বিদেশে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে দূতাবাস বা কনস্যুলেটে যাওয়ার ভোগান্তি কমাতে কার্যকর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। বিশ্বের ৬৩টি দেশে বাংলাদেশ মিশনগুলো নিয়মিতভাবে মোবাইল কনস্যুলার ক্যাম্প পরিচালনা করছে, যার ফলে প্রবাসীরা নিজ আবাসস্থলের কাছাকাছি এলাকা থেকেই সরকারি নানাবিধ সেবা পাচ্ছেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি ড. খলিলুর রহমান সম্প্রতি এই তথ্য জানিয়েছেন।
ড. খলিলুর রহমান বলেন, প্রবাসীদের জীবন সহজতর করতে এবং সরকারি সেবা বিকেন্দ্রীকরণের লক্ষে এই মোবাইল ক্যাম্পগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। যারা মূল শহরের কেন্দ্রস্থল থেকে অনেক দূরে বসবাস করেন, তাদের জন্য এই পরিষেবা আশীর্বাদস্বরূপ। এটি কেবল প্রবাসীদের সময় ও অর্থ সাশ্রয় করছে না, বরং প্রবাসীদের সঙ্গে রাষ্ট্রের সরাসরি যোগাযোগ ও হৃদ্যতাও বহুগুণ বাড়িয়ে দিচ্ছে।
এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে ওয়াশিংটনে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস নিয়মিত বিভিন্ন শহরে ক্যাম্প পরিচালনা করছে। এরই ধারাবাহিকতায় গত ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের ওকলাহোমা সিটিতে এই সেবা প্রদান করা হয়। এর আগে ২০২২ সালের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের পাঁচটি শহরে আয়োজিত মোবাইল কনস্যুলার ক্যাম্পে তিন হাজারের বেশি প্রবাসী আবেদনকারী সেবা গ্রহণ করেছিলেন, যা এ ধরনের উদ্যোগের জনপ্রিয়তারই প্রমাণ দেয়।
মোবাইল কনস্যুলার ক্যাম্পের মাধ্যমে পাসপোর্ট সংক্রান্ত সেবা, নথিপত্র সত্যায়নসহ বিভিন্ন কনস্যুলার সহায়তা খুব সহজেই প্রবাসীদের কাছে পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে। ড. খলিলুর রহমানের মতে, বিশ্বের ৬৩টি দেশে চলমান এই ব্যবস্থা প্রবাসীবান্ধব রাষ্ট্র গঠনের প্রক্রিয়ায় একটি অন্যতম সফল ও কার্যকর পদক্ষেপ। আগামী দিনে এই কার্যক্রমের পরিধি ও সক্ষমতা আরও বৃদ্ধির পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের, যাতে বিশ্বের প্রান্তিক অঞ্চলে থাকা প্রতিটি বাংলাদেশি নাগরিক যথাযথ সরকারি সেবা নিশ্চিত করতে পারেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: পাসপোর্ট, নাগরিকত্ব, জন্মনিবন্ধন, নথি সত্যায়নসহ বিভিন্ন সেবা এখন নির্ধারিত সময়ে পৌঁছে যাচ্ছে প্রবাসীদের দোরগোড়ায়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বাংলাদেশের বিভিন্ন দূতাবাস ও হাইকমিশন দীর্ঘদিন ধরেই নিয়মিতভাবে এসব ক্যাম্পের আয়োজন করে আসছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বিশেষ করে যেসব সিটি বা অঞ্চল বাংলাদেশের কূটনৈতিক মিশন থেকে অনেক দূরে, সেসব এলাকার প্রবাসীদের জন্য এ উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ফলে অনেক ক্ষেত্রে দূতাবাসে যেতে দীর্ঘ ভ্রমণ, কর্মঘণ্টা নষ্ট এবং যাতায়াতের অতিরিক্ত খরচ এড়ানো সম্ভব হচ্ছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: রাজধানী ওয়াশিংটনে বাংলাদেশ দূতাবাস এবং নিউইয়র্কে বাংলাদেশ কনস্যুলেট থাকলেও দূরবর্তী অঙ্গরাজ্যের অনেক প্রবাসীর জন্য এসব স্থানে সরাসরি যাওয়া সময়সাপেক্ষ ও ব্যয়বহুল।
















