Monday , 14 September 2026 | [bangla_date]
  1. অপরাধ
  2. আন্তর্জাতিক
  3. খেলা
  4. জনপ্রিয়
  5. জাতীয়
  6. দুর্যোগ
  7. দেশের খবর
  8. বাণিজ্য
  9. বিনোদন
  10. রাজধানী
  11. রাজনীতি

মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এড়াতে চীনের সঙ্গে গোপন পণ্য বিনিময় ব্যবস্থা ইরানের

প্রতিবেদক

September 14, 2026 4:21 am

আন্তর্জাতিক আর্থিক ও ব্যাংকিং খাতের সব ধরনের বিধিনিষেধ এড়িয়ে ইরান তাদের জ্বালানি তেল বিক্রি অব্যাহত রেখেছে। এর বদলে তারা চীনের কাছ থেকে শত কোটি ডলার মূল্যের পণ্য সামগ্রী সংগ্রহ করছে। এই বাণিজ্যের মূল ভিত্তি হলো এক ধরনের গোপন বিনিময় ব্যবস্থা, যা তেহরানের বর্তমান অর্থনৈতিক টিকে থাকার অন্যতম বড় অবলম্বন হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিষয়টির সঙ্গে সরাসরি অবগত ইরানের দুইজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ও তিনজন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এই বাণিজ্যপদ্ধতিটি অনেকটা ডিজিটাল কুপন বা শপিং মলের গিফট কার্ডের মতো কাজ করে। যখন ইরান চীনে তেল রপ্তানি করে, তখন দেশটি সরাসরি মার্কিন ডলারে মূল্য গ্রহণ করে না। কারণ, সুইফট বা অন্যান্য আন্তর্জাতিক ব্যাংকিং চ্যানেলে লেনদেন হলে তা যুক্তরাষ্ট্রের নজরে পড়বে এবং তাৎক্ষণিক নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়বে। এর পরিবর্তে, ইরানি তেলের সমমূল্যের অর্থ চীনের নির্দিষ্ট কোনো অ্যাকাউন্টে ‘ক্রেডিট’ হিসেবে জমা হয়। পরবর্তীতে ইরান যখন চীন থেকে বিভিন্ন পণ্য বা সামরিক সরঞ্জাম কিনতে চায়, তখন ওই জমানো ক্রেডিট থেকেই খরচ সমন্বয় করা হয়।

রয়টার্সকে দেওয়া তথ্যানুযায়ী, অন্তত ২০২১ সাল থেকে এই গোপন ব্যবস্থাটি কার্যকর রয়েছে। প্রাথমিক পর্যায়ে এটি মূলত ওষুধ ও কোভিড-১৯ টিকা সংগ্রহের জন্য ব্যবহৃত হলেও, সময়ের সঙ্গে এর পরিধি বেড়েছে। ওয়াশিংটনের চাপ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই বিনিময় ব্যবস্থার গুরুত্ব তেহরানের কাছে অনেক বেড়ে গেছে। গত এক বছরে এই বিশেষ ব্যবস্থার মাধ্যমে ইরান ও চীনের মধ্যে আনুমানিক ২০০ কোটি থেকে ২৫০ কোটি ডলারের লেনদেন সম্পন্ন হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ইরান এই ক্রেডিটের বিনিময়ে চীন থেকে গাড়ি, যোগাযোগ সরঞ্জাম ও বিভিন্ন ধরনের ওষুধ কিনেছে। এমনকি গত এক বছরে অন্তত একবার আকাশ প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম সরবরাহের চুক্তিতেও এই বিনিময় পদ্ধতি ব্যবহারের কথা জানা গেছে। যদিও এসব লেনদেনের সঙ্গে যুক্ত চীনা সরবরাহকারী বা নির্মাতাদের নাম সম্পর্কে বিস্তারিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। স্বাধীনভাবে এই লেনদেনের সত্যতা নিশ্চিত করাও সম্ভব হয়নি।

যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক কঠোর অবস্থানের পরিপ্রেক্ষিতে এই গোপন বাণিজ্য আরও জটিল হয়ে উঠেছে। গত আগস্টে মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট হুশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, যেসব দেশ ইরানের সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে, তাদের সেই সম্পর্ক দ্রুত ছিন্ন করতে হবে। এছাড়া, হরমুজ প্রণালি দিয়ে ইরানি অপরিশোধিত তেল চীনের বাজারে পৌঁছানো ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্র তৎপর রয়েছে। গত সপ্তাহে প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যায়, গত ১৪ জুলাই অবরোধ পুনর্বহাল হওয়ার পর থেকে কোনো ইরানি অপরিশোধিত তেলের জাহাজ হরমুজ প্রণালি পার হয়ে চীনে প্রবেশ করতে পারেনি।

ইরানের ওপর এই মার্কিন চাপ কেবল বর্তমানের নয়, বরং ২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সরে আসার পর থেকেই তা তীব্র হতে থাকে। এর প্রতিক্রিয়ায় তেহরান চুক্তির বিভিন্ন শর্ত মানা বন্ধ করে দেয় এবং ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘ থেকে বেশিরভাগ প্রচলিত অস্ত্র রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহাল করা হয়। ইউরোপীয় দেশগুলো ‘স্ন্যাপব্যাক’ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এসব নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করে। চীন ও ইরান বরাবরই এই নিষেধাজ্ঞাগুলোকে অবৈধ ও আন্তর্জাতিক আইনপরিপন্থী বলে প্রত্যাখ্যান করে আসছে।

বাণিজ্যিক এই লেনদেনগুলো পরিচালনার জন্য দুটি প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা রয়েছে বলে জানা গেছে। এর একটি চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের হয়ে কাজ করে এবং অন্যটি ইরানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে সম্পর্কিত। এই প্রতিষ্ঠানগুলো সরাসরি আমদানিকারকদের জন্য অর্থ সমন্বয় করে। তবে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। মন্ত্রণালয় কেবল জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক আইনের ভিত্তিহীন ও নিরাপত্তা পরিষদের অনুমোদনহীন কোনো নিষেধাজ্ঞাকে চীন স্বীকৃতি দেয় না।

অন্যদিকে, মার্কিন হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা জানান, ট্রাম্প প্রশাসন ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বিভিন্ন অংশীদারের সঙ্গে কাজ করছে যাতে ইরানের পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা পূরণে সহায়ক উপকরণগুলো সরবরাহ বন্ধ করা যায়। তবে চীন-ইরানের এই পণ্য বিনিময় ব্যবস্থা নিয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন তিনি। একই বিষয়ে ইরানের কেন্দ্রীয় ব্যাংক বা চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ও রয়টার্সের কোনো প্রশ্নের উত্তর দেয়নি।

দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ২০২১ সালে ইরান ও চীন ২৫ বছরের একটি কৌশলগত অংশীদারত্ব চুক্তি সই করে। এতে জ্বালানি ও অবকাঠামো খাতের উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। যদিও চুক্তির অনেক বিষয়ই এখনো লোকচক্ষুর আড়ালে রয়েছে। তথ্যানুযায়ী, চুইশিন নামে একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ইরানি তেলের অর্থের বড় একটি অংশ অবকাঠামো প্রকল্পে বিনিয়োগ করা হয়। তবে চীনের কোনো প্রাতিষ্ঠানিক তালিকায় এই নামের প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্ব বা ব্যবসায়িক রেকর্ডের সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া কঠিন।

বিশ্বের বৃহত্তম তেল আমদানিকারক দেশ হিসেবে চীন সব সময়ই কম দামে জ্বালানি পাওয়ার সুযোগ ধরে রাখতে চায়। একই সঙ্গে দেশটির বড় ব্যাংক বা কোম্পানিগুলো যেন আন্তর্জাতিক আর্থিক ব্যবস্থা থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে না পড়ে, সেই সাবধানতাও বজায় রাখছে বেইজিং। সব মিলিয়ে, মার্কিন নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও ইরান ও চীন তাদের এই অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব টিকিয়ে রাখার জন্য নানামুখী কৌশল অবলম্বন করে চলেছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এ বিষয়ে জানেন ইরানের এমন দুজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাসহ আরও তিন ব্যক্তি বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এ তথ্য জানিয়েছেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: আপনি যেমন কার্ডে অর্থ ভরে রেখে পরে শুধুই ওই দোকান থেকে কেনাকাটা করতে পারেন, ইরান ঠিক তেমনি তেল দিয়ে চীনে নিজেদের নামে ‘কুপন বা ক্রেডিট’ জমা করছে এবং সেই ক্রেডিট ভাঙিয়ে চীন থেকেই প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনে দেশে নিয়ে আসছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এর ফলে কোনো ব্যাংক থেকে আন্তর্জাতিক মুদ্রা (ডলার) লেনদেনের দরকার পড়ছে না এবং যুক্তরাষ্ট্রও তাদের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা দিয়ে এ কেনাবেচা সহজে আটকাতে পারছে না। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ইরানের তেল কেনা বা পরিবহনে সহায়তা করা চীনের কিছু ছোট প্রতিষ্ঠানের ওপরও যুক্তরাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তবে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে—এমন কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া থেকে ওয়াশিংটন চীনের ক্ষেত্রে বিরত থেকেছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: চীন ও ইরান পশ্চিমা দেশগুলোর আরোপ করা একতরফা নিষেধাজ্ঞাকে বারবার অবৈধ বলে নিন্দা জানিয়েছে এবং নিজেদের স্বার্থ রক্ষার অঙ্গীকার করেছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তাদের নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘনেরও কোনো ইঙ্গিত নেই।

সর্বশেষ - Uncategorized

আপনার জন্য নির্বাচিত

গোপালপুরে এসএসসিতে কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা

সার সংকট: সরকারি মজুত পর্যাপ্ত হলেও মাঠ পর্যায়ে কৃষকের ভোগান্তি চরমে

ইউক্রেন-পোল্যান্ড সীমান্তে ট্রেনে রুশ ড্রোন হামলা, অল্পের জন্য রক্ষা পেলেন বরিস জনসন

চট্টগ্রামে ফায়ারিং অনুশীলনে প্রাণ হারালেন সেনাসদস্য আবু বকর সিদ্দিক

ডেঙ্গু মোকাবিলায় তিন মাসের বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযানের ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর

শেনজেন ভিসার আদলে জিসিসি গ্র্যান্ড ট্যুরিস্ট ভিসা চালুর পথে উপসাগরীয় দেশগুলো

কাতারে উচ্চশিক্ষা: দোহা ইনস্টিটিউটে মাস্টার্স ও ডক্টরাল বৃত্তির সুযোগ, আবেদনের শেষ সময় ১৫ জানুয়ারি

না ফেরার দেশে মিস অস্ট্রিয়া ২০২৪ লুসিয়া সিসিচ, শোকের ছায়া বিনোদন অঙ্গনে

ময়মনসিংহে যুবকের মৃত্যু: মাদকবিরোধী অবস্থানের জেরে হামলার অভিযোগ পরিবারের

প্রতিরক্ষা উপদেষ্টার সঙ্গে ভারতীয় হাইকমিশনারের বৈঠক: দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার ওপর জোর