প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ২০৩০ সালের মার্কিন আদমশুমারি বা ‘সেনসাস ২০৩০’-এর তথ্য সংগ্রহ ও গণনা পদ্ধতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের একটি প্রস্তাব উত্থাপন করেছে। এই প্রস্তাব অনুযায়ী আদমশুমারিতে অনাগরিকদের বাদ দেওয়ার বিষয়টি আলোচনায় এসেছে, যা নিয়ে ব্যাপক উদ্বেগ প্রকাশ করেছে নিউইয়র্ক ইমিগ্রেশন কোয়ালিশন (এনওয়াইআইসি)। গত ১০ সেপ্টেম্বর সংস্থাটি এক বিবৃতির মাধ্যমে এই উদ্যোগের কঠোর সমালোচনা করেছে।
মার্কিন সংবিধানের ১৪তম সংশোধনীর অধীনে প্রতি ১০ বছর অন্তর আদমশুমারি পরিচালনা করা একটি সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা। এর আগে ২০২০ সালের আদমশুমারিতে নাগরিকত্ব-সংক্রান্ত প্রশ্ন যুক্ত করার একটি উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, যা নিয়ে তখন বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য ও সংগঠনের সঙ্গে কেন্দ্রীয় প্রশাসনের দীর্ঘ আইনি লড়াই হয়। সেই বিতর্কিত বিষয়টি শেষ পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত গড়িয়েছিল। ২০১৯ সালের ‘ডিপার্টমেন্ট অব কমার্স বনাম নিউইয়র্ক’ মামলাতেও দশবার্ষিক আদমশুমারি এবং সংবিধানের এনুমারেশন ক্লজ বা গণনা ধারার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচিত হয়েছিল।
নিউইয়র্ক ইমিগ্রেশন কোয়ালিশনের প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুরাদ আওয়াদেহ মনে করেন, একটি কার্যকর গণতান্ত্রিক কাঠামোর জন্য সঠিক ও পূর্ণাঙ্গ দশবার্ষিক আদমশুমারি অপরিহার্য। তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, ১৪তম সংশোধনীর অধীনে বসবাসকারী ব্যক্তিদের গণনা করা এবং আদমশুমারির মাধ্যমে রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব নির্ধারণের বিষয়টি আগামী দিনে বড় ধরনের আইনি বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হতে পারে। বিশেষ করে নিউইয়র্কের মতো অভিবাসী-অধ্যুষিত অঙ্গরাজ্যগুলোর ওপর এই নতুন প্রস্তাবের সম্ভাব্য নেতিবাচক প্রভাব নিয়ে সংস্থাটি গভীর আশঙ্কা প্রকাশ করেছে।
এনওয়াইআইসির পক্ষ থেকে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের এই বিষয়ে দৃঢ় অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। তাদের মতে, ২০৩০ সালের আদমশুমারিতে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত জনগোষ্ঠীর প্রকৃত ও নির্ভুল চিত্র ফুটে ওঠা জরুরি। তবে প্রস্তাবটি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। ২০৩০ সালের আদমশুমারির চূড়ান্ত নিয়ম ও কাঠামো কেমন হবে, তা এখন পরবর্তী প্রশাসনিক প্রক্রিয়া, জনমত যাচাই এবং সম্ভাব্য আইনি চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার ওপর নির্ভর করছে। সংবিধানসম্মত উপায়ে কীভাবে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে, তা নিয়ে এখন নীতি-নির্ধারণী মহলে চলছে জোর আলোচনা। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: একই সঙ্গে আদমশুমারিতে জাতি ও নৃতাত্ত্বিক পরিচয়-সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহের পদ্ধতি পরিবর্তন বা তা বাদ দেওয়ার প্রস্তাবও রয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ফলে নাগরিকত্ব বা অভিবাসন মর্যাদার ভিত্তিতে নির্দিষ্ট শ্রেণির বাসিন্দাকে বাদ দেওয়ার প্রস্তাব সাংবিধানিক প্রশ্নের জন্ম দিতে পারে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ২০১৯ সালের Department of Commerce v। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: যুক্তরাষ্ট্রে আদমশুমারির তথ্য শুধু জনসংখ্যা গণনার জন্য ব্যবহৃত হয় না। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: কংগ্রেসে অঙ্গরাজ্যগুলোর প্রতিনিধিত্ব নির্ধারণ এবং বিভিন্ন সরকারি কর্মসূচিতে অর্থ বরাদ্দের ক্ষেত্রেও এসব তথ্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এনওয়াইআইসি বলছে, কোনো এলাকার উল্লেখযোগ্যসংখ্যক বাসিন্দাকে গণনার বাইরে রাখা হলে ওই এলাকার প্রকৃত জনসংখ্যার চিত্র বদলে যেতে পারে।














