্ঘমেয়াদী ক্যারিয়ার গঠনে সহায়তা করবে। একইসঙ্গে স্থানীয় বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সাথে যৌথভাবে ইন্টার্নশিপ এবং গ্র্যাজুয়েট পাথওয়ে তৈরির মাধ্যমে দক্ষ জনবল গড়ে তোলার লক্ষ্য রয়েছে তাদের।
অপারেটর নির্বাচনের প্রক্রিয়ায় ভূরাজনৈতিক কোনো প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা আছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে ব্রিটিশ হাইকমিশনের ট্রেড অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট ডিরেক্টর সাকিব এরশাদ জানান, তারা এ বিষয়ে অত্যন্ত আশাবাদী। তিনি স্পষ্ট করেন যে, পুরো নির্বাচন প্রক্রিয়াটি কোনো ধরনের রাজনৈতিক বা ভূরাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত থেকে সম্পূর্ণ অবাধ ও সুষ্ঠু প্রতিযোগিতার ভিত্তিতে সম্পন্ন হবে। মেনজিস এভিয়েশন মনে করে, তাদের এই উদ্যোগ যুক্তরাজ্য ও বাংলাদেশের মধ্যকার বিদ্যমান বাণিজ্যিক সম্পর্ক ও বিনিয়োগের পরিবেশকে আরও শক্তিশালী করবে। প্রযুক্তি ও দক্ষতার এই আদান-প্রদান বাংলাদেশের এভিয়েশন শিল্পকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে সহায়ক হবে বলে কোম্পানিটি আশাবাদ ব্যক্ত করেছে। চাকরির আরও তথ্য: প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, এ বিনিয়োগের মাধ্যমে প্রথম বছরেই ১ হাজারের বেশি মানুষের সরাসরি কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: পাশাপাশি সার্বিক অর্থনীতি ও সরবরাহশৃঙ্খলে (সাপ্লাই চেইন) আরও সাড়ে ৪ হাজারের বেশি পরোক্ষ কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে বলে তারা অনুমান করছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: মেনজিস জানায়, এ উদ্যোগের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পর্যায়ের জ্ঞান ও দক্ষতার আদানপ্রদান সহজ হবে।
















